দলত্যাগীদের চরম অস্বস্তিতে ফেললেন মহুয়া! পরিচয় নিয়ে তীব্র কটাক্ষে উত্তাল তৃণমূল-রাজনীতি

লোকসভার বাদল অধিবেশনকে কেন্দ্র করে জাতীয় রাজনীতিতে উত্তেজনার পারদ হু হু করে চড়ে চলেছে। তৃণমুল কংগ্রেস থেকে বিদ্রোহ করে সদ্য আত্মপ্রকাশ করা ‘এনসিপিআই’ (NCPI) শিবিরে নাম লেখানো বিক্ষুব্ধ সাংসদদের আসন পুনর্বণ্টন করা হলেও এবং সরকারিভাবে এনডিএ-র গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে তাঁদের আমন্ত্রণ জানানো হলেও আইনি এবং রাজনৈতিক জটিলতা সহজে কাটছে না। সরকারি খাতায়-কলমে এই বিদ্রোহী ২০ জন সাংসদ এখনও পর্যন্ত সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতিনিধি হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছেন। কারণ, তাঁদের এই নতুন রাজনৈতিক দলে মিশে যাওয়ার আবেদন সংক্রান্ত আইনি প্রক্রিয়া এখনও লোকসভার অধ্যক্ষের টেবিলে অমীমাংসিত অবস্থায় ঝুলে রয়েছে। লোকসভার অন্দরে বক্তব্য রাখার সময় এই বিদ্রোহী সাংসদদের নামের পাশে এখনও বাধ্যতামূলকভাবে সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের দলীয় পরিচিতিই প্রদর্শন করা হচ্ছে, যা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে শোরগোল শুরু হয়েছে।
এই জটিল রাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে ডেউচা ও অন্যান্য প্রসঙ্গ ছাপিয়ে তীব্র কটাক্ষের সুর চড়িয়েছেন কৃষ্ণনগরের আগুনঝরা তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র। মঙ্গলবার লোকসভার বাদল অধিবেশনে বর্ধমান পূর্ব লোকসভা কেন্দ্রের সাংসদ শর্মিলা সরকার যখন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে নিজের বক্তব্য পেশ করছিলেন, তখন সংসদ টিভির পর্দায় তাঁর পরিচয় হিসেবে সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের নামই স্পষ্টভাবে দেখানো হয়। উল্লেখ্য, এই শর্মিলা সরকারও ওই ২০ জন বিক্ষুব্ধ সাংসদের দলেই নাম লিখিয়েছেন। এই ঘটনার রেশ ধরে একটি বিস্ফোরক স্ক্রিনশট ও ছবি নিজের সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেলে প্রকাশ্যে শেয়ার করে মহুয়া মৈত্র সরাসরি আক্রমণ শানিয়ে লিখেছেন, ‘নির্লজ্জ বেইমানির পরেও বিশ্বাসঘাতকরা এখনও সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের পরিচিতি থেকে মুক্তি পেলেন না। যতদিন না পর্যন্ত স্বীকৃতিহীন একটি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আপনাদের বহুচর্চিত মিশে যাওয়া হচ্ছে না, ততদিন অন্তত বিজেপি-র বি টিম হিসেবে নিজেদের পরিচয় দিন।’ তাঁর এই প্রকাশ্য আক্রমণ মুহূর্তের মধ্যে রাজনৈতিক মহলে দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ে।
যদিও একদিন আগেই নতুন রাজনৈতিক সমীকরণের অংশ হিসেবে প্রথমবার কেন্দ্রের শাসক জোট এনডিএ-র উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে আনুষ্ঠানিকভাবে আমন্ত্রণ পেয়েছিলেন এই এনসিপিআই সাংসদরা। এমনকি সেই বৈঠকে খোদ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তাঁদের সঙ্গে আলাদাভাবে দীর্ঘ সময় ধরে কথা বলেন এবং বিভিন্ন বিষয়ে মতবিনিময় করেন। কিন্তু একদিকে যেমন কেন্দ্রের শাসক শিবিরের পক্ষ থেকে তাঁদের বাড়তি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে, অন্যদিকে তেমনই সংসদীয় রাজনীতির ময়দানে তাঁদের সদস্যপদ কেড়ে নিতে তীব্র চাপ সৃষ্টি করছে ঘাসফুল শিবির। এই পরিস্থিতিতে বিক্ষুব্ধ সাংসদদের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ সম্পূর্ণ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
এই টানাপোড়েনের মাঝেই মঙ্গলবার দলের বিদ্রোহী ওই সমস্ত সাংসদদের দ্রুত সদস্যপদ খারিজ করার কঠোর দাবি নিয়ে ফের একবার লোকসভার অধ্যক্ষ ওম বিড়লার সঙ্গে সরাসরি সাক্ষাৎ করতে যান তৃণমূল কংগ্রেসের লোকসভা দলের নেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। এর আগেও লোকসভার স্পিকারের কাছে ওই ২০ জন বিদ্রোহী সাংসদের সংসদ সদস্যপদ বাতিলের দাবিতে সুনির্দিষ্ট আর্জি জানিয়েছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু স্পিকারের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত সেই আবেদনের কোনো আনুষ্ঠানিক নিষ্পত্তি বা সুনির্দিষ্ট রায় ঘোষণা করা হয়নি। একদিকে সংসদের অন্দরে মহুয়া মৈত্রের আক্রমণ এবং অন্যদিকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আইনি ও সাংগঠনিক তৎপরতার জেরে চরম অস্বস্তিতে পড়েছেন দলত্যাগী সাংসদরা। সবমিলিয়ে আসন্ন দিনে এই দলবদল ও স্বীকৃতি সংক্রান্ত জল কতদূর গড়ায়, সেদিকেই এখন নজর রয়েছে গোটা দেশের রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের।