ছেলের আন্দোলনই কাল! বাঁকুড়ায় ককরোচ জনতা পার্টির কর্মীর বাবাকে পিটিয়ে খুনের অভিযোগ, গ্রেফতার ৮

বাঁকুড়ার ইন্দাস থানার করিশুণ্ডা গ্রামে ককরোচ জনতা পার্টির (CJP) এক কর্মীর বাবাকে বাড়িতে ঢুকে পিটিয়ে খুনের অভিযোগ ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। নিহত ব্যক্তির নাম শেখ মহম্মদ মাফিক (৫১)। এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় নিহতের স্ত্রীর দায়ের করা অভিযোগের ভিত্তিতে এক বিজেপি নেতা-সহ মোট আট জন অভিযুক্তকে দ্রুত গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ধৃতদের বিরুদ্ধে কঠোর ধারায় খুনের মামলা রুজু করে ইতিমধ্যেই বিষ্ণুপুর মহকুমা আদালতে পেশ করা হয়েছে। পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নিহত যুবকের ছেলে শেখ আব্দুল হাফিজ সম্প্রতি দিল্লিতে ককরোচ জনতা পার্টির একটি কর্মসূচিতে এবং ‘স্কুল ঠিক করো’ অভিযানে যোগ দিয়েছিলেন। এরপর তিনি নিজের এলাকায় ফিরে স্থানীয় একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বেহাল পরিকাঠামো ও অব্যবস্থা নিয়ে সরব হন এবং তার ভিডিও রেকর্ড করেন। অভিযোগ ওঠে, এই ঘটনার পরই স্থানীয় স্তরে রাজনৈতিক চাপ ও হুমকি ধামকি শুরু হয়। পরিবারের দাবি, গত ১৩ আগস্ট রাতে একদল ব্যক্তি তাদের বাড়িতে চড়াও হয়ে ব্যাপক ভাঙচুর চালায় এবং আব্দুল হাফিজকে না পেয়ে তাঁর প্রবীণ বাবা শেখ মহম্মদ মাফিকের ওপর চড়াও হয়। মাথায় ও ঘাড়ে মারাত্মক আঘাত লাগার ফলে গুরুতর জখম হন ওই বৃদ্ধ। পরবর্তীতে গত শনিবার রাতে বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। এই ন্যক্কারজনক ঘটনার পরই তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে ককরোচ জনতা পার্টি। দলের অন্যতম মুখ সৌরভ দাসের কড়া হুঁশিয়ারি ও প্রতিবাদের জেরে রাজ্যজুড়ে রাজনৈতিক চাপানউতোর চরমে উঠেছে। সিজেপি নেতৃত্বের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে যে, সাধারণ মানুষের মৌলিক অধিকার এবং শিক্ষার বেহাল দশা নিয়ে লড়াই করায় এ ধরনের আক্রমণ কোনোভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। ঘটনার খবর পেয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দলও মৃতের বাড়িতে গিয়ে শোকসন্তপ্ত পরিবারের সঙ্গে দেখা করে সমবেদনা জানায় এবং সব ধরনের সহায়তার আশ্বাস দেয়। অন্যদিকে, পুলিশ জানিয়েছে যে অভিযোগের ভিত্তিতে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ তদন্ত শুরু হয়েছে এবং এই ঘটনার নেপথ্যে প্রকৃত কারণ ও অন্যান্য অভিযুক্তদের খোঁজে চিরুনি তল্লাশি চালানো হচ্ছে