তারাতলায় ভয়াবহ বিপর্যয়: ধ্বংসস্তূপে আটকে অন্তত ১৫, যুদ্ধকালীন তৎপরতায় অক্সিজেন ও জল পৌঁছে দিচ্ছে সেনা

তারাতলায় নির্মীয়মাণ গোডাউনের ছাদ ভেঙে পড়ার ঘটনায় রাজ্যজুড়ে তীব্র চাঞ্চল্য। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, এই দুর্ঘটনায় এখনও পর্যন্ত ৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। মৃতদের মধ্যে কৃষ্ণ চৌধুরী ও রোহিত চৌধুরীর পরিচয় পাওয়া গিয়েছে। এছাড়া ১৮ জন গুরুতর আহত অবস্থায় এসএসকেএম হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
সেনা ও NDRF-এর লড়াই
দুর্ঘটনাস্থল থেকে মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, ঘটনার ভয়াবহতা আরও বাড়তে পারত যদি না উদ্ধারকারী দল দ্রুত পৌঁছাত। দুপুরের পর থেকেই NDRF এবং ভারতীয় সেনাবাহিনী উদ্ধারকাজে হাত লাগায়। মুখ্যমন্ত্রী জানান, “১২ থেকে ১৫ জন এখনও ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে আছেন। তবে সুখবর হলো, তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়েছে। তাঁদের কাছে জল, শুকনো খাবার এবং অক্সিজেন পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।” রাতেও যাতে উদ্ধারকাজ ব্যাহত না হয়, সেজন্য উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন আলোর ব্যবস্থা করা হয়েছে।
প্ল্যানে ত্রুটির অভিযোগ
প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছেন:
এই বছরের শুরুর দিকেই ভবনটির প্ল্যান অনুমোদন করা হয়েছিল।
পুরসভার ইঞ্জিনিয়ারদের প্রাথমিক রিপোর্ট অনুযায়ী, এই নির্মাণ নকশাতেই বড় ধরনের ত্রুটি ছিল।
বন্দর কর্তৃপক্ষের জমির ওপর অবস্থিত এই গোডাউনটি গত দেড় বছর ধরে নির্মাণাধীন ছিল।
মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, “আগামীকাল বিধানসভার অধিবেশন শুরু হলে এই দুর্ঘটনা নিয়ে রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেওয়া হবে। বুধবার নিহত ও আহতদের জন্য আর্থিক সাহায্যের ঘোষণা করা হতে পারে।”
কীভাবে ঘটল দুর্ঘটনা?
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার সকাল থেকেই কাজ চলছিল। ঘটনার আধ ঘণ্টা আগেই লোহার বিম নড়ে যেতে শুরু করে। শ্রমিকরা সেই ত্রুটি মেরামত করে পুনরায় কাঠামো ঠিক করার চেষ্টা করছিলেন, ঠিক তখনই বিকট শব্দে আস্ত টিনের শেডটি ভেঙে পড়ে।
বর্তমানে গ্যাস কাটার দিয়ে লোহার বিম কেটে এবং ভার্টিক্যাল ড্রিলিংয়ের মাধ্যমে আটকে থাকা ব্যক্তিদের বের করে আনার প্রাণপণ চেষ্টা চালাচ্ছেন উদ্ধারকারীরা। ঘটনাস্থলে উপস্থিত রয়েছেন রাজ্যের মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল, ইন্দ্রনীল খাঁ এবং প্রশাসনিক উচ্চপদস্থ কর্তারা। মুখ্যমন্ত্রী নিজেও পরিস্থিতি তদারকি করছেন।
নিরাপত্তা ও উদ্ধারকাজই এখন প্রশাসনের কাছে প্রধান অগ্রাধিকার। এই ঘটনার পেছনে কোনো গাফিলতি বা অনিয়ম ছিল কি না, তা নিয়ে উচ্চপর্যায়ের তদন্তের আশ্বাস দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।