জাতীয় রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে এখন ২০২৯-এর লোকসভা নির্বাচন। দিল্লিতে যখন বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’ ব্লক ভবিষ্যতের রণকৌশল তৈরিতে ব্যস্ত, ঠিক তখনই বাংলার মাটিতে তৃণমূল কংগ্রেসকে নিয়ে চলছে ভিন্ন এক ‘মহানাট্য’। একদিকে দলের অন্দরে ভাঙনের গুঞ্জন, অন্যদিকে হৃত গৌরব ফেরাতে তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের একগুচ্ছ নতুন কৌশলী পদক্ষেপ—সব মিলিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে এখন টানটান উত্তেজনা।
দিল্লিতে ২০২৯-এর বার্তা: দিল্লির বৈঠকের মূল লক্ষ্যই হলো বিজেপির বিরুদ্ধে ২০২৯-এর লড়াইয়ের ব্লু-প্রিন্ট তৈরি করা। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সেখানে স্পষ্ট করেছেন যে, বিরোধী জোটকে আরও শক্তিশালী করতে হলে আঞ্চলিক দলগুলোর মধ্যে সমন্বয় প্রয়োজন। কংগ্রেস থেকে আপ (AAP), সবার সঙ্গেই সম্পর্ক ঝালিয়ে নিচ্ছেন তিনি। জাতীয় রাজনীতিতে তৃণমূলকে এক গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করাই তাঁর এখনকার প্রধান লক্ষ্য।
বাংলায় ভাঙনের মহানাট্য: অন্যদিকে, বাংলার মাটিতে তৃণমূলের পরিস্থিতি কিছুটা অস্বস্তিকর। দলের একাংশ সাংসদ ও বিধায়কের আচরণে শীর্ষ নেতৃত্বের কপালে চিন্তার ভাঁজ। বিভিন্ন মহলে কান পাতলে শোনা যাচ্ছে, দলের একাংশ তৃণমূলের নীতি নিয়ে অসন্তুষ্ট। লোকসভা নির্বাচনের পরবর্তী সময়ে এই ভাঙনের গুঞ্জন তৃণমূলের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ‘মহানাট্য’ রুখতে না পারলে রাজ্যের ভোটে বড় প্রভাব পড়তে পারে।
মমতার নয়া কৌশল: দলের এই অস্বস্তিকর পরিস্থিতি সামাল দিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিয়েছেন নয়া কৌশল:
সাংসদদের ওপর নজরদারি: বিক্ষুব্ধ সাংসদদের সঙ্গে ব্যক্তিগত স্তরে আলোচনার মাধ্যমে ক্ষোভ প্রশমিত করার চেষ্টা।
নতুন মুখ ও পুরনো ভারসাম্য: সংগঠনের প্রতিটি স্তরে তরুণ ও অভিজ্ঞদের মধ্যে সঠিক ভারসাম্যের নতুন সমীকরণ তৈরি করা।
জনমুখী প্রচার: তৃণমূলের হারানো গৌরব ফেরাতে সরকারি প্রকল্পগুলোকে সরাসরি মানুষের দুয়ারে পৌঁছে দেওয়া এবং বিরোধীদের অপপ্রচারের বিরুদ্ধে তীব্র পাল্টা আক্রমণ।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষণ: দিল্লির জোটবার্তা কি বাংলার তৃণমূলের এই ভাঙনের মহানাট্যকে চাপা দিতে পারবে? নাকি এই দুই সমান্তরাল পরিস্থিতি—দিল্লির জোট ও বাংলার অন্দরমহলের বিবাদ—আগামী দিনে তৃণমূলের জন্য বড় অগ্নিপরীক্ষা হয়ে দাঁড়াবে? উত্তর লুকিয়ে আছে আগামী কয়েক মাসের রাজনৈতিক পদক্ষেপের ওপর।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কি পারবে তাঁর এই কৌশলী পদক্ষেপে তৃণমূলের ‘হৃত গৌরব’ ফিরিয়ে আনতে? তা দেখার অপেক্ষায় রাজ্যবাসী।





