তৃণমূলে ভাঙন চওড়া! ৬৪ বিধায়ক নিয়ে মমতাকে বড় চ্যালেঞ্জ ঋতব্রতর

দিল্লিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক তৎপরতা বাড়তেই তুঙ্গে উঠেছে জল্পনা। কংগ্রেস হাইকম্যান্ডের সঙ্গে তাঁদের ঘনঘন বৈঠক কি তৃণমূলের অস্তিত্ব বিলীনের ইঙ্গিত? এই প্রশ্নের মাঝেই বিস্ফোরক মন্তব্য করলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা তথা তৃণমূলের বিদ্রোহী শিবিরের প্রধান ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়।

কী বললেন ঋতব্রত? দিল্লিতে মমতা-অভিষেকের সঙ্গে কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্বের বৈঠক এবং তৃণমূলের একাংশের কংগ্রেসে যোগ দেওয়ার গুঞ্জন নিয়ে ঋতব্রত বলেন, ‘‘আমরা তো তৃণমূল কংগ্রেসেই আছি। আমরা কোথাও মিশে যাচ্ছি না। আমাদের পরিষদীয় দল, সাংসদ এবং জেলা স্তরের নেতৃত্ব—সবাইকে নিয়েই বলছি, কেউ কংগ্রেসের সঙ্গে মিশছে না।’’

তিনি আরও জোর দিয়ে বলেন, ‘‘অধিকাংশ বিধায়ক ও সাংসদ আমাদের সঙ্গে রয়েছেন। কংগ্রেসের সঙ্গে মিশে যাওয়ার প্রশ্নই ওঠে না।’’

বিদ্রোহী শিবিরে বাড়ছে শক্তি? ঋতব্রতর দাবি, মমতা-অভিষেকের দিল্লি সফরের মধ্যেই তাঁর ‘বিদ্রোহী’ শিবিরে যোগদানের সংখ্যা বাড়ছে। তিনি জানান, আগে বিদ্রোহী বিধায়কের সংখ্যা ৫৮ থাকলেও, বর্তমানে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬৪-এ। ঋতব্রতর কথায়, ‘‘সংখ্যাটা ৬৪ পার করে গিয়েছে। প্রতিদিন নতুন নতুন বিধায়ক আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন। আমরা খুব শীঘ্রই এ বিষয়ে স্পিকারকে আলাদাভাবে চিঠি দেব।’’

জোড়াফুল প্রতীকের লড়াই কি আসন্ন? যদি শেষ পর্যন্ত মমতা-অভিষেক তাঁদের অনুগামীদের নিয়ে কংগ্রেসে মিশে যান, তবে তৃণমূলের নির্বাচনী প্রতীক ‘জোড়াফুল’ কার দখলে থাকবে? এই প্রশ্নের উত্তরে কিছুটা রহস্য বজায় রাখলেন ঋতব্রত। তিনি বলেন, ‘‘আগামীকাল কী হবে, তা আজকের পরিস্থিতির নিরিখে বলা সম্ভব নয়। রাজনীতির ময়দানে পরিস্থিতি দ্রুত বদলায়। আমরা সময়ের অপেক্ষায় আছি। কাল কী হবে, তা কালই দেখা যাবে।’’

তৃণমূলের অন্দরের এই দ্বিমুখী টানাপোড়েন এবং মমতা-অভিষেকের দিল্লি সফর নিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে এখন চরম উত্তেজনা। ঋতব্রতর এই দাবি যে তৃণমূলের অন্দরে ফাটল আরও বড় আকার নিল, তা বলাই বাহুল্য। এখন শেষ পর্যন্ত জোড়াফুল কার হাতে থাকে, সেটাই দেখার অপেক্ষায় রাজনৈতিক মহল।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy