২০২৬-এর ঐতিহাসিক পালাবদলের পর নবগঠিত পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার প্রথম অধিবেশনেই দেখা গেল চরম নাটকীয়তা। রাজ্য বিধানসভার নতুন স্পিকার হিসেবে এদিন নির্বাচিত হলেন প্রবীণ বিধায়ক রথীন্দ্র বসু। তাঁকে স্বাগত জানান বিদায়ী স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু স্পিকার নির্বাচনের আনুষ্ঠানিকতা ছাপিয়ে এদিন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এল মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কড়া বার্তা এবং বিজেপি নেতা তাপস রায়ের একের পর এক বিস্ফোরক বয়ান।
এদিন নতুন স্পিকারকে অভিনন্দন জানিয়ে নিজের আসন থেকে উঠে বক্তব্য রাখতে শুরু করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান, তাঁর সরকার বিধানসভায় গঠনমূলক বিরোধিতা চায়। শুভেন্দু বলেন, “বিধানসভা মানুষের অধিকার আদায়ের পবিত্র স্থান, এটা কখনও মারামারি বা সংঘর্ষের জায়গা হতে পারে না। আমরা বিরোধীদের সম্মান করি এবং বিরোধী সদস্যদের আগের তুলনায় অনেক বেশি কথা বলার ও প্রশ্ন করার সুযোগ দেওয়া হবে।” তবে মুখ্যমন্ত্রীর এই সৌজন্যবার্তার মাঝেই রাজনীতির পারদ চড়ান বিজেপি নেতা তাপস রায়।
তৃণমূল বিধায়কদের দিকে সরাসরি আঙুল তুলে তাপস রায় বিদ্রুপের সুরে বলেন, “দেখো দেখো, অনেক তো করেছ, এবার কি দেখতে খারাপ লাগছে নাকি!” তাঁর এই মন্তব্যে মুহূ্র্তে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে সদন। নবনির্বাচিত স্পিকারকে অভিনন্দন জানানোর পাশাপাশি ২০২৬ সালের নির্বাচনকে ‘ধর্মযুদ্ধ’ বলে অভিহিত করেন তিনি। তাঁর দাবি, এই জয় ছিল কেবল সরকার গঠনের লড়াই নয়, বরং পশ্চিমবঙ্গকে এক গভীর অন্ধকার থেকে উদ্ধার করার ‘ধর্মযুদ্ধ’।
বক্তব্য চলাকালীন তাপস রায় অত্যন্ত কড়া সুরে দেশবিরোধী স্লোগানের প্রসঙ্গ তোলেন। তিনি দাবি করেন, বিধানসভার পবিত্রতার কথা মাথায় রেখে অবিলম্বে আইন করে রাষ্ট্রবিরোধী যেকোনো স্লোগান বন্ধ করতে হবে। শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে উদ্দেশ্য করে তিনি সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে বলেন, “আজ আপনারা ভোট পরবর্তী হিংসার কথা বলছেন? এটা নির্লজ্জতা! আপনাদের দলের নেতারা বিজেপি কর্মীদের হাড়গোড় ভেঙে দেওয়ার হুমকি দিয়েছিলেন। যদি এবার আপনারা ক্ষমতায় ফিরতেন, তবে বিজেপি কর্মীদের আরও ১৫০ থেকে ২০০টি লাশ গুনতে হতো। তৃণমূল ক্ষমতায় ফিরলে রাজ্যে রক্তের বন্যা বইত।”
পাপমুক্ত ও শাপমুক্ত নতুন পশ্চিমবঙ্গ গড়ার ডাক দিয়ে তাপস রায় বলেন, “আমার নাম যদি কোনো হিংসার ঘটনার সঙ্গে যুক্ত থাকে, তবে আমাকে সরাসরি জেলে পাঠিয়ে দেবেন।” বক্তব্যের শেষে তাঁর উদাত্ত কণ্ঠে ‘জয় শ্রীরাম’ এবং ‘ভারতমাতার জয়’ ধ্বনিতে কেঁপে ওঠে বিধানসভা ভবন। রাজনৈতিক মহলের মতে, প্রথম দিনেই শাসক ও বিরোধী শিবিরের এই বাদানুবাদ স্পষ্ট করে দিল যে, আগামী দিনে বিধানসভার অধিবেশন হবে যথেষ্ট অগ্নিগর্ভ।





