দুর্নীতির অভিযোগে ফের শিরোনামে রাজ্যের মন্ত্রী! চন্দ্রনাথ সিনহার বাড়ি থেকে উদ্ধার ৪১ লক্ষ টাকা, পুজো কি কাটবে কারাগারেই?

শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় এবার রাজ্যের কারা ও ক্ষুদ্র, ছোট উদ্যোগ দফতরের মন্ত্রী চন্দ্রনাথ সিনহাকে হেফাজতে নেওয়ার জন্য আদালতের কাছে আবেদন জানাল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। মঙ্গলবার ব্যাঙ্কশালের বিশেষ আদালত এই বিষয়ে রায় ঘোষণা করবে।
আদালতে ইডির আইনজীবী জানান, গত বছর চন্দ্রনাথ সিনহার বাড়ি থেকে নগদ ৪১ লক্ষ টাকা ও কিছু গুরুত্বপূর্ণ নথি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছিল। সেই সময় টাকার উৎস সম্পর্কে মন্ত্রী দাবি করেছিলেন, এই টাকা চাষ ও ফলন থেকে এসেছে। কিন্তু বয়ান রেকর্ড করার সময় তিনি তার দাবির স্বপক্ষে কোনো প্রয়োজনীয় নথি জমা দিতে পারেননি। এমনকি আয়কর জমা দেওয়ার সময়ও একাধিক টাকার উৎস গোপন রেখেছিলেন বলে ইডির অভিযোগ।
ইডি আরও জানায়, তারা তদন্তে কোনো ঘাটতি রাখতে চায়নি, তাই আরও কিছু প্রমাণ জোগাড় করছিল। সম্প্রতি মুরারইয়ের ভূমি আধিকারিকের দফতর থেকে কিছু নথি সংগ্রহ করা হয়েছে, যা মন্ত্রীর আয়ের সঙ্গে তার কৃষিজমির সঙ্গতি দেখাচ্ছে না। ইডি দাবি করেছে, মন্ত্রী প্রভাব খাটিয়ে নথি দিতে গড়িমসি করেছেন। এখন এই সব তথ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে তাকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা জরুরি।
শুনানি চলাকালীন আদালত ইডির কাছে জানতে চায়, বয়ান নথিবদ্ধ করার ১১ মাস পর কেন চার্জশিট দেওয়া হলো? জবাবে ইডির আইনজীবী জানান, এই সময়ের মধ্যে তারা পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে চার্জ গঠনের কাজে ব্যস্ত ছিলেন।
আদালত থেকে বেরোনোর সময় মন্ত্রী চন্দ্রনাথ সিনহা সাংবাদিকদের বলেন, “গতকাল থেকে অনেক কথা বলা হচ্ছে। আপনারা সকলেই আদালতের ভেতরে ছিলেন এবং সবকিছু দেখেছেন। বিচারব্যবস্থার প্রতি আমার পূর্ণ আস্থা রয়েছে।”
অন্যদিকে, চন্দ্রনাথ সিনহার আইনজীবীরা মন্ত্রীকে হেফাজতে নেওয়ার বিরোধিতা করে বলেন, তিনি তদন্তে সবরকম সহযোগিতা করতে প্রস্তুত। আদালত নির্দেশ দিলে তিনি ইডির কাছে যাবেন। এখন সবার নজর মঙ্গলবারের রায়ের দিকে। এই রায়ের ওপরই নির্ভর করছে, মন্ত্রীকে পুজো এবার জেলে কাটাতে হবে কিনা।