দিল্লিতে মহা বিস্ফোরণ! বিক্ষোভ সামলাতে বাংলা থেকে হঠাৎ ২০ কোম্পানি সিআরপিএফ উড়িয়ে নিয়ে গেল কেন্দ্র, জানুন আসল কারণ!

রাজধানী দিল্লিতে চলমান তীব্র রাজনৈতিক বিক্ষোভ এবং নিরাপত্তা পরিস্থিতির চরম অবনতির পরিপ্রেক্ষিতে কেন্দ্র সরকার এক বড়সড় ও জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ তথা সিজেপি (CJP)-র নেতৃত্বে চলা লাগাতার আন্দোলনের পারদ চড়ায় রাজধানীতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অত্যন্ত সংবেদনশীল হয়ে উঠেছে। সোম ও মঙ্গলবারের পর বুধবারও এই বিক্ষোভের তীব্রতা কমার পরিবর্তে আরও বহুগুণ বৃদ্ধি পায়। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও অন্যান্য সংগঠনও এই আন্দোলনে সামিল হওয়ায় পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে শুরু করে। এই পটভূমিতে রাজধানীতে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা সুনিশ্চিত করতে এবং যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি কঠোরহস্তে দমন করতে কেন্দ্র সরকার অবিলম্বে অতিরিক্ত ২০ কোম্পানি সেন্ট্রাল রিজার্ভ পুলিশ ফোর্স বা সিআরপিএফ (CRPF) মোতায়েন করার নির্দেশ দিয়েছে। বিশেষ সূত্রে প্রাপ্ত খবরে জানা গেছে, এই বিপুল সংখ্যক কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানদের জরুরি ভিত্তিতে আকাশপথে সরাসরি বাংলা থেকে রাজধানী দিল্লিতে উড়িয়ে নিয়ে আসা হয়েছে।

কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক (MHA) সূত্রে প্রকাশ, মঙ্গলবার গভীর রাতেই রাজধানীতে অবিলম্বে এই অতিরিক্ত বাহিনী মোতায়েনের নির্দেশ জারি করা হয়েছিল। এর পরেই সিআরপিএফ-এর এই দক্ষ জওয়ানদের বিশেষ বিমানে করে কলকাতা থেকে দিল্লিতে নিয়ে আসার প্রক্রিয়া শুরু হয়। চলতি বছরের এপ্রিলে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং ভোট-পরবর্তী হিংসা রোধে রাজ্য সরকারের সুনির্দিষ্ট অনুরোধেই এই কোম্পানিগুলিকে সেখানে মোতায়েন করা হয়েছিল। পরবর্তীতে নির্বাচন শেষ হলেও পরিস্থিতি বিবেচনা করে তাদের সেখানেই রেখে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে দিল্লির আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সামলানো প্রধান অগ্রাধিকার হয়ে ওঠায় বাংলা থেকে সেই অভিজ্ঞ জওয়ানদেরই এবার জরুরি ভিত্তিতে রাজধানীতে স্থানান্তরিত করা হলো। কেন্দ্রীয় প্রশাসন সূত্রে সংবাদসংস্থা পিটিআইকে জানানো হয়েছে যে, সিজেপি-র লাগাতার বিক্ষোভ, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের তীব্র আন্দোলন এবং গত ২০ জুলাই থেকে শুরু হওয়া সংসদের গুরুত্বপূর্ণ বাদল অধিবেশনের যৌথ প্রেক্ষাপটেই এই কঠোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত কয়েকদিন ধরে চলা এই বিক্ষোভে একাধিকবার তীব্র হিংসার ঘটনা ঘটেছে। দিল্লি পুলিশ ও অন্যান্য নিরাপত্তা আধিকারিকদের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েছেন আন্দোলনকারীরা, যার ফলে উভয় পক্ষই সমানভাবে আক্রান্ত হয়েছে এবং রাজধানীর স্বাভাবিক জনজীবন পুরোপুরি বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। এই জরুরি ও বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি সফলভাবে মোকাবিলা করার জন্যই অতিরিক্ত বাহিনী মোতায়েনের তীব্র প্রয়োজন দেখা দিয়েছিল। সাধারণত একটি সিআরপিএফ কোম্পানিতে প্রায় ১০০ জন করে সশস্ত্র কর্মী থাকেন, সেই হিসেবে ২০টি কোম্পানির মোট জওয়ান সংখ্যা দাঁড়ায় ঠিক ২,০০০ জনে। এই দুই হাজার প্রশিক্ষিত সিআরপিএফ জওয়ানকে অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে কলকাতা থেকে আকাশপথে দিল্লিতে এনে মোতায়েন করা হয়েছে। নিরাপত্তা আধিকারিকদের মতে, সিজেপি-র এই তীব্র আন্দোলন এবং বাদল অধিবেশনের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে দিল্লি পুলিশের পাশাপাশি সিআরপিএফ এবং তাদের বিশেষ ‘র‍্যাপিড অ্যাকশন ফোর্স’ (RAF)-এর প্রায় ৩০টি কোম্পানিকে ইতিমধ্যেই মাঠে নামিয়েছে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক।