তৃণমূল ছাড়তেই আইনি ফাঁসে মানস ভুঁইয়া, গ্রেফতারির আশঙ্কায় রক্ষাকবচ চেয়ে ছুটলেন হাইকোর্টে

পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের আবহে রাজ্যের প্রাক্তন সেচমন্ত্রী তথা দাপুটে নেতা মানস ভুঁইয়াকে ঘিরে ঘনিয়ে এল আইনি জটিলতার মেঘ। সবংয়ের দীর্ঘদিনের বিধায়ক ও প্রাক্তন মন্ত্রী সম্প্রতি তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে সমস্ত সম্পর্ক ছিন্ন করলেও, পুরোনো একাধিক কর্মকাণ্ডের জেরে এখন তিনি চূড়ান্ত বিপাকে। সম্প্রতি তাঁর বিরুদ্ধে সবং থানায় একটি এফআইআর (FIR) দায়ের হয়েছে, যেখানে চাকরি পাইয়ে দেওয়ার নাম করে মোটা অঙ্কের টাকা আত্মসাতের গুরুতর অভিযোগ তোলা হয়েছে।

ঘটনার সূত্রপাত সবংয়ের বিষ্ণুপুর গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার এক বাসিন্দার অভিযোগ থেকে। অভিযোগকারীর দাবি, বিধানসভা নির্বাচনের আগে তাঁর স্ত্রীর চাকরির ব্যবস্থা করে দেওয়ার নাম করে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে মানস ভুঁইয়ার নাম সামনে আসে। শেখ আবু কালান বক্স এবং ভোলানাথ দে নামে দুই ব্যক্তির মাধ্যমে প্রাক্তন মন্ত্রীর হস্তক্ষেপে স্থানীয় তেমাথানী ইরিগেশন বাংলোয় ওই মহিলার চাকরির ব্যবস্থা হয়। অভিযোগ, এই পুরো প্রক্রিয়ার বিনিময়ে সংশ্লিষ্টদের হাতে পাঁচ লক্ষ টাকা তুলে দেওয়া হয়েছিল। চলতি বছরের ১ মার্চ ওই মহিলা চাকরিতে যোগও দেন এবং প্রথম মাসের বেতন হিসেবে ১০ হাজার ৭৪৭ টাকা পান। কিন্তু পরিস্থিতি আচমকাই বদলে যায় মাত্র দু’মাসের মাথায়। ৬ মে ওই মহিলাকে হঠাৎই চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়, যা হোয়াটসঅ্যাপ বার্তার মাধ্যমে তাঁকে জানানো হয়।

এই ঘটনার পরেই প্রতারিত দম্পতি সবং থানার দ্বারস্থ হন। পুলিশের দায়ের করা এফআইআর-এ মানস ভুঁইয়া ছাড়াও অভিযুক্ত দুই ব্যক্তির নাম রয়েছে। সবং থানার পুলিশ ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS)-এর ৩১৮(৪) এবং ৬১(২) ধারায় মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করেছে। এদিকে, গ্রেফতারির প্রবল সম্ভাবনা ও আইনি চাপ থেকে বাঁচতে প্রাক্তন মন্ত্রী কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন। বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের এজলাসে তিনি রক্ষাকবচের জন্য আবেদন জানিয়েছেন।

তবে এই সমস্ত অভিযোগকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও রাজনৈতিক অভিসন্ধিমূলক বলে উড়িয়ে দিয়েছেন মানস ভুঁইয়া। ৫৬ বছরের দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি কারও থেকে একটি সুপারিও নেননি বলে দাবি করে তিনি জানিয়েছেন, আইন আইনের পথে চলবে। তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে এখন তদন্তকারী অফিসারদের ভূমিকা এবং হাইকোর্টের নির্দেশের দিকেই তাকিয়ে রয়েছে রাজ্যের রাজনৈতিক মহল।