‘দল নিজেই শেষ করবে!’ ২১ জুলাইয়ের মঞ্চ ছেড়ে বেরিয়ে যাওয়ায় বোমা ফাটালেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়

২১ জুলাইয়ের ঐতিহাসিক সভা মঞ্চ হঠাৎ ছেড়ে চলে যাওয়ার পর থেকেই রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। দলের সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে প্রকাশ্য মঞ্চে তীব্র বচসা এবং চরম অপমানের শিকার হওয়ার পর অবশেষে মুখ খুললেন তৃণমূলের প্রবীণ সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। এক সাংবাদিক বৈঠকে কল্যাণ অত্যন্ত ক্ষোভের সুরে জানান যে তিনি মঞ্চে অত্যন্ত অপমানজনক পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছেন। পাশাপাশি, বিগত দিনে আরজি কর কাণ্ডের উত্তাল সময়ে দলেরই এক প্রথম সারির প্রভাবশালী নেতা কীভাবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে মুখ্যমন্ত্রী পদ থেকে সরাতে চেয়েছিল, সেই নিয়ে এক বিস্ফোরক তথ্য সামনে এনেছেন তিনি।
সাংবাদিক বৈঠকে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, তিনি যখন বক্তব্য শেষ করে নিচে নামছিলেন, তখন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অত্যন্ত অসম্মানজনক ভাষায় তাঁকে বলেন যে তিনি এক ঘণ্টার বেশি সময় ধরে বক্তৃতা দিয়েছেন। অথচ নিজের হিসাব তুলে ধরে কল্যাণ দাবি করেন যে তিনি মাত্র অল্প সময় কথা বলেছেন এবং দল তাকে সেভাবে কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দেয়নি। তাঁর স্পষ্ট প্রশ্ন, দলের অন্য হেভিওয়েট নেতারা যখন মাসের পর মাস মাঠের লড়াই থেকে দূরে ছিলেন, তখন সমস্ত ঝুঁকি মাথায় নিয়ে তিনি নিজে মাঠে ময়দানে লড়াই চালিয়ে গেছেন। এরপরও প্রকাশ্য মঞ্চে এই ধরনের অপমানজনক আচরণ কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না বলে সাফ জানিয়ে দেন তিনি।
শুধু তাই নয়, দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অন্য নেতাদের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন কল্যাণ। তিনি সরাসরি আক্রমণ করে বলেন, দিদির যদি মনে হয় অভিষেককে ঘিরে কোনো সমস্যা তৈরি হচ্ছে বা অন্য নেতাদের নিয়ে দল চলবে, তবে তা স্পষ্ট করা উচিত। রক্তের সম্পর্কের চেয়েও দলের লাখ লাখ কর্মী ও সাধারণ মানুষের দীর্ঘ লড়াইয়ের ওপর দাঁড়িয়ে তৈরি হয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। নিজেকে দলের অন্যতম পুরনো ও পরীক্ষিত সৈনিক হিসেবে দাবি করে কল্যাণ বলেন, নেত্রীর ভালো সময়ে বহু লোক পাশে থাকলেও, দুর্দিনে তিনি সবসময় আস্থার সঙ্গে একাই লড়ে গেছেন।
সবশেষে কল্যাণের কন্ঠে স্পষ্ট অভিমান ও হুংকার দুই-ই শোনা গেছে। তিনি সাফ জানিয়ে দেন যে দল ছাড়ার কোনো প্রশ্নই ওঠে না, কারণ এই দলের জন্য তিনি তাঁর জীবন, যৌবন ও পেশাগত জীবন উৎসর্গ করেছেন। কিন্তু দলের ভেতরে বসে যারা ষড়যন্ত্র করছে এবং মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার স্বপ্ন দেখছে, তাদের মুখোশ উন্মোচন করা অত্যন্ত জরুরি। আরজি কর আন্দোলন চলাকালীন দলের ভেতরেই ষড়যন্ত্র করে মুখ্যমন্ত্রীকে সরানোর যে চক্রান্ত হয়েছিল, তা ধামাচাপা দেওয়া চলবে না বলে কঠোর বার্তা দিয়েছেন এই প্রবীণ নেতা। তাঁর এই বিস্ফোরক মন্তব্য ঘিরে এখন সমগ্র রাজ্য রাজনীতিতে চরম শোরগোল শুরু হয়েছে।