দুর্গা পুজোতেই বাংলার ট্যুরিজমে বিরাট চমক! চা বাগানে বিলাসবহুল থাকা ও হোম-স্টে নিয়ে বড় ঘোষণা সরকারের

বাঙালির শ্রেষ্ঠ উৎসব দুর্গাপূজা থেকেই বাংলার পর্যটন মানচিত্রে আমূল পরিবর্তন আসতে চলেছে। রাজ্যকে আন্তর্জাতিক মানের পর্যটন গন্তব্য হিসেবে গড়ে তুলতে একগুচ্ছ অভিনব পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে পর্যটন দফতর। দফতরের সমস্ত কর্মী ও আধিকারিকদের জন্য বাঙালি ঐতিহ্যবাহী পোশাকের ড্রেস কোড নির্ধারণ থেকে শুরু করে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং ফোনকলে বিশেষ রিংটোন চালুর মতো একাধিক আকর্ষণীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। পর্যটকদের উত্তরবঙ্গের চা-বাগানমুখী করতে এবং ঐতিহ্যবাহী বাংলোগুলিতে বিলাসবহুল থাকার ব্যবস্থা করতে চা-কোম্পানিগুলির সঙ্গে বিশেষ চুক্তি করতে চলেছে সরকার। এর ফলে পর্যটকরা চা বাগানের মনোরম পরিবেশে ছুটির মেজাজে দিন কাটানোর সুযোগ পাবেন এবং এর মাধ্যমে চা শ্রমিকদের অর্থনৈতিক উন্নয়নও সাধিত হবে।
পর্যটনমন্ত্রী শঙ্কর ঘোষ জানান, পূর্বতন সরকারের হোম স্টে নীতির সংস্কার ঘটিয়ে রাজ্যকে ‘ওয়ান স্টেট ওয়ান গ্লোবাল ডেস্টিনেশন’ হিসেবে গড়ে তোলার কাজ শুরু হয়েছে। দার্জিলিং, সুন্দরবন এবং অন্যান্য প্রধান পর্যটন কেন্দ্রগুলিকে একত্রিত করে একটি সুসংহত ট্যুরিজম সার্কিট তৈরির জন্য ইতিমধ্যেই ডাবল ইঞ্জিন সরকারের কাছে বিস্তারিত প্রকল্প প্রতিবেদন বা ডিপিআর (DPR) জমা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, ফরাসি কনস্যুলেটের যৌথ উদ্যোগে ৫ কোটি ৭৪ লক্ষ টাকা ব্যয়ে চন্দননগরের ঐতিহাসিক ফরাসি কলোনিকে নতুন রূপ দিয়ে অন্যতম প্রধান আকর্ষণ হিসেবে গড়ে তোলা হচ্ছে।
পুরনো ঐতিহ্যবাহী বাংলোগুলির পাশাপাশি চা-বাগানের অভ্যন্তরে হোম-স্টে তৈরির এই অভিনব ভাবনার প্রধান লক্ষ্য হলো চা-বাগানগুলিকে কেবল উৎপাদনের গন্তব্য না রেখে পর্যটনের অন্যতম প্রধান কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত করা। তবে চা শিল্পের মূল চরিত্র ও পরিবেশ যাতে কোনোভাবেই ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সেদিকে কড়া নজর রেখেই চা-বাগানের ১৫ শতাংশ এলাকা বাণিজ্যিক ও পর্যটন সংক্রান্ত কাজে ব্যবহারের প্রস্তাব অনুমোদন করেছে রাজ্য সরকার।