‘দিমাগি নকশাল পার্টি’র পেজে কাদের ফলো করা হচ্ছে? লালকেল্লার ভাষণের শব্দবন্ধ ঘিরে সোশ্যাল মিডিয়ায় ঝড়

দিল্লির লালকেল্লা থেকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর স্বাধীনতা দিবসের ভাষণ ঘিরে সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি নতুন শব্দবন্ধকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে তীব্র উত্তাপ সৃষ্টি হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তাঁর ভাষণে ‘দিমাগি নকশাল’ মন্তব্যটি করার পরই তা নিয়ে জাতীয় রাজনীতি এবং সাইবার দুনিয়ায় শুরু হয় তুমুল বিতর্ক। এই বিতর্কের জল গড়িয়েছে ইনস্টাগ্রামের অন্দরেও, যেখানে মাত্র দু’দিনের মাথায় ‘দিমাগি নকশাল পার্টি’ নামে একটি নতুন পেজ আত্মপ্রকাশ করে রাতারাতি শোরগোল ফেলে দিয়েছে।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, এই নতুন ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টটির ফলোয়ার্স সংখ্যা ইতিমধ্যেই প্রায় ১.৯ লক্ষে পৌঁছে গেছে। ইউজারনেম @dimaginaxalparty নামের এই অ্যাকাউন্টটি সোমবার কিছুক্ষণের জন্য ইন্টারনেট থেকে উধাও হয়ে গেলেও পরে তা আবার সক্রিয় হয়। পেজটির পরিচালকদের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে যে, প্রকাশের পর থেকেই এটি একের পর এক সাইবার হামলার মুখোমুখি হয়েছিল। বর্তমানে রাজনৈতিক মহলে গুঞ্জন শুরু হয়েছে যে, এই দলটি ভবিষ্যতে সাধারণ মানুষের অধিকার রক্ষা ও সরকার বিরোধী বিভিন্ন জনআন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে পারে কি না।
এই ইনস্টাগ্রাম পেজটির বায়োতে নিজেদের লক্ষ্য হিসেবে “চিন্তা করো, গবেষণা করো, প্রতিরোধ করো” স্লোগানটি ব্যবহার করা হয়েছে। পেজের প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে ‘এ দিমাগি ইন্ডিয়ান’ এবং সহ-প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে ‘৫৬ ইঞ্চি কা’ নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম এক্স-এর একটি নির্দিষ্ট হ্যান্ডেলের লিংকও সেখানে সংযুক্ত করা হয়েছে। পেজটির কার্যপদ্ধতি ও বিষয়বস্তু ইতিমধ্যেই যুবসমাজ এবং রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মধ্যে কৌতূহল তৈরি করেছে।
ইনস্টাগ্রামে মোট ৬৫টি পোস্ট করা এই রহস্যময় পেজটি মাত্র ৩৫টি অ্যাকাউন্টকে অনুসরণ করছে। নজরকাড়া বিষয় হলো, এই ফলোয়িং তালিকায় রয়েছে একাধিক পরিচিত ও সমালোচক মুখ। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন কৌতুকশিল্পী কুণাল কামরা, জনপ্রিয় ইউটিউবার ধ্রুব রাঠী, প্রবীণ অভিনেতা প্রকাশ রাজ, চলচ্চিত্র নির্মাতা অনুরাগ কাশ্যপ, অভিনেত্রী সোনাক্ষী সিনহা, উদ্ভাবক সোনম ওয়াংচুক এবং সাংবাদিক রবীশ কুমার। এছাড়া ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ বা সিজেপির পেজটিকেও তারা ফলো করে চলেছে।
উল্লেখ্য, গত ১৫ই আগস্ট স্বাধীনতা দিবসের ঐতিহাসিক ভাষণে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী দেশবাসীকে সতর্ক করে বলেন যে, সশস্ত্র নকশালবাদ জঙ্গল থেকে অনেকাংশে দূর হলেও ‘দিমাগি নকশালরা’ এখনও সমাজ ও প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে ঘাপটি মেরে বসে আছে। তারা দেশের সরকারি নীতি নির্ধারণে প্রভাব ফেলার চেষ্টা করছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন এবং দেশবাসীকে তাদের চিহ্নিত করে আলাদা করার আহ্বান জানান। এই মন্তব্যের পরই রাজনৈতিক পারদ চড়তে শুরু করে।
প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্যের পর কংগ্রেসের প্রবীণ নেতা তথা প্রাক্তন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পি চিদম্বরম কটাক্ষ করে সোশ্যাল মিডিয়ায় লেখেন যে, তিনি নিজেকে ‘দিমাগি নকশাল’ বলতে গর্ববোধ করেন। তিনি অভিযোগ করেন যে, এর আগে ব্যবহৃত ‘আন্দোলনজীবী’ বা ‘টুকড়ে টুকড়ে গ্যাং’ তক্মার মতোই এটি বিরোধীদের নিশানা করার নতুন কৌশল। যদিও পরবর্তীতে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কিরেন রিজিজু স্পষ্ট করে জানান যে, প্রধানমন্ত্রী কোনো বিরোধী নেতাকে এই কথা বলেননি, বরং যারা মাওবাদীদের মতাদর্শ সমর্থন করে এবং সংবিধানকে অমান্য করে, তাদের উদ্দেশ্যেই এই মন্তব্য করা হয়েছে।
রাজনৈতিক এই চাপানউতোর এবং উত্তেজনার মধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়ায় এই পেজটির উত্থান নতুন করে জল্পনার সৃষ্টি করেছে। তবে এই পেজটির নেপথ্যে ঠিক কারা রয়েছে বা এর আসল উদ্দেশ্য কী, তা এখনও সম্পূর্ণরূপে স্পষ্ট হয়নি। সাইবার দুনিয়ায় এই নতুন ট্রেন্ড আগামী দিনে রাজনীতিতে কতটা প্রভাব ফেলে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।