তিন মাস পর বাড়ি ফিরছে হারানো কিশোর! মহারাষ্ট্রে মিলল সন্ধান, কান্দিতে খুশির হাওয়া

দীর্ঘ তিন মাসের উদ্বেগ, আশঙ্কা আর চোখের জলের অবসান। মহারাষ্ট্রের মাটিতে হারিয়ে যাওয়ার পর অবশেষে নিজের বাড়ি মুর্শিদাবাদের কান্দির হাটখোলায় ফিরছে ১৫ বছর বয়সী কিশোর সরফুর। তার ফিরে আসার খবর ছড়িয়ে পড়তেই খুশির হাওয়া বইছে এলাকাজুড়ে।

জীবনসংগ্রাম আর বিপদের দিনগুলি মাত্র ১৫ বছর বয়সেই সংসারের হাল ধরতে ভিনরাজ্যে পাড়ি দিয়েছিল সরফুর। সাথে ছিল বন্ধু। কিন্তু ভাগ্যের পরিহাসে কাজ না মেলায় বাড়ি ফেরার পথেই ঘটে বিপত্তি। ট্রেনে সহযাত্রীর দেওয়া খাবার খেয়ে জ্ঞান হারায় ওই কিশোর। আতঙ্কে তার সঙ্গী মাঝপথেই নেমে পড়লে সরফুর একা হয়ে যায়। বাড়ি ফিরে বন্ধু যখন তার বাবার কাছে কোনও হদিস দিতে পারল না, তখন থেকেই নিখোঁজ হিসেবে দিন কাটছিল পরিবারের।

কীভাবে খোঁজ মিলল? মহারাষ্ট্রের উত্তর শিবাজী নগরে তাকে উদভ্রান্তের মতো ঘুরে বেড়াতে দেখেন স্থানীয় বাসিন্দা মুস্তফা মুজিয়ার। তাঁর তৎপরতায় তাকে বান্দ্রা থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। সরফুরের কাহিনী ছিল দীর্ঘ এবং যন্ত্রণাদায়ক—কখনও হাসপাতাল, তো কখনও পুলিশের কাউন্সেলিং, কিন্তু আতঙ্কে সে নিজের ঠিকানাই বলতে পারছিল না। শেষপর্যন্ত সংগেড়ির স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা ‘ইনসাফ ফাউন্ডেশন’-এর সহায়তায় তার পরিচয় ও ঠিকানা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়।

ঘরে ফেরার আনন্দ শৈশবে মাকে হারানো, সৎ মায়ের সংসারে অবহেলা আর পেটের দায়ে কাজের সন্ধানে বেরিয়ে এই কিশোরের জীবনের প্রতিটি ধাপে ছিল কঠিন সংগ্রাম। মহারাষ্ট্র সরকার তার ছবি দিয়ে প্রচার চালালেও দীর্ঘ তিন মাস কেটে যায় কোনো সূত্র পেতে। অবশেষে সব বাধা পেরিয়ে সে আজ নিজের আপনজনদের কাছে ফিরছে। তার ফিরে আসার খবরে বাবা আজগর আলি এবং এলাকার বাসিন্দারা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছেন।

এই ঘটনা আবারও প্রমাণ করল যে, সঠিক সময় মানুষের সহমর্মিতা আর সমাজসেবামূলক প্রতিষ্ঠানের প্রচেষ্টা থাকলে অন্ধকার পেরিয়ে আলোর মুখ দেখা সম্ভব।