তারাতলায় অলৌকিক বেঁচে ফেরা! ১৮ ঘণ্টা ধ্বংসস্তূপে আটকে থাকার পর জীবিত উদ্ধার শ্রমিক

তারাতলার ভয়াবহ গুদাম ধসের ঘটনায় প্রায় সাড়ে ১৮ ঘণ্টা লড়াইয়ের পর মিলল এক বড় সাফল্য। ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে বৃহস্পতিবার দুপুরে এক শ্রমিককে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করলেন বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর সদস্যরা। লোহার একটি বিশাল বিমের নিচে আটকে থাকা ওই শ্রমিককে উদ্ধারের পর দ্রুত এসএসকেএম হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। দীর্ঘ সময় চাপা পড়ে থাকলেও তাঁর শারীরিক অবস্থা আপাতত স্থিতিশীল বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।

উদ্ধার অভিযানের বর্তমান পরিস্থিতি:

  • জীবিত উদ্ধার: দীর্ঘ সময় অক্সিজেন ও জলের ঘাটতি সত্ত্বেও শ্রমিকটিকে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করা সম্ভব হওয়ায় উদ্ধারকর্মীদের মনোবল বেড়েছে।

  • হাসপাতালে চিকিৎসাধীন: এসএসকেএম হাসপাতালে বর্তমানে ১৯ জন আহত ব্যক্তি চিকিৎসাধীন রয়েছেন, যাদের কয়েকজনের অবস্থা উদ্বেগজনক।

  • মৃতের সংখ্যা: মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনায় এখন পর্যন্ত ১১ জনের মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়েছে।

উদ্ধারকার্য ও চ্যালেঞ্জ: বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই সেনাবাহিনী, এনডিআরএফ (NDRF), পুলিশ এবং দমকল বাহিনী একযোগে উদ্ধারকাজ চালিয়ে যাচ্ছে। তবে প্রতিকূল পরিস্থিতির মোকাবিলা করতে হচ্ছে উদ্ধারকারী দলকে:

  • প্রবল বৃষ্টি: টানা বৃষ্টির ফলে ভারী কংক্রিট ও লোহার স্তূপ সরানো অত্যন্ত কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

  • অনিশ্চিত নিখোঁজ: প্রশাসনের আশঙ্কা, ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও অনেকে আটকা পড়ে থাকতে পারেন। তবে সঠিক সংখ্যা এখনও নিশ্চিত নয়। যদিও বিশেষ যন্ত্রের সাহায্যে প্রাণের অস্তিত্ব খোঁজার চেষ্টা চলছে, কিন্তু বৃহস্পতিবার দুপুর পর্যন্ত আর কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।

আইনি পদক্ষেপ: ঘটনার তদন্তে কলকাতা পুলিশ একটি সিট (SIT) গঠন করেছে। এরই মধ্যে শম্ভুনাথ বেহেরাকে আদালতে পেশ করা হয়েছে। প্রশাসন স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, এই বিপর্যয়ের পেছনে দায়ীদের কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না।

ঘটনাস্থলে উদ্ধার অভিযান এখনও অব্যাহত। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ধ্বংসস্তূপের প্রতিটি ইঞ্চি খুঁটিয়ে পরীক্ষা না করা পর্যন্ত এই অভিযান থামানো হবে না। নিখোঁজ শ্রমিকদের ভাগ্য নিয়ে উৎকণ্ঠা থাকলেও, উদ্ধার হওয়া শ্রমিকের ঘটনাটি এখন স্থানীয়দের মনে কিছুটা হলেও আশার সঞ্চার করেছে।