দিশেহারা পাইলট, আকাশে চক্কর কাটল বিমান! কুয়ালালামপুর থেকে আসা ফ্লাইটে বড় নাশকতার ছক?

কলকাতার নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণের ঠিক প্রাক্কালে এক মারাত্মক ও চাঞ্চল্যকর বিপত্তির মুখে পড়ল মালয়েশিয়া এয়ারলাইন্সের একটি যাত্রীবাহী বিমান। কুয়ালালামপুর থেকে ছেড়ে আসা মালয়েশিয়া এয়ারলাইন্সের ‘MH-184’ ফ্লাইটটি যখন ১৫৯ জন যাত্রী নিয়ে কলকাতার আকাশসীমায় প্রবেশ করে, তখন এক অপ্রত্যাশিত লেজার রশ্মির হানায় ককপিটের ভেতরে চরম বিভ্রান্তি তৈরি হয়। এই আকস্মিক ঘটনায় মুহূর্তের জন্য দিশেহারা হয়ে পড়েন অভিজ্ঞ পাইলট। বিমানবন্দরের ট্রাফিক কন্ট্রোল এবং সংশ্লিষ্ট সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, শনিবার গভীর রাতে ঘটা এই ঘটনায় তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে বিমানবন্দর চত্বরে।

ঘটনার বিবরণ দিতে গিয়ে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, রাত প্রায় ১১টা ২০ মিনিট নাগাদ বিমানটি যখন রানওয়ে থেকে মাত্র ৮ নটিক্যাল মাইল দূরে অবস্থান করছিল, ঠিক সেই সময়ই মধ্যমগ্রাম ও বারাসত এলাকার দিক থেকে একটি অত্যন্ত তীব্র ও শক্তিশালী লেজার আলো সরাসরি বিমানের ককপিটের ওপর এসে পড়ে। আলোর সেই তীব্র ঝলকানিতে পাইলট সাময়িকভাবে অন্ধ হয়ে যাওয়ার উপক্রম হন এবং চারপাশের দৃশ্যমানতা নিয়ে মারাত্মক বিভ্রান্তির মুখে পড়েন। যাত্রীদের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে এবং বড় ধরনের কোনো বিমান দুর্ঘটনা এড়াতে পাইলট তাৎক্ষণিকভাবে বিমানটিকে নির্ধারিত গতিপথে নামানোর বদলে আকাশে কিছুটা চক্কর কাটানোর সিদ্ধান্ত নেন।

নির্ধারিত সময় অনুযায়ী বিমানটির রাত ১১টা ২০ মিনিটে অবতরণ করার কথা থাকলেও, এই অনভিপ্রেত পরিস্থিতির কারণে বিমানটি প্রায় পাঁচ মিনিট দেরিতে অর্থাৎ ১১টা ২৫ মিনিটে নিরাপদে মাটিতে নেমে আসে। ঘটনার পরপরই বিমান সংস্থার পক্ষ থেকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে কলকাতা বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষকে পুরো বিষয়টি বিস্তারিতভাবে জানানো হয়। এরপর নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর পুলিশ থানায় (NSCBI Airport Police Station) একটি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ প্রশাসন ও সাইবার ক্রিয়াকলাপ বিশেষজ্ঞরা ইতিমধ্যেই এই ঘটনার নেপথ্যে থাকা ব্যক্তিদের চিহ্নিত করতে জোরকদমে তদন্ত শুরু করেছেন।

বিমানবন্দর আধিকারিকদের মতে, বিমান চলাচলের নির্দিষ্ট করিডোর বা বিমানবন্দরের নির্ধারিত এলাকার আশপাশে যে কোনো ধরনের লেজার লাইট বা শক্তিশালী আলো ব্যবহার আইনগতভাবে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। উড্ডয়ন বা অবতরণের স্পর্শকাতর মুহূর্তে পাইলটের চোখে লেজার রশ্মি পড়লে তাঁর দৃষ্টিশক্তি সাময়িকভাবে পুরোপুরি লোপ পেতে পারে, যার জেরে শত শত যাত্রীর জীবন নিয়ে মারাত্মক বিপর্যয় ঘটে যেতে পারে। উল্লেখ্য, অতীতেও কলকাতায় এ ধরণের ঘটনা পাইলটদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগের সৃষ্টি করেছিল। গত বছর অর্থাৎ ২০২৫ সালের দুর্গাপুজোর সময় শ্রীভূমি স্পোর্টিং ক্লাবের একটি জনপ্রিয় পুজোমণ্ডপের লেজার শো নিয়ে পাইলটরা তীব্র আপত্তি জানানোর পর তা বন্ধ করতে হয়েছিল। বর্তমান পরিস্থিতিতে কঠোর নিরাপত্তার চাদরে মুড়ে ফেলা হয়েছে বিমানবন্দরের পার্শ্ববর্তী এলাকাগুলো।