মোদীকে নিয়ে AI-এর অপব্যবহার! মেটা ইন্ডিয়ার প্রধানের বিরুদ্ধে কড়া ফৌজদারি মামলা হায়দরাবাদ পুলিশের

সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামে দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ছবি ও ভিডিও মর্ফ (Morphed) করে এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই (AI) প্রযুক্তির সাহায্য নিয়ে অত্যন্ত কুরুচিকর কনটেন্ট ছড়ানোর অভিযোগে বড়সড় আইনি বিপাকে পড়ল মার্ক জাকারবার্গের সংস্থা ‘মেটা’ (Meta)। এই চাঞ্চল্যকর ঘটনার জেরে মেটা ইন্ডিয়ার প্রধান অরুণ শ্রীনিবাসের (Arun Srinivas)-এর বিরুদ্ধে কঠোর ফৌজদারি মামলা রুজু করেছে হায়দরাবাদ পুলিশ। একই সঙ্গে বেশ কিছু ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট অপারেটরের বিরুদ্ধেও সাইবার ক্রাইম শাখায় এফআইআর দায়ের করা হয়েছে।
ঠিক কী অভিযোগ উঠেছে?
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মূলত দুই ব্যক্তির করা সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে এই জোড়া এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। অভিযোগকারীরা হলেন ২৯ বছর বয়সি এক স্থানীয় ব্যবসায়ী এস অরবিন্দ রেড্ডি এবং তেলেঙ্গানা বিজেপির সক্রিয় কর্মী টি সাইকিরণ গৌড়।
তাঁদের প্রধান অভিযোগ, সম্প্রতি ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (CJP)-র আন্দোলন চলাকালীন সোশ্যাল মিডিয়ায় তাঁদের নজরে আসে যে, ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে লক্ষ্য করে একাধিক এআই-জেনারেটেড বিকৃত ও আপত্তিকর ভিডিও এবং ছবি ইচ্ছাকৃতভাবে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। যেখানে প্রধানমন্ত্রীকে অত্যন্ত অশালীন ও বিভ্রান্তিকর ভঙ্গিতে তুলে ধরা হয়েছে। অভিযোগপত্রে স্পষ্ট জানানো হয়েছে যে, এই ধরণের কুরুচিকর কনটেন্ট জনমানসে মারাত্মক ভুল বার্তা ছড়ানোর পাশাপাশি সমাজে চরম অসন্তোষ ও বিশৃঙ্খলা তৈরি করতে পারে।
মেটার ভূমিকা ও সাইবার ক্রাইমের তদন্ত
হায়দরাবাদ সাইবার ক্রাইম পুলিশ জানিয়েছে যে, মেটা প্ল্যাটফর্মের অপব্যবহার করে কীভাবে এই ধরনের ক্ষতিকারক ও এআই-চালিত বিকৃত কনটেন্ট এত দ্রুত ভাইরাল হলো এবং প্ল্যাটফর্মের নিজস্ব সুরক্ষা ও কনটেন্ট মডারেশন ব্যবস্থা কেন তা সময়মতো আটকাতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হলো, তা গভীরভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
সাম্প্রতিক সময়ে খোদ প্রধানমন্ত্রীর জেন-জিদের উদ্দেশে করা একটি সেলফি ভিডিও প্ল্যাটফর্মে সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্য ব্লক হওয়া এবং পরবর্তীতে তা নিয়ে কেন্দ্রের সঙ্গে মেটার দ্বন্দ্বের আবহের মধ্যেই এই এফআইআর দায়ের হওয়ার ঘটনাটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে রাজনৈতিক ও প্রযুক্তি মহল উভয়ই। ভারতীয় আইনি কাঠামোর কঠোর নিয়ম এবং ইন্টারমিডিয়ারি বা মধ্যবর্তী প্ল্যাটফর্মগুলির (Intermediaries) জবাবদিহিতা সুনিশ্চিত করতেই পুলিশ এই কড়া পদক্ষেপ নিয়েছে বলে জানা গিয়েছে।