ত্রিপুরায় তৃণমূল প্রতিনিধি দলের সঙ্গে ‘অশোভন আচরণ’! বিমানবন্দরে গাড়ি ফেরাল পুলিশ, কুণাল ঘোষের বিস্ফোরক অভিযোগ

আগরতলায় তৃণমূল কংগ্রেসের (TMC) প্রদেশ কার্যালয়ে ভাঙচুর ও হামলার ঘটনার পর রাজ্যে আসা দলের ছয় সদস্যের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে ‘অশোভন আচরণের’ অভিযোগ উঠল প্রশাসন ও পুলিশের বিরুদ্ধে। বুধবার আগরতলা বিমানবন্দরে পৌঁছনোর পরই তাঁদের নিতে আসা চারটি গাড়ির মধ্যে তিনটি গাড়ি ফিরিয়ে দেয় প্রশাসন ও পুলিশ। এর প্রতিবাদে বিমানবন্দরের বাইরেই ধর্ণায় বসেন তৃণমূল নেতারা।

গাড়ি ফেরানো হলো, হাঁটার অনুমতিও মিলল না
তৃণমূল মুখপাত্র কুণাল ঘোষ অভিযোগ করেন, প্রশাসনের এই পদক্ষেপ বিজেপির প্ররোচনায় ঘটানো হয়েছে, যা গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের পরিপন্থী। তাঁর দাবি, “এভাবে তৃণমূলকে আটকানো যাবে না।”

এরপর প্রতিনিধি দলের সদস্যরা বিমানবন্দর থেকে পায়ে হেঁটে আগরতলার চিত্তরঞ্জন রোড স্থিত প্রদেশ অফিসে যাওয়ার পরিকল্পনা করেন। কিন্তু পুলিশ তাতেও অনুমতি দেয়নি। কুণাল ঘোষ অভিযোগ করেন, পুলিশ জানিয়েছে, এতদূর পায়ে হেঁটে গেলে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা দেওয়া সম্ভব নয়। পরবর্তী সময়ে পুলিশ প্রশাসন গাড়ি দিলে, সেই গাড়িতে করেই হামলার শিকার হওয়া পার্টি অফিসে পৌঁছান প্রতিনিধি দলের সদস্যরা।

ভিডিও ফুটেজ হাতে, ডিজিপির কাছে নালিশ
প্রদেশ অফিসে এসে ছয় সদস্যের প্রতিনিধি দলটি অফিসের সামনে ভেঙে পড়া দলীয় পতাকা, ফুলের টব ও সাইনবোর্ড পরিদর্শন করেন। পশ্চিমবঙ্গের বনমন্ত্রী বীরবাহা হাঁসদা নিজেই রাস্তায় পড়ে থাকা দলীয় পতাকাগুলি তুলে পার্টি অফিসে রাখেন।

এরপর দলীয় অফিসে বসেই তাঁরা সাংবাদিক সম্মেলন করেন এবং পরে ত্রিপুরা পুলিশের মহা নির্দেশকের (ডিজিপি) সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এই প্রতিনিধি দলে ছিলেন বীরবাহা হাঁসদা, কুণাল ঘোষ, সাংসদ সুস্মিতা দেব, সাংসদ সায়নী ঘোষ, সাংসদ প্রতিমা মণ্ডল এবং ছাত্রনেতা সুদীপ রাহা।

ডিজিপির সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে সাংসদ সুস্মিতা দেব সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বিস্ফোরক দাবি করেন:

“আমাদের কাছে প্রমাণ রয়েছে ভারতীয় জনতা পার্টির (BJP) সরকারের বিধায়ক এবং সংগঠনের শীর্ষ নেতৃত্বরা তৃণমূল পার্টি অফিসের আক্রমণের সঙ্গে জড়িত রয়েছেন এবং তৃণমূলের কাছে ভিডিও ফুটেজ রয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, অতীতে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের গাড়িতে হামলা হলেও কোনও তদন্ত হয়নি, কেউ আটক হয়নি। তবে বর্তমানে ত্রিপুরা পুলিশের নতুন মহা নির্দেশকের ওপর তৃণমূল কংগ্রেসের আস্থা রয়েছে। তাঁদের দাবি, হামলাকারীদের আটক করে শাস্তি দেওয়া হোক। সুস্মিতা দেব জানান, আগামীকাল পশ্চিম ত্রিপুরা জেলা পুলিশ সুপারের কাছে FIR কপি জমা দেবেন তাঁরা।

হামলা: গণতন্ত্রের উপর আঘাত
প্রসঙ্গত, ঘটনার সূত্রপাত হয় মঙ্গলবার। ওই দিন আগরতলার তৃণমূল কার্যালয়ে রীতিমতো লাঠি নিয়ে হামলা চালানো হয়, ভাঙচুর করা হয় এবং দলীয় পতাকা ও ফ্লেক্স ছিঁড়ে ফেলা হয়। তৃণমূলের দাবি, পুলিশ বাধা দিলেও লাভ হয়নি এবং এই হামলার নেপথ্যে রয়েছে বিজেপি। এক্স হ্যান্ডেলে তৃণমূল এই হামলাকে ‘গণতন্ত্রের উপর সরাসরি আঘাত’ বলে নিন্দা জানিয়েছে।

এদিকে, ছয় সদস্যের প্রতিনিধি দলটি রাজ্যে আসায় আগরতলা শহর এবং প্রদেশ কার্যালয়ের সামনে আধা সামরিক বাহিনী, ত্রিপুরা পুলিশ ও TSR দিয়ে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।