দুই দশকের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান! বিশ বছর পর প্রাণের শহর কলকাতায় ফিরছেন তসলিমা নাসরিন

প্রায় দুই দশকের দীর্ঘ নির্বাসন দণ্ড। এক সময়ের প্রাণের শহর কলকাতা থেকে তাঁকে বিতাড়িত করা হয়েছিল রাজনৈতিক ও ধর্মীয় চাপের মুখে। সেই তসলিমা নাসরিন অবশেষে দীর্ঘ ২০ বছর পর ফিরছেন নিজের প্রিয় শহরে। রাজ্যের রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের তিন মাসের মধ্যেই নতুন সরকারের উদ্যোগে তসলিমার ফেরার পথ প্রশস্ত হয়েছে, যা বাংলার সামাজিক ও রাজনৈতিক আঙিনায় এক বড় আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

নিজের এই প্রত্যাবর্তন নিয়ে অত্যন্ত আবেগপ্রবণ বাংলাদেশী সাহিত্যিক তসলিমা নাসরিন। তিনি জানান, জীবিত অবস্থায় এই শহরে ফেরার আশা তিনি প্রায় ছেড়েই দিয়েছিলেন। তসলিমা বলেন, “আমি বলব সরকার বদলেছে, সময় বদলেছে, কিন্তু কলকাতায় ফেরার আকাঙ্ক্ষা আমার কখনও বদলায়নি। আগের সরকার যে সিদ্ধান্ত নিতে পারেনি, নতুন সরকার সেই অচলাবস্থা ভেঙেছে। একজন লেখককে রাজনৈতিক ও ধর্মীয় চাপে নির্বাসিত করে রাখা কোনো গণতান্ত্রিক সমাজের জন্য গৌরবের নয়।” তাঁর মতে, এই প্রত্যাবর্তন শুধু ব্যক্তিগত নয়, বরং মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও ধর্মনিরপেক্ষতার জয়।

নিজের বিখ্যাত ‘প্রশ্ন’ কবিতার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, তখন সত্যিই মনে হয়েছিল মৃত্যুর পরই হয়তো কলকাতা আমাকে গ্রহণ করবে। কিন্তু আজ জীবিত অবস্থায় ফিরতে পারার আনন্দ ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। তিনি কলকাতার সাধারণ মানুষকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, এত বছর পরেও তাঁরা আমাকে ভুলে যাননি, আমার ফেরার জন্য অপেক্ষা করেছেন। পাশাপাশি, প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করে ফেরার পথ উন্মুক্ত করায় রাজ্য সরকারকেও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন তিনি।

তসলিমার এই ফেরা নিয়ে সরব হয়েছেন বিজেপি নেতৃত্বও। দলের রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য স্বাগত জানিয়ে বলেন, “তসলিমা নাসরিনকে ফিরিয়ে আনার জন্য আমি রাজ্যসভায় দাবি তুলেছিলাম। বাম আমলে তাঁর বই বাজেয়াপ্ত করা হয়েছিল সত্য চাপা দেওয়ার জন্য। প্রকৃত সত্য যাতে সামনে না আসে, সেই চেষ্টাই করেছিল তৎকালীন সরকার। আজ তিনি ফিরছেন, এটা আমাদেরই দাবি ছিল। তাঁকে আমরা স্বাগত জানাই।”

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তসলিমার এই প্রত্যাবর্তন শুধুমাত্র একজন লেখকের ঘরে ফেরা নয়, এটি একই সঙ্গে বাম আমলের সিদ্ধান্তের বিপরীতে বর্তমান সরকারের এক বড় রাজনৈতিক বার্তা। দীর্ঘ এই নির্বাসনের অবসানে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও সহনশীলতার প্রশ্নে নতুন এক মেরুকরণ তৈরি হলো বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক মহল। কলকাতার সংস্কৃতিমনা মানুষের একাংশও তসলিমার এই প্রত্যাবর্তনে আশার আলো দেখছেন।