২১ জুলাইয়ের রিপোর্ট প্রকাশ্যে! শহিদ পরিবারের বঞ্চনা নিয়ে মমতার বিরুদ্ধে তোপ শুভেন্দুর

দীর্ঘদিন ধরে ধামাচাপা দিয়ে রাখা একুশে জুলাইয়ের ‘বিচারপতি সুশান্ত চট্টোপাধ্যায় কমিশন’-এর রিপোর্ট অবশেষে বিধানসভায় পেশ করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এই রিপোর্ট প্রকাশ্যে আসতেই প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভূমিকা ও তাঁর সরকারের বিরুদ্ধে বঞ্চনার অভিযোগ তুলে তীব্র আক্রমণ শানালেন তিনি।
প্রতিবেদনে কী কী অভিযোগ তুললেন মুখ্যমন্ত্রী?
আর্থিক বঞ্চনা: কমিশনের সুপারিশ ছিল নিহতদের পরিবারকে ২৫ লক্ষ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার। কিন্তু মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর অভিযোগ, বিগত সরকার তাঁদের মাত্র ২ লক্ষ টাকা দিয়ে দায় সেরেছে। আহতদের জন্য ৫ লক্ষ টাকার সুপারিশ থাকলেও দেওয়া হয়েছে মাত্র ১৫ হাজার টাকা।
রাজনৈতিক ব্যবহারের অভিযোগ: শুভেন্দু অধিকারীর স্পষ্ট দাবি, শহিদদের আত্মবলিদানকে শুধুমাত্র রাজনৈতিক কর্মসূচিতে সীমাবদ্ধ রাখা হয়েছে। তিনি বলেন, “যাঁদের ওপর দাঁড়িয়ে এই বাৎসরিক ‘ডিম-ভাত উৎসব’, তাঁদের প্রতি এই অবিচার গভীর অপরাধ।”
তথ্যের অসহযোগিতা: রিপোর্টে বিচারপতি সুশান্ত চট্টোপাধ্যায় উল্লেখ করেছেন যে, তৎকালীন সরকার কমিশনকে প্রয়োজনীয় নথি বা তথ্য দেয়নি। মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, তৎকালীন স্বরাষ্ট্রসচিব ও কিছু পুলিশ আধিকারিককে বাঁচাতেই কমিশনকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছিল।
সাক্ষ্য দিতে কেন যাননি মমতা?
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষী হওয়া সত্ত্বেও কেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কমিশনের সামনে যাননি, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, “বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য বা বিমান বসুর মতো নেতারা কমিশনের তলবে সাড়া দিয়েছিলেন। অথচ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে সাক্ষ্য দিতে যাননি, ভার্চুয়ালিও উত্তর দেননি।” প্রয়াত পঙ্কজ বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রসঙ্গ টেনে তিনি জানান, কমিশনে ৪৪ জন সাক্ষী গেলেও, সত্য আড়াল করতেই পুরো প্রক্রিয়াটি চালানো হয়েছিল।
বর্তমান সরকারের পদক্ষেপ ও হুঁশিয়ারি:
তথ্য প্রকাশ: বিগত সরকারের আমলের সব তথ্যের কাস্টোডিয়ান হিসেবে বর্তমান সরকার তা জনসমক্ষে আনতে প্রস্তুত। যে কেউ আরটিআই (RTI) করে এই রিপোর্ট বা নথিপত্র দেখতে পারবেন।
আইনি ব্যবস্থা: যদি দেখা যায় কোনো নথিপত্র ইচ্ছে করে গায়েব করা হয়েছে, তবে তৎকালীন দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিকদের বিরুদ্ধে এফআইআর করতে পিছপা হবে না বর্তমান সরকার।
শহিদ পরিবারের পাশে: ক্ষতিপূরণ বা নতুন করে আইনি লড়াইয়ের পথে যদি শহিদ পরিবারগুলো হাঁটতে চায়, তবে তাদের সম্পূর্ণ সহায়তা করবে বর্তমান সরকার।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “সত্য অমর। সত্যকে চাপা দেওয়া যায় না। দীর্ঘদিন পর আজ সত্যের উন্মোচন হলো।” এই রিপোর্ট ঘিরে আগামী দিনে শাসক-বিরোধী রাজনৈতিক লড়াই যে আরও তীব্র হতে চলেছে, তা নিশ্চিত।