দীর্ঘ ৩৫ বছর পর ফের চালু হচ্ছে বিমান! ত্রিপুরার যোগাযোগ ব্যবস্থায় ঐতিহাসিক মোড় আনছে মোদি-মানিক সরকার!

ত্রিপুরা রাজ্যের বিমান যোগাযোগ ব্যবস্থার সার্বিক উন্নয়ন ও পরিকাঠামোকে আরও শক্তিশালী করতে এবার যুগান্তকারী পদক্ষেপ গ্রহণ করল রাজ্য সরকার। দীর্ঘ সাড়ে তিন দশক অর্থাৎ প্রায় ৩৫ বছর বন্ধ থাকার পর ত্রিপুরার ঊনকোটি জেলার ঐতিহাসিক কৈলাশহর বিমানবন্দরে পুনরায় বিমান পরিষেবা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রীয় সরকারের সহযোগিতায় এই প্রকল্পের কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলেছে।
সম্প্রতি সচিবালয়ের কনফারেন্স হলে ‘উড়ান’ (UDAN) প্রকল্পের আওতায় কৈলাশহর বিমানবন্দরের পুনঃউন্নয়ন ও আধুনিকীকরণ সংক্রান্ত এক উচ্চপর্যায়ের পর্যালোচনা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. মানিক সাহা। বৈঠক শেষে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট ভাষায় জানান যে, বর্তমান রাজ্য সরকার ত্রিপুরার যোগাযোগ ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তনে সম্পূর্ণ বদ্ধপরিকর। কৈলাশহর বিমানবন্দরটি সম্পূর্ণভাবে চালু হলে তা কেবল রাজ্যের অভ্যন্তরীণ বিমান যোগাযোগ ব্যবস্থাকেই মজবুত করবে না, বরং কৌশলগতভাবে জাতীয় নিরাপত্তার ক্ষেত্রেও এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
পর্যালোচনা সভায় কৈলাশহরে বিমান পরিষেবা চালুর পাশাপাশি রাজ্যের অভ্যন্তরীণ রাজস্ব বৃদ্ধি এবং অর্থনৈতিক গতিপ্রকৃতির ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি উড়ান প্রকল্পের প্রথম ধাপে અત્યાર পর্যন্ত কী কী অগ্রগতি হয়েছে, তার পুঙ্খানুপুঙ্খ হিসাব খতিয়ে দেখেন। কৈলাশহর বিমানবন্দরে দ্রুত বিমান চলাচলের উপযোগী পরিবেশ তৈরি করতে রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে সব ধরনের প্রশাসনিক সহযোগিতা ও পরিকাঠামোগত সহায়তা প্রদান করা হবে বলে তিনি আশ্বাস দেন। পাশাপাশি, পর্যটকদের সুবিধা আরও সুদৃঢ় করতে জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্র ডম্বুরে দ্রুত একটি নতুন হেলিপ্যাড নির্মাণের কাজের ওপরও বিশেষ জোর দেন মুখ্যমন্ত্রী।
উচ্চপর্যায়ের এই বৈঠকে রাজ্যের পরিবহণমন্ত্রী সুশান্ত চৌধুরী বিমান পরিষেবা চালুর ক্ষেত্রে পরিবহণ দপ্তরের নির্ধারিত করণীয় কাজগুলি অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে সম্পন্ন করার নির্দেশ দেন। বৈঠকে উপস্থিত মুখ্যসচিব জে কে সিনহা উড়ান প্রকল্পের অধীনে হওয়া বিভিন্ন অগ্রগতির কাজ সম্পর্কে মুখ্যমন্ত্রীকে বিস্তারিতভাবে অবহিত করেন। এছাড়া, কৈলাশহরে বিমান চলাচলের জন্য প্রশাসনিক স্তরে কী কী প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, তা একটি ভিডিও প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে মুখ্যমন্ত্রীর সামনে তুলে ধরা হয়।
এদিনের এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন মুখ্যমন্ত্রীর সচিব কিরণ গিত্তে, রাজস্ব দপ্তরের সচিব মিলিন্দ রামটেকে, পরিবহণ দপ্তরের ভারপ্রাপ্ত সচিব তাপস রায়, আগরতলা মহারাজা বীর বিক্রম বিমানবন্দরের অধিকর্তা সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরের অতিরিক্ত সচিবরা। দীর্ঘ ৩৫ বছর পর কৈলাশহর বিমানবন্দর চালুর এই পদক্ষেপে ত্রিপুরাবাসীর মধ্যে দারুণ উৎসাহের সৃষ্টি হয়েছে।