বিজয়ের শেষ ছবিতেই কেন ছোট চরিত্রে রাজি হলেন পূজা হেগড়ে? ফাঁস হল এক মেগাস্টারের ঐতিহাসিক মাস্টারস্ট্রোকের আসল রহস্য!

তামিল সিনেমার মেগাস্টার থালাপথি বিজয়ের বহু প্রতীক্ষিত ও ঐতিহাসিক ছবি ‘জন নায়গন’ অবশেষে বিশ্বজুড়ে বড় পর্দায় মুক্তি পেয়েছে। বহুল আলোচিত এই চলচ্চিত্রে দক্ষিণী সিনেমার জনপ্রিয় অভিনেত্রী পূজা হেগড়েও একটি বিশেষ চরিত্রে অভিনয় করেছেন। তবে ছবিটির পর্দায় পূজার উপস্থিতি বা স্ক্রিন টাইম অত্যন্ত সীমিত হওয়ায় ভক্তদের মনে তীব্র কৌতূহলের সৃষ্টি হয়েছে। শীর্ষস্থানীয় একজন প্রথম সারির অভিনেত্রী হওয়া সত্ত্বেও পূজা কেন একটি ছোট চরিত্রের ভূমিকায় অভিনয় করতে রাজি হলেন, তা নিয়ে এতদিন ধরে নানা জল্পনা চলছিল। অবশেষে ছবির এক ঘনিষ্ট অভ্যন্তরীণ সূত্র এই চাঞ্চল্যকর সিদ্ধান্তের পেছনের আসল কারণটি গণমাধ্যমের সামনে প্রকাশ করেছে।

অভ্যন্তরীণ সূত্র থেকে প্রাপ্ত খবর অনুযায়ী, পূজা হেগড়ে মূলত থালাপথি বিজয়ের সঙ্গে কাজ করার তীব্র সুপ্ত বাসনা থেকেই এই ছবিতে যুক্ত হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। কারণ, চলচ্চিত্র বোদ্ধাদের মতে, এই ছবিটি হতে চলেছে অভিনেতা বিজয়ের বর্ণাঢ্য অভিনয় জীবনের একেবারে শেষ সিনেমা, যার পর তিনি সম্পূর্ণভাবে রাজনৈতিক ময়দানে পদার্পণ করবেন। তাই বিজয়ের বিদায়ী ও ঐতিহাসিক এই ছবির অংশীদার হওয়াটা পূজা হেগড়ের মতো তারকার কাছেও অত্যন্ত বিশেষ ও আবেগের বিষয় ছিল।

ছবিতে ছোট ভূমিকা থাকা সত্ত্বেও পূজা কেন এই প্রজেক্টে যুক্ত হলেন, সে বিষয়ে সূত্রটি আরও জানিয়েছে যে, “যদিও এই ছবিতে পূজার স্ক্রিন টাইম তুলনামূলকভাবে অনেকটাই কম, তবুও গল্পে তাঁর চরিত্রটির বেশ কিছু অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও প্রভাবী দৃশ্য রয়েছে। তিনি মূলত এই ছবিটি করতে রাজি হয়েছেন কারণ রাজনীতিতে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রবেশের আগে এটি থালাপথি বিজয়ের শেষ এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ চলচ্চিত্র। তিনি চেয়েছিলেন বিজয়ের এই বিশেষ ছবিটির একটি অংশ হয়ে এই মুহূর্তটিকে চিরস্মরণীয় করে রাখতে।”

উল্লেখ্য, এর আগে ব্লকবাস্টার ‘বিস্ট’ ছবিতে বিজয়ের বিপরীতে মুখ্য নায়িকা হিসেবে অভিনয় করেছিলেন পূজা হেগড়ে। সেই ছবিতে তাঁদের রোমান্টিক জুটি ও অন-স্ক্রিন কেমিস্ট্রি দর্শকমহলে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছিল। থালাপথি বিজয়ের প্রতি পূজার সেই সুগভীর পেশাগত শ্রদ্ধা এবং অটুট বন্ধনই ছিল মূল চালিকাশক্তি, যার কারণে তিনি সীমিত স্ক্রিন টাইম বা ছোট ভূমিকা হওয়া সত্ত্বেও ‘জন নায়গন’ ছবিতে অভিনয়ের প্রস্তাব সানন্দে লুফে নিয়েছিলেন।

এইচ. বিনোথ পরিচালিত এই বিশাল বাজেটের চলচ্চিত্রে বিজয় ও পূজা হেগড়ে ছাড়াও আরও একঝাঁক জনপ্রিয় তারকা অভিনয় করেছেন। ছবিটিতে খলনায়ক ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে ববি দেওল এবং উদীয়মান অভিনেত্রী মমিতা বাইজু সহ আরও অনেকে স্ক্রিন শেয়ার করেছেন। যদিও ছবিটির সম্পূর্ণ ও বিস্তারিত কাহিনী নির্মাতাদের পক্ষ থেকে এখনও পুরোপুরি প্রকাশ করা হয়নি, তবে সরকারি তথ্য ও টিজারের সুবাদে জানা গেছে যে এটি এমন একজন সাধারণ মানুষের অনুপ্রেরণামূলক গল্প, যিনি সমাজের স্থানীয় অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়ে নির্যাতিত মানুষের কাছে আশার এক বিশাল উৎস হয়ে ওঠেন।

মূলত, এইচ. বিনোথ পরিচালিত এই বহুল প্রতীক্ষিত চলচ্চিত্রটি চলতি বছরের অর্থাৎ ২০২৬ সালের ৯ই জানুয়ারি প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাওয়ার কথা পূর্বনির্ধারিত ছিল। কিন্তু সেন্সর বোর্ডের সার্টিফিকেশন বা ছাড়পত্র সংক্রান্ত কিছু অনিবার্য জটিলতার কারণে ছবিটির মুক্তি বেশ কিছুদিন স্থগিত রাখতে বাধ্য হন নির্মাতারা। সমস্ত আইনি ও প্রযুক্তিগত জটিলতা কাটিয়ে অবশেষে গত ২৩শে জুলাই ছবিটি বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পায় এবং মুক্তির পর থেকেই বক্স অফিসে দারুণ সাড়া ফেলে দর্শকের মন জয় করে চলেছে।