‘দিলীপের জায়গা’-মেদিনীপুরে পুরনো জৌলুস হারালেন দিলীপ ঘোষ? ফিকে ভিড়, বাড়ছে জল্পনা

এক সময়ের পশ্চিম মেদিনীপুরের ‘দাপুটে নেতা’ বলে পরিচিত বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষ দীর্ঘ দিন পর সোমবার মেদিনীপুরে দলের এক সভায় যোগ দিলেন। গত লোকসভা নির্বাচনে মেদিনীপুর থেকে টিকিট না পেয়ে বর্ধমান-দুর্গাপুরে লড়ে হেরে যাওয়ার পর এই প্রথমবার তিনি তার পুরনো গড় মেদিনীপুরে এলেন। যদিও তার এই ফিরে আসার দিনে আগের মতো জনসমাগম দেখা গেল না, তবুও বক্তৃতায় তিনি ছিলেন চিরচেনা আক্রমণাত্মক মেজাজে।
জনতার ভিড় কম, আলোচনা তুঙ্গে:
সোমবার ২১শে জুলাই উপলক্ষে তৃণমূল যখন ধর্মতলায় তাদের বিশাল সমাবেশ করছে, তখন বিকেলে পশ্চিম মেদিনীপুরের খড়গপুরের গিরি ময়দান স্টেশন লাগোয়া কেদারনাথ শিবমন্দিরের শহিদ শ্রদ্ধাঞ্জলি সভার আয়োজন করে বিজেপি নেতৃত্ব। সেখানেই যোগ দেন দিলীপ ঘোষ। গাড়ি থেকে নামার পর তাকে অভ্যর্থনা জানানোর জন্য কিছু লোক হাত নাড়েন এবং মালা পরিয়ে দেন। দিলীপ হাসিমুখে মঞ্চের দিকে এগিয়ে যান।
তবে, বিজেপির এক নেতার কথায়, “দিলীপদার কিছু অনুগামী এ দিনের সভাতে গেলেও, অনেকেই অনুপস্থিত। এখনও রাজ্য কিংবা জেলা কমিটি গঠন হয়নি। কোনদিক ভারি হবে দেখেই এগোতে চাইছে সকলে।” এই মন্তব্য দিলীপের বর্তমান রাজনৈতিক প্রভাব নিয়ে দলের অন্দরেই আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
চমকের জল্পনা ও দিলীপের জবাব:
২১শে জুলাইকে কেন্দ্র করে নানা চমকের জল্পনা উড়ছিল, এমনকি কেউ কেউ ভেবেছিলেন দিলীপ ঘোষ হয়তো ধর্মতলার তৃণমূলের ২১-এর মঞ্চে হাজির হবেন। এই জল্পনা নিয়ে দিলীপ বলেন, “আমাকে নিয়ে অনেক বিভ্রান্তি ছড়ানো হয়েছিল। দলেরও কেউ কেউ বিভ্রান্ত হয়েছিলেন। যাঁরা দিলীপকে তৃণমূলে পাঠাচ্ছিলেন তাঁরা কী এ বার গঙ্গায় ঝাঁপ দেবে, না বটগাছে গলায় দড়ি দেবে!”
এ দিন মেদিনীপুর, খড়গপুর, নারায়ণগড়ের বেশ কয়েকটি পরিবারের সদস্যরা বিজেপিতে যোগ দেন। তাদের হাতে দলীয় পতাকা তুলে দেন দিলীপ। তবে বিজেপির সূত্র বলছে, এতদিন দিলীপকে দলের কোনো কর্মসূচিতে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি, তাই এই আমন্ত্রণই হয়তো ছিল বিজেপির ‘চমক’।
আক্রমণাত্মক দিলীপ ও তৃণমূলকে ‘শহিদ’ করার হুমকি:
এ দিনের সভায় বক্তব্য পেশ করতে গিয়ে দিলীপ আগাগোড়া আক্রমণাত্মক ছিলেন। স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গিতেই তিনি তৃণমূলকে আক্রমণ করেন এবং তৃণমূল নেতাদের ‘চাকরিচোর’ ও ‘দুর্নীতিগ্রস্ত’ বলে অভিযোগ তোলেন।
দিলীপ বলেন, “গতবার একটু ঢিলে দিয়েছিলাম, অনেকে ঢুকেছেন। আবার চলেও গিয়েছেন। আর তা হতে দেব না। অনেকে দালালের হাত ধরে দালালি করে ঢুকতে পারেন। খুব সাবধান। মনে রাখুন সোনা সব সময়ে সোনা। এত অত্যাচার, অপমান, পার্টির মধ্যেও অনেক সময়ে আপনাদের সঙ্গে সুবিচার হয়নি। কিন্তু কেউ দল থেকে যাননি।”
এ দিনের কর্মসূচিতে পশ্চিম মেদিনীপুর ও ঝাড়গ্রাম জেলার শহিদ পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। বিজেপির দাবি, সিপিএম ও তৃণমূলের হাতে দুই জেলার প্রায় দুই শতাধিক কর্মী শহিদ হয়েছেন। তাদের শ্রদ্ধাঞ্জলি জানানো হয়েছে।
এই শ্রদ্ধাঞ্জলি সভার মঞ্চ থেকেই দিলীপ ঘোষ আগামী ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের দিকে ইঙ্গিত করে এক বিস্ফোরক মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, “২০২৬ সালে আর ধর্মতলায় শহিদ দিবস পালন করতে দেব না। কারণ, তৃণমূলটাই শহিদ হয়ে যাবে। আমরা জেলায় জেলায় শহিদ দিবস পালন করব।” দিলীপের এই মন্তব্য আগামী দিনে বঙ্গ রাজনীতিতে সংঘাতের নতুন ইঙ্গিত দিচ্ছে।