তৃণমূলের অন্দরে ‘ক্লিন সুইপ’! মমতাবিহীন বৈঠকে নতুন কমিটি, অভিষেককে সাসপেন্ডের পথে বিদ্রোহীরা

বিধানসভায় রাজ্য বাজেট পেশের পরেই তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে চরম রাজনৈতিক অস্থিরতা। নিউটাউনের একটি অভিজাত হোটেলে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ও বিদ্রোহী নেতাদের ডাকা রুদ্ধদ্বার বৈঠকে দলের ভবিষ্যৎ নিয়ে বড় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তৃণমূলের সাংগঠনিক নিয়ন্ত্রণ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত থেকে ছিনিয়ে নিতে এবার ২০ জনের একটি নতুন ‘ওয়ার্কিং কমিটি’ গঠন করল বিদ্রোহী গোষ্ঠী।
নতুন কমিটির নেতৃত্বে অরূপ রায়: বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, নতুন গঠিত এই ওয়ার্কিং কমিটির চেয়ারম্যানের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী তথা বিধায়ক অরূপ রায়কে। সূত্রের খবর, এই বৈঠকে তৃণমূলের বিদ্রোহী নেতারা দলের সংবিধানের ২০ নম্বর ধারার প্রসঙ্গ তুলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বকে চ্যালেঞ্জ করেছেন। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের দাবি, দলের জাতীয় ওয়ার্কিং কমিটির মেয়াদ শেষ হয়েছে তিন বছরেরও বেশি সময় আগে, তাই আইনত নতুন কমিটি গঠন করা জরুরি ছিল।
গুরুত্বপূর্ণ আপডেট:
অভিষেককে নজরে: সূত্রের খবর, বৈঠকে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে একটি রেজোলিউশন গৃহীত হয়েছে, যাতে উপস্থিত প্রায় সকল নেতা স্বাক্ষর করেছেন।
লোগো ও নিয়ন্ত্রণ: বিদ্রোহীদের পরবর্তী লক্ষ্য এখন তৃণমূল কংগ্রেসের দলীয় লোগো এবং প্রতীকের দখল নেওয়া। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুগতদের সরিয়ে দলটির পুরো নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নেওয়ার পরিকল্পনা করছেন তারা।
বিদ্রোহীদের শক্তি প্রদর্শন: হোটেলে ২০টিরও বেশি গাড়ি নিয়ে নেতাদের প্রবেশ এবং রুদ্ধদ্বার বৈঠক রাজনৈতিক মহলে চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে। বৈঠকে ফিরহাদ হাকিমসহ বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী নেতার উপস্থিতিও দলের ভাঙনের গভীরতা স্পষ্ট করে দিয়েছে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে, দলের আইনি দখল এবং বিধায়ক-সাংসদদের সমর্থন নিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরের মধ্যে এই লড়াই এখন তুঙ্গে। বিদ্রোহী গোষ্ঠী এখন নিজেদের অবস্থান আরও মজবুত করতে সর্বভারতীয় পর্যায়ে নতুন সমীকরণ তৈরির চেষ্টা করছে।