তৃণমূল ছাড়ার গুঞ্জনের মাঝেই উত্তর কলকাতায় তীব্র চাঞ্চল্য! সাংসদ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবি দিয়ে পড়ল অবমাননাকর পোস্টার!

এনসিপিআই-তে মিশে যাওয়ার জল্পনার আবহে এবার উত্তর কলকাতার রাজনৈতিক ময়দানে নতুন করে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়াল। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের পর রাজ্য রাজনীতিতে জোর চর্চার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা অভিজ্ঞ সাংসদ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ যখন গভীর অনিশ্চয়তার মুখে, ঠিক তখনই তাঁর ছবি দিয়ে শহরের বিভিন্ন প্রান্তে রহস্যজনক পোস্টার পড়তে দেখা গেল। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শাসক শিবির থেকে শুরু করে বিরোধী মহলে তীব্র শোরগোল শুরু হয়েছে।
মঙ্গলবার সকালের আলো ফুটতেই উত্তর কলকাতার ব্যস্ততম লেবুতলা এলাকা সহ তালতলা বাস স্টপ, বিখ্যাত বঙ্গবাসী কলেজ চত্বর, এজেসি বোস কলেজ এবং ব্যস্ত ক্রিক রো-র একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দেওয়ালে এই পোস্টারগুলি নজরে আসে। পোস্টারে উত্তর কলকাতার হেভিওয়েট সাংসদ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবি ব্যবহার করে অত্যন্ত আপত্তিকর ভাষা লেখা হয়েছে। সেখানে লেখা হয়েছে, ‘বেইমান আর চোর টা, নয়না দিদির বরটা’। শুধু তাই নয়, এই সমস্ত পোস্টারের নিচে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণভাবে তাপস রায় ও কুণাল ঘোষের নাম লেখা রয়েছে, যা গোটা বিষয়টিকে আরও বেশি রহস্যজনক করে তুলেছে।
খুব স্বাভাবিকভাবেই এই দুই নাম প্রকাশ্যে আসতেই রাজনৈতিক মহলে ঝড় উঠেছে। বেলেঘাটার বিধায়ক তথা তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষ এবং মানিকতলার বিধায়ক ও রাজ্যের মন্ত্রী তাপস রায়ের নাম এর সঙ্গে জড়িয়ে যাওয়ায় জল্পনা বহুগুণ বেড়েছে। অতীতে তৃণমূলে থাকাকালীন তাপস রায়ের সঙ্গে সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব ছিল সর্বজনবিদিত, এবং পরবর্তীতে তাপস রায় দলত্যাগ করে বিজেপিতে যোগ দেন। অন্যদিকে, একই দলে থাকা সত্ত্বেও কুণাল ঘোষের সঙ্গে সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের শীতল যুদ্ধ বা প্রকাশ্য মতপার্থক্য কখনওই ঢাকা থাকেনি। এমনকি সুদীপ শিবির বদলের সিদ্ধান্ত নিতে চলেছেন এমন জল্পনা তৈরি হতেই কুণাল ঘোষ অত্যন্ত আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে তাঁর সমালোচনা করেছিলেন।
তবে এই পোস্টার ঘিরে জলঘোলা শুরু হতেই অভিযুক্ত দুই নেতাই নিজেদের এর থেকে পুরোপুরি দূরে সরিয়ে নিয়েছেন। কুণাল ঘোষ স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন যে সমাজে আরও অনেক কুণাল ঘোষ থাকতে পারে এবং ওই পোস্টারের সঙ্গে তাঁর কোনো যোগ নেই। তবে একই সঙ্গে তিনি এও যোগ করেছেন যে পোস্টারে সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়কে ‘বেইমান’ বা বিশ্বাসঘাতক বলা হয়েছে, সেই বক্তব্যের সঙ্গে তিনি পুরোপুরি সহমত পোষণ করেন এবং সাধারণ মানুষও তা সমর্থন করবে। অন্যদিকে, শিল্পমন্ত্রী তাপস রায়ও এই পোস্টারের সঙ্গে তাঁর কোনো ধরনের সম্পৃক্ততা জোরালোভাবে অস্বীকার করেছেন। তিনি দাবি করেছেন যে তাপস রায় নামে বহু মানুষ থাকতে পারেন এবং তিনি নিজে উত্তর কলকাতায় বসবাস করার সুবাদে জানেন যে ওই সাংসদ ও তাঁর পত্নী তথা বিধায়ক নয়না বন্দ্যোপাধ্যায়ের ওপর সাধারণ মানুষ চরম ক্ষুব্ধ। সবমিলিয়ে, এই পোস্টারকাণ্ডকে কেন্দ্র করে উত্তর কলকাতার রাজনৈতিক পারদ এখন চড়রম পর্যায়ে পৌঁছেছে।