বৃদ্ধার সই জাল করে জমি দখল! তৃণমূল পঞ্চায়েত প্রধানের বিরুদ্ধে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ

উত্তর ২৪ পরগনার হাসনাবাদ থানার ভেবিয়া পঞ্চায়েতের সাদিগাছি এলাকায় চাঞ্চল্যকর জমি দখলের অভিযোগ ঘিরে সরগরম রাজ্য রাজনীতি। অভিযোগ, এক অসহায় বৃদ্ধার সই জাল করে তাঁর কেনা জমি বেআইনিভাবে হাতিয়ে নিয়েছেন স্থানীয় তৃণমূল পঞ্চায়েত প্রধান ওলিউল মণ্ডল। এই ঘটনায় শুধু জমি হাতছাড়া হওয়ার আতঙ্ক নয়, বরং শাসকদলের দাপুটে নেতার বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন ভুক্তভোগী বন্দনা ভট্টাচার্য।
২০১৯ সালে বন্দনা ভট্টাচার্য সাদিগাছি এলাকায় তাঁর কষ্টের উপার্জনে কিছু জমি ক্রয় করেছিলেন। বছর কয়েক পর হঠাৎই তিনি জানতে পারেন, তাঁর ওই জমির একটি উল্লেখযোগ্য অংশ ভেবিয়া পঞ্চায়েতের তৃণমূল প্রধান ওলিউল মণ্ডলের স্ত্রী তহমিনা পারভিন মণ্ডলের নামে নথিভুক্ত (রেকর্ড) হয়ে গিয়েছে। প্রথমে বিষয়টি বিশ্বাস করতে না পারলেও, পরবর্তীতে নথিপত্র খতিয়ে দেখে বৃদ্ধা নিশ্চিত হন যে, তাঁর সই জাল করেই এই কারসাজি করা হয়েছে। বন্দনা দেবীর অভিযোগ, “ওলিউল মণ্ডল ক্ষমতার অপব্যবহার করে আমার জমি দখল করেছেন। এই ঘটনার পর থেকে আমি চরম মানসিক দুশ্চিন্তায় দিন কাটাচ্ছি।”
আক্রান্ত বৃদ্ধার দাবি, এই জালিয়াতির ঘটনা সামনে আসতেই তিনি তৎকালীন প্রশাসনের দ্বারস্থ হয়ে হাসনাবাদ বিএলআরও (BLRO) অফিস এবং হাসনাবাদ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছিলেন। কিন্তু দীর্ঘ সময় পার হয়ে গেলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো সদর্থক পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি, উল্টে অভিযোগ ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা হয়েছে বলে তাঁর দাবি। তবে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর, ন্যায়বিচারের আশায় আবারও নতুন করে থানা ও বিএলআরও অফিসে অভিযোগ জানিয়েছেন ওই বৃদ্ধা।
অন্যদিকে, নিজের বিরুদ্ধে ওঠা এই গুরুতর অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন ভেবিয়া পঞ্চায়েতের প্রধান ওলিউল মণ্ডল। তিনি বলেন, “রাজনৈতিক চক্রান্ত করে আমাকে ফাঁসানোর জন্য কেউ বা কারা আমার স্ত্রীর নামে জমিটি রেকর্ড করিয়ে দিয়েছে। আমি বা আমার স্ত্রী এর বিন্দুবিসর্গও জানি না। বিষয়টি জানতে পারার পর আমি নিজেই বিএলআরও অফিসে জমিটি ফেরানোর আবেদন করেছি। আমি কোনো অপরাধের সঙ্গে যুক্ত নই।”
নেতার এই দাবিকে কার্যত উড়িয়ে দিয়ে বৃদ্ধা এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ সঠিক তদন্তের দাবি তুলেছেন। অভিযুক্ত তৃণমূল নেতার দাবি যাই হোক, সরকারি নথিতে কীভাবে অন্যের জমি জাল সইয়ের মাধ্যমে হস্তান্তরিত হলো, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে সাধারণ মানুষ। অসহায় বৃদ্ধা এখন প্রশাসনের সর্বোচ্চ হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন, যাতে তিনি তাঁর প্রাপ্য জমি ফেরত পান এবং দোষীরা কঠোর শাস্তির সম্মুখীন হয়।