থানার সামনে পুলিশকে চোখ রাঙানোর খেসারত! রানিগঞ্জে দুই বিজেপি নেতাকে সাসপেন্ড, কমিটি ভেঙে চুরমার!

স্বাধীনতার প্রাক্কালে বিশ্ব হিন্দু পরিষদের সঙ্গে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ এবং পরবর্তীতে থানায় গিয়ে পুলিশকে হুমকি দেওয়ার মতো গুরুতর অভিযোগে আসানসোলে বড়সড় শাস্তিমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করল ভারতীয় জনতা পার্টি। দলীয় সূত্রে প্রাপ্ত খবর অনুযায়ী, রানিগঞ্জ মণ্ডলের নেতা আনন্দ সাউ এবং বিজেপির আসানসোল সাংগঠনিক জেলার সম্পাদক বাদশা চট্টোপাধ্যায়কে সমস্ত ধরনের সাংগঠনিক কাজকর্ম থেকে অবিলম্বে অব্যহতি দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে রাতারাতি ভেঙে দেওয়া হয়েছে রানিগঞ্জ মণ্ডল (এক)-এর সম্পূর্ণ কমিটিও। দলের জেলা সভাপতি দেবতনু ভট্টাচার্যের সরাসরি নির্দেশেই এই কঠোর সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়েছে বলে রাজনৈতিক মহলে জল্পনা তুঙ্গে উঠেছে।
ঘটনার সূত্রপাত গত ১৪ অগস্ট রাতে। স্বাধীনতা দিবসের ঠিক আগের রাতে বিশ্ব হিন্দু পরিষদের কর্মী-সমর্থকদের সঙ্গে বিজেপির স্থানীয় কর্মীদের তীব্র বচসা ও হাতাহাতি বাধে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে আসানসোল রানিগঞ্জ থানার পুলিশ হস্তক্ষক্ষেপ করে এবং সংঘর্ষে যুক্ত থাকার অভিযোগে বেশ কয়েকজন বিজেপি নেতা-কর্মী ও জেলা সম্পাদক বাদশা চট্টোপাধ্যায়কে গ্রেপ্তার করে থানায় নিয়ে যায়। দলের কর্মীদের এমনভাবে আটকের খবর ছড়িয়ে পড়তেই রাজনৈতিক অঙ্গনে চাঞ্চল্য তৈরি হয়।
গ্রেপ্তার হওয়া সহকর্মীদের দ্রুত মুক্তির দাবিতে স্থানীয় বিজেপি নেতা আনন্দ সাউয়ের নেতৃত্বে কর্মী-সমর্থকরা সোজা থানা চত্বরে হাজির হন। অভিযোগ উঠেছে, পুলিশ প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের মুখোমুখি হয়ে তারা চরম ঔদ্ধত্য দেখান এবং পুলিশের সঙ্গে তীব্র বাদানুবাদ ও বাকযুদ্ধে জড়িয়ে পড়েন। থানা চত্বরে পুলিশকে চোখ রাঙানোর সেই উত্তপ্ত দৃশ্য এবং বাদানুবাদের সমস্ত মুহূর্ত মোবাইল বন্দি হয়ে দ্রুত সোশ্যাল মিডিয়ার বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে ভাইরাল হয়ে যায়। ভিডিয়োটি প্রকাশ্যে আসতেই রাজ্যজুড়ে প্রবল সমালোচনার ঝড় ওঠে এবং বিরোধী দলগুলি বিজেপির শৃঙ্খলা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে শুরু করে।
পরিস্থিতি বেগতিক দেখে এবং দলের ভাবমূর্তি রক্ষার্থে তড়িঘড়ি আসানসোল সাংগঠনিক জেলা নেতৃত্ব নড়েচড়ে বসে। মঙ্গলবার গভীর রাতে জেলা সভাপতি দেবতনু ভট্টাচার্যের স্বাক্ষর করা একটি বিশেষ চিঠির মাধ্যমে বাদশা চট্টোপাধ্যায় ও আনন্দ সাউকে সাংগঠনিক দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়ার কথা আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়। চিঠিতে সুনির্দিষ্ট কোনো কারণ উল্লেখ না করা হলেও পরিষ্কার জানানো হয়েছে যে, বর্তমান সার্বিক পরিস্থিতি এবং সংশ্লিষ্ট মহলের অনুমোদনক্রমেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই কড়া পদক্ষেপের পাশাপাশি রানিগঞ্জ মণ্ডলের প্রথম নম্বর কমিটি সম্পূর্ণ ভেঙে দিয়ে নতুন করে দলীয় সাজসজ্জার কাজ শুরু হয়েছে।
এই আকস্মিক ও কঠোর পদক্ষেপে রানিগঞ্জের রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দলীয় শৃঙ্খলাভঙ্গ এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে প্রকাশ্যে সংঘাতে জড়ানোর মাশুল দিতে হলো দুই দাপুটে নেতাকে। ঘটনাটি অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিশৃঙ্খলার বার্তা দিলেও বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব এ বিষয়ে মুখ খুলতে নারাজ এবং পুরো বিষয়টিকে দলের অভ্যন্তরীণ সাংগঠনিক সংস্কার বলে এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন।