রাত পোহালেই ইভিএম-বন্দি জনমতের প্রতিফলন। ৪ মে, সোমবার সকাল থেকেই শুরু হবে বাংলার বিধানসভা নির্বাচনের সেই বহু প্রতীক্ষিত ভাগ্য নির্ধারণের পালা। কিন্তু গণনাকেন্দ্রের দরজা খোলার আগেই আত্মবিশ্বাসের সুর চড়ালেন বঙ্গ বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। তাঁর সাফ দাবি, দিদির ‘খেলা’ ইতিমধ্যেই শেষ হয়ে গেছে এবং সোমবার সকালেই নিশ্চিত হয়ে যাবে যে বাংলায় বিজেপির সরকার প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে।
সন্ত্রাস রুখেছে কমিশন: দাবি শমীকের নির্বাচন পরবর্তী এক সাক্ষাৎকারে শমীক ভট্টাচার্য তৃণমূলের ‘গুন্ডারাজ’ ও ‘সন্ত্রাস’ নিয়ে তীব্র তোপ দাগেন। তিনি বলেন, “এবারের ভোট প্রক্রিয়ায় কমিশন যে কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে, তাতে তৃণমূলের চিরাচরিত রিগিং আর সন্ত্রাসের খেলা কার্যত মাঠে মারা গিয়েছে। সাধারণ মানুষ নির্ভয়ে ভোট দিতে পেরেছেন, আর তার প্রতিফলন দেখা যাবে সোমবারের ফলাফলে।” শমীকের মতে, কমিশনের এই কড়াকড়িই তৃণমূলের পরাজয়ের মূল কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
পরিবর্তনের হাওয়া উত্তর থেকে দক্ষিণ বঙ্গ বিজেপি সভাপতির দাবি অনুযায়ী, উত্তরবঙ্গ থেকে দক্ষিণবঙ্গ— সব প্রান্তেই পদ্ম শিবিরের পক্ষে বিপুল জনসমর্থন দেখা গিয়েছে। বিশেষ করে গত কয়েক বছরের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট বদলে দিয়েছে ভোটারদের মানসিকতা। তিনি জোর দিয়ে বলেন, “সোমবার সকালেই মানুষের রায় স্পষ্ট হয়ে যাবে। বাংলার মানুষ আর সিন্ডিকেট রাজ বা তোষণ সহ্য করতে রাজী নন। দিদির রাজত্বের অবসান এখন শুধু সময়ের অপেক্ষা।”
প্রস্তুত বিজেপি শিবির ইতিমধ্যেই গণনাকেন্দ্রের নিরাপত্তা এবং দলের কাউন্টিং এজেন্টদের ভূমিকা নিয়ে প্রস্তুতি সেরে ফেলেছে গেরুয়া শিবির। শমীকের এই আক্রমণাত্মক এবং আত্মবিশ্বাসী মন্তব্য যখন রাজ্য রাজনীতিতে শোরগোল ফেলেছে, তখন তৃণমূলের তরফে এটিকে ‘হারার আগে বড় বড় বুলি’ বলে কটাক্ষ করা হয়েছে।
বাংলার মসনদে কি সত্যিই পরিবর্তন আসতে চলেছে? শমীক ভট্টাচার্যের এই বড় দাবি কি বাস্তবে মিলবে? ৪ মে সকাল ৮টা থেকেই শুরু হবে সেই ঐতিহাসিক কাউন্টডাউন। নজরে থাকুক বাংলার ফল।





