রাজ্য বিধানসভায় হারের পর এবার দিল্লি পর্যায়েও অস্তিত্ব রক্ষার লড়াইয়ে তৃণমূল কংগ্রেস। সূত্রের খবর, সোমবার সকাল থেকেই রাজধানী দিল্লিতে রাজনৈতিক তৎপরতা তুঙ্গে। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদবের বাসভবনে তৃণমূলের অন্তত ৬ জন বিদ্রোহী সাংসদ উপস্থিত হন এবং পরবর্তীকালে বাংলার মুখ্যমন্ত্রী তথা বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে তাঁদের দীর্ঘ বৈঠক হয়।
সাংসদদের শিবিরে ভাঙন: খবর অনুযায়ী, মোট ১৪ জন তৃণমূল সাংসদ শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে এই বৈঠকে শামিল হয়েছেন। যদিও আনুষ্ঠানিকভাবে এখনও কেউ দলত্যাগের ঘোষণা করেননি, তবে যে সাংসদদের ছবি প্রকাশ্যে এসেছে, তাঁদের মধ্যে রয়েছেন অরূপ চক্রবর্তী (বাঁকুড়া), শর্মিলা সরকার (পূর্ব বর্ধমান), প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায় (হাওড়া), জগদীশ বসুনিয়া (কোচবিহার) এবং কালীপদ সোরেন (ঝাড়গ্রাম)-এর মতো হেভিওয়েট নেতারা।
রাজনৈতিক সমীকরণ: বিধানসভা নির্বাচনের পর থেকেই তৃণমূলের অন্দরে বিদ্রোহ দানা বাঁধতে শুরু করেছিল। সম্প্রতি দলের সমস্ত সাংগঠনিক কমিটি ভেঙে দেওয়ার পরেও বিদ্রোহের আঁচ কমেনি। উল্টোদিকে, বিধানসভায় ইতিমধ্যে তৃণমূলের একাংশ ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা হিসেবে ঘোষণা করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রকাশ করেছে। আর এবার দিল্লির সাংসদদের এই দলবদ্ধ বৈঠক তৃণমূলের জন্য এক ভয়াবহ বিপর্যয় হিসেবে দেখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
কী হতে পারে পরবর্তী পদক্ষেপ? রাজ্য এবং কেন্দ্র—উভয় জায়গাতেই তৃণমূলের এই গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব ও বিদ্রোহের ফলে সংসদের সমীকরণ বদলে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিদ্রোহীদের পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে এবং তাঁরা আদৌ বিজেপিতে যোগ দেবেন কি না, তা নিয়ে এখন তুঙ্গে জল্পনা।
তৃণমূল কংগ্রেসের এই সংকটময় মুহূর্তে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কৌশলী অবস্থান কী হয়, তা এখন দেখার বিষয়।





