তৃণমূলে ভাঙনের গুঞ্জন! শমীক ভট্টাচার্যের সঙ্গে ১৭ মিনিট গোপনে কী কথা বললেন কল্যাণ?

কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাগ, একুশের মঞ্চে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে প্রকাশ্যে কথা কাটাকাটি এবং রেগেমেগে মঞ্চ ত্যাগ—এই সমস্ত ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই রাজ্য রাজনীতিতে শুরু হয়েছে নতুন জল্পনা। সমস্ত আলোচনার কেন্দ্রে এখন মমতাপন্থী হিসেবে পরিচিত তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বর্তমান রাজনৈতিক অবস্থান। বিশেষ করে বুধবার বিজেপি-র রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের সঙ্গে তাঁর দীর্ঘ কথোপকথন এবং সেই আসরে মহুয়া মৈত্রের উপস্থিতি রাজনীতির অন্দরে বড় কোনো সমীকরণ বদলের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
লোকসভায় তৃণমূলের যে গুটিকয়েক সাংসদ এখনও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশে অনড় রয়েছেন, তাঁদের মধ্যে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় ও মহুয়া মৈত্র অন্যতম। যখন একে একে বহু সাংসদ অন্য রাজনৈতিক শিবিরে ভিড় করছেন, তখনও এই দুই নেতা-নেত্রী দলীয় পক্ষে সরব। কিন্তু বুধবারের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও তাঁদের গতিবিধি সম্পূর্ণ ভিন্ন অঙ্ককে সামনে এনে ফেলেছে।
১৭ মিনিট ধরে কী কথা হলো শমীক ও কল্যাণের?
লোকসভায় সাসপেন্ড হওয়ার পর কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে দেখা যায় বিজেপি রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের সঙ্গে উষ্ণ হ্যান্ডশেক করতে। এরপর দু’জনে প্রায় ১৭ মিনিট ধরে দীর্ঘ আলোচনা করেন। স্বাভাবিকভাবেই এই বৈঠক ঘিরে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয় নানা প্রশ্ন।
এই বিষয়ে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে শমীক ভট্টাচার্য বলেন, “২৭ মিনিট কথা হলে আরও ভালো হতো। ওদিকে রোদ থাকায় বেশিক্ষণ কথা বলা যায়নি, নাহলে আরও আলোচনা হতো।” বৈঠকের বিষয়বস্তু সম্পর্কে তাঁর সাফাই, “রাজনীতি নিয়ে কোনও কথা হয়নি। ব্যক্তিগত জীবনের তাপ-উত্তাপ ও সামাজিক পরিস্থিতি নিয়েই আলোচনা হয়েছে।” তবে কল্যাণকে লোকসভা থেকে সাসপেন্ড করা প্রসঙ্গে শমীক স্পষ্ট ভাষায় জানান, লোকসভার গরিমা নষ্ট হলে ব্যবস্থা তো নেওয়া হবেই, পাশাপাশি তৃণমূলের অন্দরের দ্বন্দ্বের দিকে ইঙ্গিত করে তিনি যোগ করেন যে, “পারিবারিক ঝামেলা এখানে নিয়ে আসবেন না।”
মমতার প্রতি ক্ষোভ ও অন্দরের টানাপোড়েন
এই সমস্ত বিতর্কের মূল সূত্রপাত ঘটে গত ২১ জুলাই শহিদ দিবসের মঞ্চে। জনসভার শেষ লগ্নে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় হতে দেখা যায়। এরপর সংবাদমাধ্যমের সামনে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করে কল্যাণ বলেন, “দিদিকে ভালোবাসি, শ্রদ্ধা করি, দিদির জন্য সব করতে রাজি। কিন্তু দিদি যদি মনে করেন যা ইচ্ছা বলবেন, তাতেই সব হবে, তা হবে না। দিদি যদি মনে করেন অভিষেক আর ডেরেক যা বলবে, তাই হবে, তা চলবে না। দিদিকে বাস্তবটা বুঝতে হবে।” তৃণমূলের অন্দরের এই দ্বন্দ্ব এবং শীর্ষ নেতৃত্বের বিরুদ্ধে কল্যাণের এই প্রকাশ্য অসন্তোষ দলের অন্দরে ফাটল চওড়া করছে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।