স্তন ক্যান্সার রুখবে আমাদের অতি পরিচিত এই ফল! পাটনার বিজ্ঞানীদের আবিষ্কারে তোলপাড় বিশ্ব

বর্তমান সময়ে বিশ্বজুড়ে স্তন ক্যান্সারের আতঙ্ক ক্রমাগত বেড়েই চলেছে। শহর হোক বা গ্রাম—মহিলাদের পাশাপাশি পুরুষরাও এখন এই মারণ রোগের কবলে পড়ছেন। তবে এই মারণ রোগের চিকিৎসায় এবার এক অভাবনীয় দিশা দেখালেন বিহারের পাটনার মহাবীর ক্যান্সার ইনস্টিটিউটের বিজ্ঞানীরা। আমাদের অতি পরিচিত ‘বেল’ ফলের মধ্যেই লুকিয়ে রয়েছে ক্যান্সারের মহৌষধ—এমনই দাবি করছেন গবেষকরা।

ইঁদুরের ওপর গবেষণায় মিলল অভাবনীয় সাফল্য

ইনস্টিটিউটের সিনিয়র বিজ্ঞানী ডঃ অরুণ কুমারের নেতৃত্বে একদল গবেষক দীর্ঘ তিন-চার বছর ধরে বেলের ঔষধি গুণ নিয়ে গবেষণা চালাচ্ছেন। গবেষণার প্রয়োজনে একদল ইঁদুরের শরীরে বিশেষ রাসায়নিক প্রয়োগ করে কৃত্রিমভাবে স্তন টিউমার তৈরি করা হয়েছিল। ছয় মাসের মধ্যে যখন সেই টিউমারগুলি বড় আকার ধারণ করে, তখন তাদের নিয়মিত বেলের শাঁসের নির্যাস বা মিশ্র ডোজ দেওয়া শুরু হয়। ফলাফলে দেখা যায়, সময়ের সাথে সাথে ইঁদুরগুলোর শরীরের টিউমার ছোট হতে শুরু করে এবং কয়েক দিনের মধ্যেই তা পুরোপুরি অদৃশ্য হয়ে যায়। বর্তমানে সেই ইঁদুরগুলো সম্পূর্ণ সুস্থ।

বেলের শাঁসে লুকিয়ে কোন জাদু?

ডঃ অরুণ কুমার জানিয়েছেন, বেলের শাঁসে রয়েছে প্রভূত পরিমাণে ফাইটোকেমিক্যাল যৌগ। এর মধ্যে ক্যারোটিনয়েড, ফেনোলিক যৌগ, ট্যানিন, অ্যালকালয়েড, টারপিনয়েড, কুমারিন এবং লিগনিনের মতো উপাদানগুলো ক্যান্সার কোষের বৃদ্ধি রুখতে অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা পালন করে। গবেষণার এই প্রাথমিক ফলাফল ইতিবাচক হওয়ায় বিশ্ববিখ্যাত বৈজ্ঞানিক জার্নাল ‘নেচার’-এ এই গবেষণাপত্রটি প্রকাশিত হয়েছে।

চিকিৎসার খরচ কমবে আমূল

বর্তমানে ক্যান্সারের ওষুধের দাম আকাশছোঁয়া। একটি সাধারণ ডোজের দামও কয়েক হাজার থেকে কয়েক লক্ষ টাকা পর্যন্ত হতে পারে। ডঃ কুমারের মতে, যদি বেলের শাঁস থেকে কার্যকরী অণু (Molecule) আলাদা করে ওষুধ তৈরি করা সম্ভব হয়, তবে চিকিৎসার খরচ সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে চলে আসবে। বিজ্ঞানীরা এখন বেলের শাঁস থেকে সেই বিশেষ অণুগুলোকে আলাদা করার কাজ করছেন। এরপর ধাপে ধাপে হিউম্যান ট্রায়াল বা মানুষের ওপর পরীক্ষার পর এটি পেটেন্ট করা হবে। এই আবিষ্কার সফল হলে ক্যান্সার চিকিৎসায় এক নতুন বিপ্লব আসবে বলে মনে করা হচ্ছে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy