তাসের ঘরের মতো ভাঙল ৩ দশকের গড়! বিজেপির দুর্গ কাঁপিয়ে ঐতিহাসিক জয় প্রশান্ত কিশোরের

বিহারের রাজনৈতিক ময়দানে বড় ধরণের ওলটপালট ঘটিয়ে চমক সৃষ্টি করলেন রাজনৈতিক কৌশলবিদ থেকে রাজনীতিক হওয়া প্রশান্ত কিশোর। সর্বভারতীয় সভাপতি নিতিন নবীনের ছেড়ে যাওয়া এবং দীর্ঘ তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে সুরক্ষিত থাকা বিজেপির শক্ত ঘাঁটি বাঁকিপুর বিধানসভা উপনির্বাচনে বড়োসড়ো পরাজয়ের মুখোমুখি হয়েছে শাসক দল। এই আসনটি ধরে রাখতে বিজেপি সর্বশক্তি প্রয়োগ করলেও শেষ রক্ষা হয়নি। নিজের প্রথম নির্বাচনী লড়াইয়েই দুর্দান্ত সাফল্য অর্জন করে জন সুরাজ পার্টির প্রতিষ্ঠাতা প্রশান্ত কিশোর তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিজেপি প্রার্থী নীরজ কুমারকে ১৯,৩২৪ ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করেছেন। এই জয়ের ফলে যেমন জন সুরাজ পার্টি তাদের প্রথম নির্বাচনী সাফল্য পেল, তেমনই এটি বিহারের রাজনীতিতে একটি বড় রাজনৈতিক টার্নিং পয়েন্ট হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই উপনির্বাচনের ফল কেবল একটি সাধারণ বিধানসভা আসন হাতবদল নয়, বরং এটি বর্তমান রাজনৈতিক ব্যবস্থার বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের ক্রমবর্ধমান ক্ষোভেরই বহিঃপ্রকাশ। প্রসঙ্গত, এই নির্বাচনে একই নামের দুই নির্দল প্রার্থী—লালু প্রসাদ যাদব এবং নীতীশ কুমার—অংশ নিলেও ভোটের ময়দানে তারা কোনো প্রভাবই ফেলতে পারেননি। যথাক্রমে মাত্র ৮১ এবং ১৪৯টি ভোট পেয়ে নির্বাচন কমিশনের নিয়ম অনুযায়ী ওই দুই নির্দল প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে। অন্যদিকে, তেজস্বী যাদবের দল আরজেডি প্রার্থী রেখা গুপ্ত শোচনীয়ভাবে পরাজিত হয়ে প্রতিযোগিতায় বহু পেছনে অর্থাৎ তৃতীয় স্থানে চলে গেছেন। এর ফলে প্রমাণিত হয়েছে যে, ঐতিহ্যবাহী দলগুলির বাইরে সাধারণ মানুষ এখন বিকল্প শক্তির উত্থান চাইছে। নির্বাচনী প্রচারের শুরু থেকেই এই লড়াইকে এক অন্য মাত্রায় নিয়ে গিয়েছিলেন প্রশান্ত কিশোর। তিনি গতানুগতিক জাতি বা ধর্মের রাজনীতির ঊর্ধ্বে উঠে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থান এবং সার্বিক উন্নয়নের এজেন্ডাকে সামনে রেখে বাড়ি বাড়ি প্রচার চালিয়েছিলেন। জয়ের পর প্রতিক্রিয়ায় প্রশান্ত কিশোর স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন যে, এই রায় কেবল একজন বিধায়ক নির্বাচন করার জন্য নয়, বরং এটি দিল্লির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের কাছে বিহারের জন্য একজন দক্ষ ও সৎ মুখ্যমন্ত্রী বেছে নেওয়ার একটি স্পষ্ট রাজনৈতিক বার্তা। টানা তিন দশক ধরে যে আসনটি বিজেপির নিরঙ্কুশ দখলে ছিল, সেখানে এই ধস নামায় স্বভাবতই গেরুয়া শিবিরের অন্দরে বড় ধরণের আত্মপর্যালোচনার সময় এসে গেছে। আগামী দিনে এই ফলাফল যে বিহারের সামগ্রিক রাজনৈতিক সমীকরণকে পুরোপুরি বদলে দেবে, তা নিয়ে কোনো সন্দেহের অবকাশ নেই।