‘তারা পরীক্ষা ছাড়াই এসেছিল’! ন্যাশনাল গার্ডের ওপর হামলার পর ট্রাম্পের কড়া পদক্ষেপ, ১৯টি দেশের গ্রিন কার্ডধারীদের তথ্য যাচাইয়ের নির্দেশ

হোয়াইট হাউসের কাছে এক আফগান নাগরিকের গুলিতে দুইজন ওয়েস্ট ভার্জিনিয়া ন্যাশনাল গার্ড সদস্যের মধ্যে একজনের মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার এই খবরটি নিশ্চিত করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
বুধবার মার্কিন সেনা বিশেষজ্ঞ সারা বেকস্ট্রম (২০) এবং মার্কিন বিমান বাহিনীর স্টাফ সার্জেন্ট অ্যান্ড্রু উলফ গুলিবিদ্ধ হয়েছিলেন। ট্রাম্প জানান, এর মধ্যে বেকস্ট্রমের মৃত্যু হয়েছে, উলফের অবস্থা এখনও আশঙ্কাজনক। ট্রাম্প এই গুলি চালানোকে ‘সন্ত্রাসী আক্রমণ’ হিসাবে ব্যাখ্যা করেছেন।
আফগান পুনর্বাসন নীতির সমালোচনা:
হামলাকারী আফগানিস্তান যুদ্ধের সময় মার্কিন বাহিনীর সঙ্গে কাজ করেছিল বলে জানা গেছে। ট্রাম্প আফগানিস্তান থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে আফগানদের দ্রুত প্রবেশের সুযোগ করে দেওয়ার জন্য বাইডেন প্রশাসনের কঠোর সমালোচনা করেছেন।
ট্রাম্প সামরিক বিমানে করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে আনা আফগান নাগরিকদের ছবি দেখিয়ে বলেন, “দেখুন, তারা এভাবেই আসে। বিমানেও এভাবেই তারা একে অপরের উপরে দাঁড়িয়ে থাকে। কোনও পরীক্ষা-নিরীক্ষা বা অন্য কিছুই ছিল না। তারা পরীক্ষা-নিরীক্ষা ছাড়াই এসেছিল। আমাদের দেশে আরও অনেক এমন আছে। আমরা তাদের খুঁজে বের করে আনব।”
১৯টি দেশের গ্রিন কার্ড রিভিউ:
হোয়াইট হাউসের অদূরে গুলি চালানোর ঘটনার পরই অ্যাকশন মুডে এসেছেন ট্রাম্প। বৃহস্পতিবার ট্রাম্প প্রশাসন ঘোষণা করেছে, ওয়াশিংটনে ন্যাশনাল গার্ডের উপর হামলার পর আফগানিস্তান-সহ মোট ১৯টি দেশের প্রতিটি স্থায়ী বাসিন্দা বা গ্রিন কার্ড রয়েছে এমন ব্যক্তিদের বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ, কঠোরভাবে পরীক্ষার নির্দেশ দেওয়া হবে।
মার্কিন নাগরিকত্ব ও অভিবাসন পরিষেবা (USCIS)-এর ডিরেক্টর জোসেফ এডলো বলেন, “প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নির্দেশ মোতাবেক আমি উদ্বেগজনক দেশগুলি থেকে আসা প্রতিটি বিদেশীর প্রতিটি গ্রিন কার্ডের ফের পূর্ণাঙ্গ, কঠোরভাবে পরীক্ষার নির্দেশ দিয়েছি। আমেরিকানরা এর আগের সরকারের বেপরোয়া ভুল পুনর্বাসন নীতির মূল্য চোকাবে না।”
যে ১৯টি দেশের অভিবাসীদের তথ্য ফের যাচাই করা হবে, সেগুলি হলো: আফগানিস্তান, মায়ানমার, বুরুন্ডি, চাদ, কঙ্গো প্রজাতন্ত্র, কিউবা, নিরক্ষীয় গিনি, ইরিত্রিয়া, হাইতি, ইরান, লাওস, লিবিয়া, সিয়েরা লিওন, সোমালিয়া, সুদান, টোগো, তুর্কমেনিস্তান, ভেনিজুয়েলা এবং ইয়েমেন।