“তুমি তো মানুষও নও!” প্লেট ছুঁড়ে ফেলা ও ‘বি-গ্রেড মা’ বলায় আমাল মালিককে তুলোধোনা সালমানের, মঞ্চে ডাবু মালিক!

জনপ্রিয় রিয়্যালিটি শো ‘বিগ বস ১৯’-এর সাম্প্রতিক ‘উইকেন্ড কা ভার’ পর্বে হোস্ট সালমান খান (Salman Khan) হাউসম্যাট আমাল মালিককে (Amaal Mallik) তাঁর রোষ ও আচরণের জন্য তীব্রভাবে ভর্ৎসনা করেন। প্রতিযোগী ফারহানা ভাটের (Farrhana Bhatt) সঙ্গে তর্কের সময় তাঁর প্লেট ছুঁড়ে ফেলা এবং ফারহানার মাকে ‘বি-গ্রেড’ বলার মতো গুরুতর মন্তব্যের জন্য আমালকে জবাবদিহি করতে হয়।
“ঈশ্বর সাজার অধিকার কে দিয়েছে?”
আমালের লাগামহীন রাগ নিয়ে সালমান বলেন, “আমাল, তোমার রাগ নিয়ন্ত্রণে আনা দরকার। ফারহানা ভুল হলেও, কে তোমাকে ঈশ্বর সাজার অধিকার দিয়েছে এবং কে কখন খাবার খাবে তা ঠিক করার অধিকার দিয়েছে?”
জবাবে আমাল বলেন, “আমি খুব হতাশ হয়ে গিয়েছিলাম। আমি তাঁকে একটা পরিষ্কার স্লেট দিতে চেয়েছিলাম, কিন্তু তাঁর মধ্যে অনেক অন্ধকার। তাঁর কোনও আত্মা নেই। আমি ঈশ্বর নই, তবে আমি আহত হয়েছিলাম। তিনি যা করেছেন, তার জন্য তাঁর চোখে কোনও লজ্জা ছিল না।”
তখনই সালমান কঠোর মন্তব্য করেন, “স্বাভাবিকভাবেই, তুমি ঈশ্বর নও; তুমি মানুষ হতেও ব্যর্থ হচ্ছো, সেখানেও তুমি ব্যর্থ!”
সালমান আরও যোগ করেন, “কে তোমাকে তাঁর প্লেট ছিনিয়ে নেওয়ার অধিকার দিয়েছে? খাবার পড়ে যাচ্ছিল। ঈশ্বর সবাইকে খাদ্য দিয়েছেন, আর তুমি সেটারই অসম্মান করছো। আমাল, তুমি যখন কারও মাকে ‘বি-গ্রেড’ বলছো, তখন কি তুমি যুক্তিযুক্ত? তোমার মতে, কেউ ভুল করেছে বলেই কি এটা করা যায়? সমস্যাটা কোথায় তোমার?”
“৩০-৪০ বছর আগের কল্পিত কিছুর মূল্য আজও দিচ্ছি”
আমাল আত্মপক্ষ সমর্থন করে বলেন যে ফারহানা তাঁকে ‘দু’কৌড়ির মিউজিশিয়ান’ বা ‘তোমাদের বাবা-মা একসঙ্গে আছে কি না’ এমন ব্যক্তিগত আক্রমণ করায় তিনি ‘হেভি ট্রিগারড’ হন এবং এমন কিছু বলে ফেলেন যা তিনি বলতে চাননি।
আমাল এবং অন্য প্রতিযোগীদের তাদের বাবা-মা-কে ঝগড়ার মধ্যে টেনে আনার প্রবণতার সমালোচনা করে সালমান বলেন, “তোমরা বিগ বসে এসেছ, নাকি তোমাদের বাবা-মায়েরা এসেছেন? তোমরা নিজেরা ঝগড়া করো, আর তাদের নাম টানো!”
এরপরই আমালের বাবা ডাবু মালিককে (Daboo Mallik) মঞ্চে আমন্ত্রণ জানান সালমান খান। ছেলের কাজের প্রতি নিষ্ঠার জন্য গর্ব প্রকাশ করলেও, ডাবু মালিক স্বীকার করেন যে আমালের কথা বলার ভঙ্গি নিয়ন্ত্রণ করা উচিত।
সালমান তখন ডাবুকে উদ্দেশ্য করে বলেন, “আমি প্রতি সপ্তাহে ওকে গাইড করি, কিন্তু ওর মন ও মুখের ওপর কোনও নিয়ন্ত্রণ নেই।” আমালকে সতর্ক করে তিনি বলেন, “তুমি এখন আর ছোট নও, আমাল। পরে তুমি অনুশোচনা করে ক্ষমা চাইলেও, এই একটি জিনিস তোমার নিয়ন্ত্রণ করা দরকার। লোকেরা তোমার প্রতিক্রিয়া মনে রাখবে এবং আজীবন বিচার করবে। আমি জানি কারণ ৩০-৪০ বছর আগের কাল্পনিক কিছু কিছুর জন্যও আমাকে আজও মূল্য দিতে হচ্ছে। তুমি কি মনে করো, তুমি এটা সামলাতে পারবে? এটা একটা খুব কুটিল পৃথিবী।”
আমালকে শেষ সতর্কবার্তা দিয়ে সালমান খান বলেন, “আমি এমন কিছুর জন্যও অভিযুক্ত হয়েছি যা আমি করিনি, এবং আমি আজ পর্যন্ত তা বহন করছি। যখন লোকেরা তোমার সম্পর্কে কথা বলবে, তখন কি তোমার সেই মানসিক শক্তি থাকবে? তুমি ভালো খেলছো, শুধু তোমার জিভ সামলাও। এমনভাবে প্রতিক্রিয়া জানাও যাতে লোকে দেখে যে আমাল পাল্টে গেছে।”