দফতর বণ্টন চূড়ান্ত! শুভেন্দুর হাতে কোন কোন বড় দায়িত্ব? দেখুন মন্ত্রিসভার সম্ভাব্য তালিকা

দ্বিতীয় দফায় ৩৫ জন মন্ত্রী শপথ নিলেও এতদিন দফতর বণ্টন নিয়ে রাজনৈতিক মহলে ছিল চরম জল্পনা। অবশেষে সেই প্রতীক্ষার অবসান হতে চলেছে। বিজেপি সূত্রের খবর, রাজ্য মন্ত্রিসভার দফতরের তালিকা চূড়ান্ত করা হয়েছে এবং আগামী দু-একদিনের মধ্যেই সরকারিভাবে তা ঘোষণা করা হবে। এই মন্ত্রিসভায় সমাজের সর্বস্তরের মানুষের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করে ভারসাম্য রক্ষার চেষ্টা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
মুখ্যমন্ত্রীর হাতে বড় দায়িত্ব:
বিজেপি সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী নিজের হাতে বেশ কিছু অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও প্রভাবশালী দফতর রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এর মধ্যে রয়েছে স্বরাষ্ট্র দফতর, আইন দফতর এবং ভূমি ও ভূমি সংস্কারের মতো সংবেদনশীল ও গুরুত্বপূর্ণ বিভাগ। এমনকি রাজ্যের বিদ্যুৎ দফতরটিও তিনি নিজের কাছেই রেখেছেন। প্রশাসনিক কাজের ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতেই এই রণকৌশল নেওয়া হয়েছে বলে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের ধারণা।
মন্ত্রিসভার সম্ভাব্য তালিকা ও চমক:
শুভেন্দুর মন্ত্রিসভায় মোট ৪১ জন সদস্য রয়েছেন (মুখ্যমন্ত্রীসহ), যার মধ্যে ১৮ জন পূর্ণমন্ত্রী। মন্ত্রিসভায় ৭ জন মহিলা সদস্যকে জায়গা দিয়ে নারীশক্তির ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন পেশার মানুষকে মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত করে এক ভারসাম্যপূর্ণ কাঠামো তৈরির চেষ্টা হয়েছে। নতুন মন্ত্রিসভায় কোন মন্ত্রী কোন চেয়ারে বসতে পারেন, তা নিয়ে তুঙ্গে চর্চা:
স্বাস্থ্য: বিধাননগরের বিধায়ক শারদ্বত মুখোপাধ্যায়।
অর্থ: রাসবিহারীর অভিজ্ঞ বিধায়ক স্বপন দাশগুপ্ত।
স্কুলশিক্ষা: ফালাকাটার বিধায়ক দীপক বর্মণ।
উচ্চশিক্ষা: সিউড়ির বিধায়ক জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়।
শিল্প ও বাণিজ্য: মানিকতলার বিধায়ক তাপস রায়।
পরিবহণ: নোয়াপাড়ার বিধায়ক অর্জুন সিং।
কৃষি: ময়ুরেশ্বরের বিধায়ক দুধকুমার মণ্ডল।
পর্যটন: শিলিগুড়ির বিধায়ক শঙ্কর ঘোষ।
শ্রম: কুলটির বিধায়ক অজয় পোদ্দার।
এই বণ্টন তালিকাটি এখন চূড়ান্ত অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই মন্ত্রিসভা গঠন করার সময় শুধু অভিজ্ঞতাই নয়, বরং প্রতিটি অঞ্চলের প্রতিনিধি এবং বিভিন্ন পেশার মানুষদের গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে অর্জুন সিং বা তাপস রায়ের মতো ওজনদার নেতাদের গুরুত্বপূর্ণ দফতর দিয়ে সরকার যে উন্নয়নের গতি ত্বরান্বিত করতে চায়, তা স্পষ্ট।
সব মিলিয়ে, শুভেন্দু অধিকারীর এই নবগঠিত মন্ত্রিসভা একদিকে যেমন প্রবীণ ও অভিজ্ঞ নেতাদের সমন্বয়ে তৈরি, তেমনই অন্যদিকে নতুন মুখদের সুযোগ দিয়ে ভারসাম্য বজায় রাখা হয়েছে। আগামী কয়েকদিনের মধ্যেই এই মন্ত্রীরা নিজ নিজ দফতরে দায়িত্ব গ্রহণ করবেন এবং এরপরই রাজ্যের প্রশাসনিক কাজ পূর্ণ গতিতে শুরু হবে বলে আশা করা যাচ্ছে। মন্ত্রিসভা ঘোষণার পরই বোঝা যাবে রাজ্য সরকার আগামী পাঁচ বছরের জন্য উন্নয়নের রোডম্যাপ কীভাবে সাজিয়েছে।