‘অপরাধ থেকে বাঁচতে ভুয়া নথির আশ্রয়!’ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিদেশযাত্রা বিতর্ক নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য দিলীপ ঘোষের

মঙ্গলবার সকালে কলকাতার ইকোপার্কে প্রাতঃভ্রমণ সেরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ও সমসাময়িক রাজনৈতিক ইস্যুতে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছেন প্রবীণ বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষ। সাম্প্রতিক এনডিএ বৈঠকে এনসিপি (অজিত পাওয়ার শিবির)-এর যোগদানকে অত্যন্ত ইতিবাচকভাবে স্বাগত জানিয়ে তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন যে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর দেশের উন্নয়নের দূরদর্শী কর্মসূচিকে যদি আগামী দিনে আরও রাজনৈতিক দল সমর্থন জানায়, তবে তা প্রকারান্তরে দেশের সাধারণ মানুষেরই প্রভূত কল্যাণ সাধন করবে। তাঁর জোরালো দাবি, বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে ভবিষ্যতে আরও বহু রাজনৈতিক দল স্বতঃস্ফূর্তভাবে এনডিএ-র পাশে এসে দাঁড়াবে।

অন্যদিকে, কলকাতার মৌলালিতে এসএফআইয়ের একটি মিছিলের ভাইরাল হওয়া বিতর্কিত ছবি এবং তার ফ্যাক্ট-চেক প্রসঙ্গে মুখ খুলে দিলীপ ঘোষ অত্যন্ত কড়া ভাষায় জানান যে, যারা এই ধরনের সম্পূর্ণ ভুয়ো বা বিভ্রান্তিকর ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে অহেতুক উত্তেজনা তৈরি করেছে, প্রশাসন ও সাইবার বিশেষজ্ঞদের উচিত তাদের বিরুদ্ধে কঠোর থেকে কঠোরতম আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা। একইসঙ্গে সিজেপির ডাকা সাম্প্রতিক আন্দোলন প্রসঙ্গ টেনে তিনি আক্রমণ শানিয়ে বলেন যে, গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে আন্দোলন করার মৌলিক অধিকার সকলেরই রয়েছে, কিন্তু সেই আন্দোলনের পেছনে কোনো শক্ত ও যুক্তিযুক্ত ভিত্তি থাকা আবশ্যিক। দেশের বিভিন্ন রাজ্যে বিভিন্ন সময়ে প্রশ্নফাঁস বা কেলেঙ্কারির ঘটনা ঘটলেও সংশ্লিষ্ট রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের জোরালো দাবি সেইভাবে ওঠে না, অথচ একমাত্র পশ্চিমবঙ্গেই রাজনৈতিক স্বার্থ চরিতার্থ করার উদ্দেশ্যে সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এই ধরনের আন্দোলন তৈরি করা হচ্ছে বলে তিনি তীব্র অভিযোগ করেন।

এছাড়াও, নবান্নের পক্ষ থেকে সিন্ডিকেট রাজ ও সাধারণ মানুষের নানা অভাব-অভিযোগ সরাসরি জানানোর জন্য নতুন কন্ট্রোল রুম চালুর উদ্যোগকে কুর্নিশ জানিয়ে দিলীপ ঘোষ বলেন যে, বহু ক্ষেত্রেই দেখা যায় সাধারণ মানুষ চরম সমস্যায় পড়লেও স্থানীয় পুলিশ থানা অনেক সময় সঠিক অভিযোগ গ্রহণ করতে চায় না। তাই প্রশাসনিক ব্যবস্থার ফাঁকফোকড় গলে কোথায় কী ধরনের সমস্যা হচ্ছে, সেই সঠিক তথ্য সরাসরি যাতে উচ্চপর্যায়ের সরকারের কাছে এসে পৌঁছায়, তা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। তিনি রাজ্যবাসীকে আশ্বস্ত করে জানান যে, বিভিন্ন সরকারি দফতরের পাশাপাশি এবার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পঞ্চায়েত দফতরেও একটি নতুন টোল-ফ্রি নম্বর চালু করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যাতে কোথাও কোনো সরকারি কাজ আটকে গেলে কিংবা সাধারণ মানুষের কোনো গুরুতর অভিযোগ থাকলে তা সরাসরি সেই নম্বরে ফোন করে জানানো যায়। তাঁর দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে স্পষ্ট হয়ে ওঠে যে, বাংলার সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় যাতে কোনোভাবেই দলীয় দুর্নীতি বা লালফিতের ফাঁসের কারণে প্রশাসনিক বাধা সৃষ্টি না হয়, সেই লক্ষ্যেই রাজ্য সরকার এই বিশেষ পরিকাঠামো গড়ে তোলার ব্যবস্থা নিচ্ছে।

সবশেষে, তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাম্প্রতিক বিদেশযাত্রার জন্য कथित জাল ডাক্তারি শংসাপত্র বা মেডিকেল সার্টিফিকেট ব্যবহারের গুরুতর অভিযোগ নিয়েও সংবাদমাধ্যমের সামনে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন বিজেপি নেতা। এই বিষয়ে অত্যন্ত আক্রমণাত্মক সুরে দিলীপ ঘোষ বলেন, “আইনি অপরাধ বা বিচারব্যবস্থার হাত থেকে বাঁচার জন্য যদি কোনো ব্যক্তি সচেতনভাবে ভুয়া নথিপত্রের বা সার্টিফিকেটের আশ্রয় নেন, এবং কোনো চিকিৎসক যদি জেনেশুনে সেই বেআইনি কাজে সহযোগিতা করে থাকেন, তবে সংশ্লিষ্ট সকলেরই অত্যন্ত সতর্ক হওয়া উচিত। কেউ যদি অতিরিক্ত ভয় পেয়ে বা অন্য কোনো অস্বাভাবিক পরিস্থিতিতে পড়ে এমন ভুল কাজ করেও থাকেন, তবুও প্রমাণিত অন্যায় করলে তাঁকে আইন অনুযায়ী শাস্তি পেতেই হবে। নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে খুব শীঘ্রই সমস্ত সত্য ঘটনা দেশের মানুষের সামনে পরিষ্কার হয়ে যাবে।”