তৃণমূলের দশা দেখে তোপ দিলীপের, ‘কালি শুকোনোর আগেই দল শেষ, পড়ে রইল শুধু পিসি-ভাইপো!’

বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণার মাস না পেরোতেই তৃণমূল কংগ্রেসের চরম বিপর্যয় এবং দল ভাঙার ঘটনায় রাজ্য রাজনীতিতে শোরগোল পড়ে গেছে। বিরোধী দলনেতা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দীর্ঘ টানাপড়েন এবং পরবর্তীকালে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ও সন্দীপন সাহার হাত ধরে ‘ভাল তৃণমূল’ গঠনের ঘটনা নবান্নের অন্দরে গভীর সংকটের ইঙ্গিত দিচ্ছে। ৫৮ জন বিধায়কের সমর্থন নিয়ে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় রাজ্যের বিরোধী দলনেতা হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়ার পরই তৃণমূলের এই ‘ছন্নছাড়া’ অবস্থা নিয়ে তোপ দাগলেন রাজ্যের মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ।

শুক্রবার একটি বৃক্ষরোপণ অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে দিলীপ ঘোষ বলেন, “ভোটের কালি এখনও আঙুল থেকে শুকোয়নি, তার আগেই তৃণমূল দলটা কার্যত উঠে গেল। আমরা বারবার সতর্ক করেছিলাম যে, তৃণমূল হেরে গেলে এই দলটার আর কোনো অস্তিত্ব থাকবে না। শুধু দুজন ব্যক্তি বাকি থাকবে—পিসি এবং ভাইপো। ঠিক সেটাই বাস্তবে পরিণত হয়েছে।”

দিলীপের দাবি, তৃণমূলের বিধায়ক ও সাংসদরা পর্যন্ত এখন দলের সঙ্গে নেই। তিনি বলেন, “সবাই যে যার মতো অন্য দিকে পালাচ্ছে, নতুনভাবে খেলছে। অবাক লাগে এরা কীভাবে জিতেছিল! পঞ্চায়েত থেকে পুরসভা—সর্বত্রই এরা ডুবতে শুরু করেছে। চোরদের দলের চরিত্রই এমন। রাতারাতি এরা যেমন গজিয়ে ওঠে, তেমনি রাতারাতি শেষ হয়ে যায়।”

এদিন রাজ্যের প্রভাবশালী নেতা স্বরূপ বিশ্বাসের গ্রেফতারি প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে মন্ত্রী আরও সুর চড়ান। তিনি বলেন, “স্বরূপ বিশ্বাসের গ্রেফতারির পর আরও অনেক চাঞ্চল্যকর অভিযোগ সামনে আসবে। এতদিন মানুষ ভয়ে মুখ খোলেনি। এরা পুরো ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিকে শোষণের মাধ্যমে শেষ করে দিয়েছে। আমি চাই, যারা এখনও অভিযোগ জানাননি, তারা নির্ভয়ে এগিয়ে আসুন। মানুষ জানুক, তৃণমূল নিজেদের ক্ষমতার অপব্যবহার করে কতটা দুর্নীতি করেছে।”

সম্প্রতি রাজ্যে একাধিক তৃণমূল নেতার দিকে ডিম ছোড়ার ঘটনা নিয়ে দিলীপ ঘোষের মন্তব্য রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তিনি কটাক্ষ করে বলেন, “হরিণঘাটার ডিমের দাম এবার বাড়িয়ে দিতে হবে, কারণ বাজারে ক্রাইসিস শুরু হয়েছে। সাধারণ মানুষ এখন তৃণমূল নেতাদের বিনামূল্যে ডিম খাওয়াচ্ছে। আইন নিজের হাতে না তুলে নিয়ে সাধারণ মানুষ যে প্রতিবাদ জানাচ্ছে, তা বেশ ভালো ব্যবস্থা।”

‘একটি গাছ মায়ের নামে’ অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে সিআইআই সুরেশ নেওটিয়া সেন্টারে বৃক্ষরোপণ করেন মন্ত্রী। সেখান থেকেই তৃণমূলের এই টালমাটাল পরিস্থিতির ওপর তীক্ষ্ণ নজর রেখে তিনি বার্তা দিলেন যে, দুর্নীতিমুক্ত পশ্চিমবঙ্গ গড়াই এখন বর্তমান সরকারের লক্ষ্য। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, যেভাবে তৃণমূলে গণ-পদত্যাগ ও দলবদলের হিড়িক পড়েছে, তাতে আগামী কয়েকদিন তৃণমূলের অন্দরে অস্থিরতা আরও বাড়বে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy