দুর্যোগকবলিত এলাকায় গিয়ে মাথা ফাটল সাংসদের! উত্তেজনা কমাতে উত্তরবঙ্গ থেকে মুখ্যমন্ত্রী মমতার কড়া বার্তা

উত্তরবঙ্গে ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতির মধ্যেই রাজনৈতিক উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেয়েছে। সোমবার দুর্যোগকবলিত এলাকায় পরিদর্শনে গিয়ে হামলার মুখে পড়লেন বিজেপির দুই শীর্ষ নেতা— মালদহ উত্তরের সাংসদ খগেন মুর্মু এবং শিলিগুড়ির বিধায়ক শঙ্কর ঘোষ। এই ঘটনার পরই দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে উত্তরবঙ্গে পৌঁছলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
হামলার শিকার সাংসদ-বিধায়ক: মাথা ফাটল খগেন মুর্মুর
সোমবার সকালে জলপাইগুড়ি জেলার নাগরাকাটা ও বামনডাঙা এলাকায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শনে যান খগেন মুর্মু ও শঙ্কর ঘোষ। অভিযোগ, সেখানে স্থানীয়দের একাংশের বিক্ষোভের মুখে পড়েন তাঁরা। কয়েকশো মানুষ লাঠি ও জুতো নিয়ে তাঁদের ওপর চড়াও হন বলে অভিযোগ। এমনকি নদী থেকে পাথর তুলে গাড়ি লক্ষ্য করে ছোড়া হয়।
এই হামলায় সাংসদ খগেন মুর্মু গুরুতর আহত হন, তাঁর মাথা ফেটে রক্ত ঝরতে থাকে। বিধায়ক শঙ্কর ঘোষও ধাক্কাধাক্কিতে আহত হন। বর্তমানে দু’জনেই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
উত্তরবঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী: শান্তি ও সংযমের বার্তা
বিজেপি নেতা আক্রান্ত হওয়ার পরই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় উত্তরবঙ্গে পৌঁছন। পরিস্থিতি খতিয়ে দেখার পাশাপাশি তিনি শান্তি ও সংযম বজায় রাখার আহ্বান জানান।
সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “এই কঠিন সময়ে আমাদের একতা ও ধৈর্যই সবচেয়ে বড় শক্তি। যাঁরা বিপর্যয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, তাঁদের কষ্ট আমরা গভীরভাবে অনুভব করছি। সবাইকে শান্ত থাকতে ও গুজবে কান না দিতে অনুরোধ করছি।”
তিনি আরও বলেন, “সরকার ও প্রশাসন মানুষের পাশে রয়েছে। আমরা সবাই মিলে এই দুর্যোগ কাটিয়ে উঠব। এই সময় কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা একেবারেই কাম্য নয়।”
রাজনৈতিক মহলের মতে, মুখ্যমন্ত্রী সরাসরি এই হামলার উল্লেখ না করলেও, বিজেপি নেতা-কর্মীদের ওপর হামলার পরিপ্রেক্ষিতেই তিনি রাজ্যে রাজনৈতিক অস্থিরতা ঠেকাতে এই সংযম ও শান্তির বার্তা দিয়েছেন। প্রশাসনিক সূত্রে খবর, দুর্যোগ সামাল দেওয়ার পাশাপাশি রাজ্য সরকার এই রাজনৈতিক অস্থিরতা ঠেকাতেও সতর্ক নজর রাখছে।