দল ছাড়ছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়? মদন মিত্রের বিস্ফোরক দাবিতে তোলপাড় রাজ্য রাজনীতি!

রাজ্য রাজনীতিতে ফের এক নতুন এবং চাঞ্চল্যকর রাজনৈতিক জল্পনার সৃষ্টি করলেন তৃণমূল কংগ্রেসের প্রবীণ তথা অন্যতম জনপ্রিয় বিধায়ক মদন মিত্র। তাঁর এক সাম্প্রতিক ও অত্যন্ত বিস্ফোরক দাবি ঘিরে এখন গোটা রাজনৈতিক মহলে চরম শোরগোল পড়ে গেছে। কামারহাটির বিধায়ক দাবি করেছেন যে, আজ থেকে প্রায় পনেরো দিন আগে তিনি এবং দলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষ একত্রে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে একটি গোপন বৈঠকে দেখা করেছিলেন। আর সেই বৈঠকে নাকি খোদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় দলের সমস্ত সাংগঠনিক ও রাজনৈতিক দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর ইচ্ছা প্রকাশ করেন। মদনের এই ধরনের নজিরবিহীন মন্তব্যের পর রাজ্য রাজনীতির অলিন্দে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে যে, তবে কি সত্যিই তৃণমূলের অন্দরে বড় কোনো ভাঙন বা ক্ষমতার রদবদল ঘটতে চলেছে?
সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে মদন মিত্র দাবি করেন, ওই বৈঠকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় নাকি নিদারুণ ক্ষোভ ও অভিমানে দলের শীর্ষ নেতৃত্বকে উদ্দেশ্য করে বলেছিলেন, “দলের যা কিছু ভুলভ্রান্তি বা সমস্যা হচ্ছে, তার সমস্ত দায়ভার আমার ওপর চাপিয়ে দিন এবং আমাকে এই সমস্ত দায়িত্ব ও জট থেকে সম্পূর্ণ মুক্তি দিন।” মদনের এই বিস্ফোরক বিবৃতির পর স্বাভাবিকভাবেই রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের চোখ কপালে উঠেছে। এতদিন ধরে বিরোধীরা যে সমস্ত গুঞ্জন তুলে আসছিল, খোদ দলেরই এক প্রবীণ নেতার মুখে এমন কথা শোনা যাওয়ায় তা এক নতুন মাত্রা পেয়েছে। এই চাঞ্চল্যকর দাবির সত্যতা নিয়ে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক দলগুলোর অন্দরে চুলচেরা বিশ্লেষণ শুরু হয়ে গেছে।
তবে এখানেই শেষ নয়, মদন মিত্র আরও দাবি করেছেন যে অভিষেকের এমন অদ্ভুত ও আচমকা প্রস্তাবের জবাবে ঠিক কী প্রতিক্রিয়া হয়েছিল বৈঠকে উপস্থিত অন্যান্য নেতাদের? কামারহাটির বিধায়কের দাবি অনুযায়ী, অভিষেক নাকি পাল্টা প্রশ্ন ছুড়ে দিয়ে উপস্থিত নেতাদের বলেছিলেন, “আমি যদি এই সমস্ত দায়িত্ব ও পদ থেকে চিরতরে সরে দাঁড়াই, তবে তার বিনিময়ে আপনারা আমায় ঠিক কী দেবেন?” মদনের এই বয়ান অনুযায়ী, দলের সেকেন্ড-ইন-কম্যান্ডের এহেন মন্তব্যে স্পষ্ট হয়ে ওঠে যে দলের বর্তমান অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি বা কাজের পরিবেশ নিয়ে তিনি কতটা বঞ্চনা বা মানসিক চাপের মধ্যে রয়েছেন। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, এই ধরনের প্রকাশ্য মন্তব্য দলের ভেতরের অন্তর্দ্বন্দ্ব এবং নেতৃত্বের মধ্যকার দূরত্বকে আরও স্পষ্ট করে তুলছে।
শুধু পদত্যাগ বা দায়িত্ব ছাড়ার প্রসঙ্গই নয়, মদন মিত্রের দাবি অনুযায়ী ওই বৈঠকে আমেরিকা ভ্রমণ, বিদেশ যাওয়ার ক্ষেত্রে আদালতের অনুমতি নেওয়ার আইনি প্রক্রিয়া এবং একাধিক কঠিন রাজনৈতিক শর্ত নিয়েও দু’পক্ষের মধ্যে দীর্ঘ আলোচনা হয়েছিল। তৃণমূল কংগ্রেসের শীর্ষ স্তরে যখন এই ধরনের কথোপকথন চলছে বলে দাবি করা হচ্ছে, তখন বিরোধী দলগুলো স্বভাবতই বিষয়টিকে লুফে নিয়েছে। বিজেপিসহ অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলো ইতিমধ্যেই এই মন্তব্যকে হাতিয়ার করে শাসক শিবিরকে নিশানা করতে শুরু করেছে। তাদের মতে, এ থেকেই স্পষ্ট যে জোড়াফুল শিবিরের অন্দরে অলিখিত এক ক্ষমতার লড়াই চলছে এবং সেনাপতির মনে গভীর অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। সব মিলিয়ে, মদন মিত্রের এই বোমা ফাটানো মন্তব্য আসন্ন রাজ্য রাজনীতিতে এক বিশাল রাজনৈতিক ঝড়ের পূর্বাভাস দিচ্ছে বলেই মনে করছেন অভিজ্ঞ মহল।