তদন্তে ‘গাফিলতি’র অভিযোগ! কামদুনি গণধর্ষণ ও হত্যা মামলার ফাইল কি খুলবে রাজ্য?

রাজ্যের সাড়া জাগানো কামদুনি গণধর্ষণ ও হত্যা মামলার তদন্ত পুনরায় শুরু করার দাবি তুললেন রাজ্য বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। দীর্ঘ ১৩ বছর পরেও এই মামলায় প্রকৃত বিচার পাননি বলে দাবি করে তিনি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে কামদুনি মামলার ফাইল পুনরায় খোলার আবেদন জানিয়েছেন।
তদন্তে ‘গাফিলতি’র অভিযোগ: ২০১৩ সালের ৭ জুন বারাসতের কামদুনিতে ২১ বছর বয়সি এক কলেজছাত্রীকে অপহরণ, গণধর্ষণ ও নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় তোলপাড় হয়েছিল রাজ্য। সেই সময় সিআইডির তদন্তে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উপেক্ষা করার অভিযোগ তুলেছে নির্যাতিতার পরিবার। নির্যাতিতার ভাইয়ের অভিযোগ, “আমার বোনের শরীরের আঘাতের ভয়াবহ চিহ্ন চার্জশিটে স্থান পায়নি। তদন্তকারী সংস্থার তোলা অনেক ছবিই চার্জশিটে ব্যবহার করা হয়নি।”
মামলার বর্তমান পরিস্থিতি: ২০১৬ সালে নিম্ন আদালত তিনজনকে মৃত্যুদণ্ড এবং তিনজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছিল। কিন্তু ২০২৩ সালে কলকাতা হাইকোর্ট সাইফুল আলি ও আনসার আলির মৃত্যুদণ্ড কমিয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়। একই সঙ্গে প্রমাণের অভাবে আমিন আলিকে বেকসুর খালাস করে এবং বাকি তিন অভিযুক্তকে মুক্তির নির্দেশ দেয়। বর্তমান এই রায়ের বিরুদ্ধে নির্যাতিতার পরিবার সুপ্রিম কোর্টে আবেদন জানিয়েছে, যা বিচারাধীন।
রাজনৈতিক চাপ ও জনমত: শমীক ভট্টাচার্যের এই দাবিকে সমর্থন জানিয়েছেন সমাজকর্মী প্রমীলা বিশ্বাস। তিনি বলেন, “তৃণমূল সরকারের আমলে কামদুনির পরিবার ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হয়েছে। একজন মহিলা মুখ্যমন্ত্রী থাকাকালীন এই ধরনের নৃশংসতায় এমন বিচারপ্রক্রিয়া অত্যন্ত দুঃখজনক।” তিনি ভাই বরুণ বিশ্বাসের হত্যার প্রসঙ্গ টেনেও সংশ্লিষ্ট মহলের বিরুদ্ধে অভিযোগের আঙুল তুলেছেন।
কেন নতুন তদন্তের দাবি? বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, আগের সরকারের সময় তদন্ত প্রক্রিয়ায় যে ত্রুটি রাখা হয়েছিল, তার ফলেই দোষীরা অনেকেই সাজা থেকে রেহাই পেয়েছে। নিরপেক্ষ তদন্ত হলে এই মামলার নেপথ্যে থাকা আসল সত্য ও দোষীরা সামনে আসবে।
দীর্ঘ এক দশকের বেশি সময় ধরে বিচার চেয়ে লড়াই চালিয়ে যাওয়া কামদুনির নির্যাতিতার পরিবার এই নতুন আইনি বা রাজনৈতিক তৎপরতায় আদৌ প্রকৃত বিচার পান কি না, সেটাই এখন দেখার বিষয়।