রেশন কার্ড বাতিলের হিড়িক! কাদের নাম কাটা যাবে, কাদের কার্ড থাকবে বহাল? জেনে নিন খুঁটিনাটি

রাজ্য প্রশাসনে নতুন ক্ষমতা হস্তান্তরের পরপরই রেশন কার্ডের ডিজিটাল ডেটাবেসে বড়সড় রদবদল আনতে চলেছে খাদ্য দফতর। গত কয়েক বছর ধরে রেশন ব্যবস্থায় অনিয়মের যে অভিযোগ বারবার সামনে এসেছে, তা রুখতে এবার কঠোর পদক্ষেপ নিতে চলেছে সরকার। এসআইআর (SIR)-এর চূড়ান্ত রিপোর্টের ভিত্তিতে অযোগ্য উপভোক্তাদের চিহ্নিত করে তাঁদের কার্ড বাতিল করার নির্দেশ জারি করা হয়েছে। এই প্রক্রিয়ায় রাজ্যজুড়ে কয়েক লক্ষ নাম রেশন কার্ড ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম থেকে চিরতরে মুছে ফেলা হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

খাদ্য দফতরের নতুন নির্দেশিকায় স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে, যাঁদের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়েছে অথবা ভোটার তালিকার তথ্যের সঙ্গে রেশন কার্ডের তথ্যে বড় ধরণের অসংগতি রয়েছে, তাঁদের ডিজিটাল রেশন কার্ডের সমস্ত তথ্য বাতিল বা ডিলিট করতে হবে। সরকারের দাবি, ভুয়া উপভোক্তাদের চিহ্নিত করে প্রকৃত গরিব মানুষদের সুবিধা পৌঁছে দেওয়াই এই অভিযানের মূল লক্ষ্য।

নতুন এই নির্দেশিকা অনুযায়ী, আগামী ১৫ জুনের মধ্যে সমস্ত অযোগ্য কার্ড যাচাইকরণ ও বাতিলের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। বিশেষ নজর দেওয়া হচ্ছে মৃত উপভোক্তা, যাঁরা অন্য রাজ্যে স্থানান্তরিত হয়েছেন, এবং ডুপ্লিকেট রেশন কার্ড হোল্ডারদের ওপর। এছাড়া, ২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের সময় ভোটার ইনফরমেশন স্লিপ বিতরণের সময় যাঁদের এএসডিডি (ASDD) অর্থাৎ অনুপস্থিত, মৃত বা স্থানান্তরিত হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছিল, তাঁদের তথ্যও পুনরায় যাচাইয়ের আওতায় আনা হচ্ছে। সরকারের মতে, এই স্বচ্ছতা বজায় রাখলে রাজ্য কোষাগারের অপচয় অনেকটাই কমবে।

তবে অযোগ্যদের তালিকায় নাম থাকলেও সাধারণ মানুষকে বিশেষ স্বস্তি দিয়েছে সরকারের এই বিশেষ ঘোষণা। যেসব উপভোক্তা ইতিমধ্যে ভোটার তালিকায় নাম বাদ যাওয়ার বিরুদ্ধে এসআইআর ট্রাইব্যুনালে আপিল করেছেন বা নাগরিকত্ব সংশোধন আইন (CAA)-এর অধীনে আবেদনের প্রমাণপত্র জমা দিয়েছেন, তাঁদের কার্ড আপাতত বাতিল করা হবে না। যতক্ষণ না পর্যন্ত ট্রাইব্যুনাল বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ থেকে চূড়ান্ত ফলাফল বেরিয়ে আসছে, ততক্ষণ ওইসব কার্ড সক্রিয় থাকবে। ফলে প্রকৃত আবেদনকারীদের উদ্বেগের কোনো কারণ নেই।

সরকারের এই আকস্মিক পদক্ষেপে রাজ্য রাজনীতিতে ব্যাপক উত্তাপ ছড়িয়েছে। পূর্বতন সরকারের আমলে রেশন দুর্নীতি নিয়ে বারবার সরব হয়েছে বর্তমান নেতৃত্ব। সেই দুর্নীতি ও অসামঞ্জস্যের জট খুলতেই এই বিশদ যাচাইকরণ। এখন দেখার বিষয়, ১৫ জুনের এই সময়সীমার মধ্যে খাদ্য দফতর কতটা সফলভাবে ভুয়া রেশন কার্ড শনাক্ত করতে পারে এবং কত লক্ষ মানুষ শেষ পর্যন্ত এই তালিকার বাইরে চলে যান।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy