আজ বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল। একদিকে দিল্লির সংসদ ভবনে ডিলিমিটেশন বিল পেশ করার প্রস্তুতি নিচ্ছে মোদী সরকার, অন্যদিকে দক্ষিণ ভারতে শুরু হয়েছে প্রবল প্রতিরোধ। সাতসকালে কালো পোশাক পরে রাস্তায় নেমে খোদ তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী এম কে স্ট্যালিন ডিলিমিটেশন বিলের কপি পুড়িয়ে এই বিলকে ‘কালা কানুন’ বা ‘ব্ল্যাক ল’ বলে ঘোষণা করলেন।
স্ট্যালিনের ‘কালো পতাকা’ আন্দোলন: তামিলনাড়ু জুড়ে আজ ‘ব্ল্যাক ফ্ল্যাগ’ আন্দোলনের ডাক দিয়েছে ডিএমকে (DMK)। মুখ্যমন্ত্রী স্ট্যালিন নিজের ‘এক্স’ (সাবেক টুইটার) হ্যান্ডেলে একটি ভিডিও প্রকাশ করেছেন, যেখানে তাঁকে বিলের কপি পুড়িয়ে প্রতিবাদ জানাতে দেখা যায়। তাঁর অভিযোগ:
এই বিল তামিলদের অধিকার এবং দেশের যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোর ওপর চরম আঘাত।
এর ফলে তামিলনাড়ুর মানুষ নিজেদের ভূমিতেই ‘শরনার্থী’ হয়ে পড়বে।
রাজনৈতিক ক্ষমতা উত্তর ভারতের হাতে কেন্দ্রীভূত করতে দক্ষিণকে কোণঠাসা করা হচ্ছে।
বিজেপি-কে ‘ফ্যাসিস্ট’ তোপ: শাসক দল বিজেপি-কে ‘ফ্যাসিস্ট’ তকমা দিয়ে স্ট্যালিন হুঙ্কার ছেড়েছেন, “এই ঔদ্ধত্য দমন করতেই হবে।” তাঁর মতে, দক্ষিণ ভারত জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে সফল হয়েছে বলে কি তাদের সংসদীয় প্রতিনিধিত্ব কমিয়ে শাস্তি দেবে কেন্দ্র? এই প্রশ্নই এখন জাতীয় রাজনীতিতে বড় বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
সংসদের অংকের লড়াই: মোদী সরকারের সামনে দেওয়াল! বিলে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে লোকসভার আসন ৫০% বাড়িয়ে ৮৫০ করা হবে। কিন্তু এই বিল পাশ করা কি এতই সহজ? এক নজরে দেখে নিন সংসদের কঠিন অংক:
ডিলিমিটেশন বিল পাশ করাতে হলে সংবিধানের ১৩১তম সংশোধনী প্রয়োজন।
এর জন্য লোকসভা ও রাজ্যসভা— উভয় কক্ষেই দুই-তৃতীয়াংশ সাংসদের সমর্থন জরুরি।
লোকসভায় এই বিল পাশ করতে অন্তত ৩৬৪টি ভোট প্রয়োজন।
যেহেতু বিজেপির হাতে এককভাবে বা এনডিএ-র হাতেও এই সংখ্যা নেই, তাই বিরোধীদের (ইন্ডিয়া জোট) সমর্থন ছাড়া এই বিলের ভবিষ্যৎ কার্যত বিশ বাঁও জলে।
কেন সিঁদুরে মেঘ দেখছে দক্ষিণ? প্রাক্তন মন্ত্রীদের দাবি, মোদীর ‘৫০% আসন বৃদ্ধি’ আসলে একটি ‘ভাঁওতা’। উত্তর ভারতে আসন সংখ্যা বাড়লে দক্ষিণী রাজ্যগুলোর প্রতিনিধিত্ব ২০ শতাংশে নেমে আসতে পারে। ফলে জাতীয় বাজেটে বরাদ্দ থেকে শুরু করে নীতি নির্ধারণ— সব ক্ষেত্রেই উত্তর ভারতের দাপট বাড়বে, যা মেনে নিতে নারাজ তামিলনাড়ু, কেরালা বা অন্ধ্রপ্রদেশের মতো রাজ্যগুলো।





