“‘দিদি দল শেষ করবেন!’ মমতাকে চরম আক্রমণ করে বিস্ফোরক মন্তব্য তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের”

গত ২১ জুলাই তৃণমূল কংগ্রেসের একুশের শহিদ দিবসের মঞ্চে প্রকাশ্যেই চরম বাদানুবাদ ও মতবিরোধের জল্পনা উসকে গিয়েছিল। আর সেই ঘটনার ঠিক একদিন পরেই বুধবার এক অত্যন্ত বিস্ফোরক সাংবাদিক বৈঠক করে তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে সরাসরি ক্ষোভ উগরে দিলেন দলের প্রবীণ ও দোর্দণ্ডপ্রতাপ সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। শুধু তাই নয়, জনসমক্ষে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তীব্র সমালোচনা করে কল্যাণ দাবি করেছেন যে দলনেত্রী তাঁকে অপমান করেছেন। একুশের মঞ্চের এই অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের পরই রাজনৈতিক মহলে তীব্র শোরগোল পড়ে গিয়েছে এবং প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে—তবে কি এবার মমতার হাত পাকাপাকিভাবে ছেড়ে দিতে চলেছেন কল্যাণ?

বুধবার সাংবাদিক বৈঠকে সমস্ত রাখঢাক না রেখেই কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘‘বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াইটা আমি করব এবং দলের থেকে করব। এদের মতো আমি নই যে ৮০ জন চলে গিয়েছে বা ২০ জন চলে গিয়েছে। দরকার হলে দলের মধ্যে ঝগড়া করেও করব। আমিও কাল থেকে অনেক টেক্সট পাচ্ছি, অনেক মেসেজ পাচ্ছি, অনেক ফোন পাচ্ছি ‘দাদা, দল ছেড়ে যাবেন না’। আমি ছেড়ে যাব কেন? কিন্তু দিদিকে বুঝতে হবে। দিদি যদি এখনও না বুঝতে চান, তাহলে দিদি দল তৈরি করেছে, দিদিই দল শেষ করবে, আর কিছু বলার নেই আমার।’’ তাঁর এই মন্তব্যের পরই রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

শুধু দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই নন, এই বিস্ফোরক বৈঠকে দলের সেকেন্ড ইন কমান্ড তথা সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভূমিকা নিয়েও তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করতে দেখা যায় কল্যাণকে। ক্ষোভ উগরে দিয়ে তিনি বলেন, ‘‘দিদিকে এও বলেছি, যাদের আপনার যত নেতা আছে না এখানে, যাদের যাদের বক্তৃতা গিয়েছেন, তারা একটাও গত দু’মাস, আড়াই মাসে যায়নি কোথাও। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এত বড় লিডার, তো দু মাস, আড়াই মাস ঘুরলো না কেন? শোভনদেব চ্যাটার্জি এত বড় লিডার, ঘুরলো না কেন? দিদির কথায় যারা এত বড় বড় লোক, তারা ঘুরল না কেন? আমি তো ঘুরেছি সমস্ত রিস্ক নিয়ে। আর দিদি এত ঘন ঘন বিরক্ত হলে হবে না।’’

এদিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে সরাসরি আক্রমণ শানিয়ে কল্যাণ আরও বলেন, ‘‘দিদির যদি মনে হয় অভিষেক এসে বসে আছে কেন, এটা যদি দিদির বিরক্তির কারণ হয়, তাহলে আমাদেরকে ছেড়ে ভাল শুধু অভিষেকদেরকে নিয়ে থাকুক দিদি তাহলে। বাংলার কোটি কোটি মানুষ আর লক্ষ লক্ষ তৃণমূল কংগ্রেসের ওয়ার্কারের জন্য মমতা দি বাংলার নেত্রী হয়েছেন। কোনো রক্তের সম্পর্কের লোকের জন্য মমতা বাংলার নেত্রী হননি। এবং সেই লড়াইয়ের দীর্ঘকালের সাথী আমি।’’ প্রসঙ্গত, এর আগেও আরজি কর কাণ্ডের প্রসঙ্গ হোক কিংবা লোকসভা থেকে সাসপেন্ড হওয়ার ঘটনা—বিভিন্ন ইস্যুতে কল্যাণের মন্তব্যে দলের অন্দরের ফাটল বারবার স্পষ্ট হয়েছে। তবে একুশের মঞ্চের পর এদিনের এই বেনজির আক্রমণ শাসক শিবিরের অস্বস্তি যে বহুগুণ বাড়িয়ে দিল, তা বলাই বাহুল্য। এখন দেখার এই চরম রাজনৈতিক পরিস্থিতির জল কতদূর গড়ায়।