করোনা বিদায় নিলেও বিপদ শেষ হয়নি! শরীরে লুকিয়ে ভাইরাস? চাঞ্চল্যকর রিপোর্ট জেএলএনএমসিএইচ-এর

করোনা মহামারী অতীত হলেও মানবদেহে এর রেশ রয়ে গেছে কি? সাম্প্রতিক এক চিকিৎসা গবেষণা এমনই চাঞ্চল্যকর ইঙ্গিত দিয়েছে। বিহারের ভাগলপুরের জওহরলাল নেহেরু মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের (জেএলএনএমসিএইচ) মেডিসিন বিভাগের সাম্প্রতিক সমীক্ষায় লং কোভিডের এমন সব জটিল উপসর্গ ধরা পড়েছে, যা চিকিৎসকদের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে।
গবেষণার নেপথ্যে চাঞ্চল্যকর তথ্য হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের প্রধান ডা. রাজকমল চৌধুরীর নেতৃত্বে গত তিন মাস ধরে ৪,৮০০ জন রোগীর ওপর এই সমীক্ষা চালানো হয়। গবেষণায় উঠে এসেছে:
১,০০০ জনেরও বেশি রোগীর শরীরে: গুরুতর অসুস্থ রোগীদের মধ্যে লং কোভিডের জটিল ও রহস্যময় উপসর্গ দেখা গেছে।
ভাইরাসের সুপ্ত অবশিষ্টাংশ: চিকিৎসকদের দাবি, শরীরের হৃৎপিণ্ড, ফুসফুস, পেটের আবরণ এমনকি মেরুদণ্ডের চারপাশের টিস্যুতে করোনার অবশিষ্টাংশ সুপ্ত অবস্থায় রয়ে যেতে পারে।
টিকা নেওয়ার পরেও ঝুঁকি: যারা টিকা নিয়েছেন এবং যারা নেননি—উভয় ক্ষেত্রেই এই লং কোভিডের প্রভাব দেখা যাচ্ছে।
কেন সাধারণ ওষুধে কাজ হচ্ছে না? ডা. রাজকমল চৌধুরীর মতে, রোগীদের শরীরে সুপ্ত ভাইরাসের কারণেই সাধারণ অ্যান্টিবায়োটিক বা জ্বরের ওষুধে দ্রুত কাজ হচ্ছে না। সুস্থ হতে রোগীদের সময় লাগছে এক মাসেরও বেশি। উপসর্গ হিসেবে থাকছে দীর্ঘস্থায়ী জ্বর, স্নায়ুর সমস্যা, তীব্র দুর্বলতা ও পায়ে আড়ষ্টতা। চিকিৎসকের মতে, উপযুক্ত আবহাওয়া পেলে এই সুপ্ত ভাইরাস ফের সক্রিয় হয়ে উঠতে পারে।
ভবিষ্যৎ ভাবনা ও সতর্কতা বর্তমানে এমন কোনো নির্দিষ্ট ওষুধ নেই যা মানবদেহ থেকে ভাইরাসের এই অবশিষ্ট অংশকে পুরোপুরি নির্মূল করতে পারে। তবে পরিস্থিতি বিবেচনা করে ভবিষ্যতে লং কোভিড প্রতিরোধে সরকারি স্তরে অতিরিক্ত ‘বুস্টার ডোজ’-এর প্রয়োজনীয়তা নিয়ে চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে।
২০২৩ সাল থেকেই কোভিড রোগীদের ওপর এই গবেষণার কাজ শুরু করেছিলেন ডা. রাজকমল চৌধুরী। তাঁর এই গবেষণালব্ধ তথ্য ইতিমধ্যেই আইসিএমআর (ICMR)-এর নজরে আনা হয়েছে। চিকিৎসকদের পরামর্শ, শরীর অহেতুক দুর্বল বোধ করলে বা দীর্ঘস্থায়ী জ্বর থাকলে অবহেলা না করে দ্রুত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।