তেজস প্রকল্পের সবচেয়ে বড় জট কাটল! F404 ইঞ্জিন সরবরাহ বাড়াতে বিশেষ প্রোডাকশন লাইন শুরু করল মার্কিন সংস্থা GE

ভারতীয় বায় সেনার (IAF) গর্বের দেশীয় যুদ্ধবিমান ‘তেজস এমকে-১এ’ (Tejas MK-1A)-এর উৎপাদন প্রক্রিয়াকে দ্রুত গতিতে পাকে ফিরিয়ে আনতে এগিয়ে এসেছে মার্কিন সংস্থা জিই অ্যারোস্পেস (GE Aerospace)। সংস্থাটি তাদের বিখ্যাত এফ৪০৪-আইএন২০ (F404-IN20) ইঞ্জিনের জন্য একটি বিশেষ এবং এক্সক্লুসিভ প্রোডাকশন লাইন চালু করেছে। বিগত দুই বছর ধরে ইঞ্জিনের এই তীব্র আকাল ও সংকটই ছিল এই উচ্চাভিলাষী প্রকল্পের সবচেয়ে বড় প্রধান বাধা, যার ফলে হিন্দুস্তান অ্যারোনটিক্স লিমিটেড (HAL)-এর পক্ষ থেকে ফাইটার জেটের এয়ারফ্রেম সম্পূর্ণ প্রস্তুত থাকা সত্ত্বেও বিমানের সময়মতো ডেলিভারি আটকে ছিল।
ইতিমধ্যে হিন্দুস্তান অ্যারোনটিক্স লিমিটেড (HAL) জিই (GE)-এর কাছ থেকে মোট সাতটি নতুন এফ৪০৪-আইএন২০ ইঞ্জিন হাতে পেয়ে গেছে। শুধু তাই নয়, এর আগে সরবরাহ করা ষষ্ঠ ইঞ্জিনটিতে যে যান্ত্রিক বা প্রযুক্তিগত ত্রুটি দেখা দিয়েছিল, তা সফলভাবে মেরামত ও ঠিক করে এখন অপারেশনাল বা কার্যক্ষম ব্যবহারের জন্য পুরোপুরি পাশ করিয়ে দেওয়া হয়েছে।
ডেলিভারি সংক্রান্ত নতুন অনুমান অনুযায়ী, মার্কিন সংস্থা জিই অ্যারোস্পেস ভারতকে সম্পূর্ণভাবে আশ্বস্ত করেছে যে তারা ২০২৬ সালের শেষ নাগাদ ভারতকে মোট ২০ থেকে ২২টি নতুন ইঞ্জিন সরবরাহ করবে এবং পরবর্তীতে ২০২৭ সালে আরও ৩০টি ইঞ্জিন হস্তান্তর করা হবে। ইঞ্জিনের এই নিয়মিত ও নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ শুরু হওয়ার ফলে এইচএএল (HAL) তাদের বেঙ্গালুরু এবং নাশিক প্ল্যান্টে বা উৎপাদন কেন্দ্রে কাজ আরও দ্রুত গতিতে বাড়িয়ে প্রতি বছর প্রায় ২৪ থেকে ৩০টি করে যুদ্ধবিমান তৈরির উচ্চাকাঙ্ক্ষী লক্ষ্য অর্জন করতে চায়।
ভারতীয় বায় সেনার তরফ থেকে বিশাল অর্ডারের বহর পাঠানো হয়েছে। ভারতীয় বায়ুসেনা (IAF) এ পর্যন্ত মোট ১৮০টি তেজস এমকে-১এ যুদ্ধবিমানের জন্য জোরালো অর্ডার দিয়েছে। এর মধ্যে ৮৩টি বিমানের ঐতিহাসিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল ২০২১ সালে এবং পরবর্তীতে আরও ৯৭টি অতিরিক্ত বিমানের চুক্তি সম্পন্ন হয় ২০২৫ সালে। এত বিশাল সংখ্যক বিমানের অর্ডার থাকার সুবাদে ভারত এখন বিশ্বজুড়ে জিই এফ৪০৪ ইঞ্জিনের সবচেয়ে বড় ক্রেতা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে।
তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ কী? ইঞ্জিনের এই মারাত্মক সংকট কাটিয়ে ওঠার পর এখন সবচেয়ে বড় মাথা ব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে প্রযুক্তিগত ইন্টিগ্রেশন বা টেকনিক্যাল একীকরণ। বিমানের সঙ্গে যুক্ত ইসরায়েলি ইএল/এম-২০৫২ এসা (EL/M-2052 AESA) রডায়ার, আধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার (EW) সিস্টেম এবং দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি অস্ত্র (Astra) মিসাইলের সফটওয়্যারের মধ্যে নিখুঁত সামঞ্জস্য বা তালমেল বিধান করার কাজটি বর্তমানে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় চলছে।
তেজস এমকে-১এ-এর প্রথম খণ্ড বা প্রথম ব্যাচ খুব শীঘ্রই হাতে পাওয়ার উজ্জ্বল সম্ভাবনা রয়েছে। ভারতীয় বায়ুসেনা অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছে যে তারা এয়ার স্টাফের নির্দিষ্ট চাহিদা ও মানদণ্ড অনুযায়ী সম্পূর্ণভাবে প্রস্তুত এবং সার্টিফিকেটপ্রাপ্ত কমব্যাট এয়ারক্রাফট বা যুদ্ধবিমানই কেবল গ্রহণ করবে। তবে এই সমস্ত ছোট-বড় বাধা সফলভাবে অতিক্রম করে আশা করা হচ্ছে যে তেজস এমকে-১এ-এর প্রথম ব্যাচ বা প্রথম চালান খুব শীঘ্রই ভারতীয় বায়ুসেনার বহরে যুক্ত হতে শুরু করবে।