ইনভেস্টর বদলের ধাক্কা অতীত! নতুন কোচ ও শক্তিশালী দল গঠনে ঝাঁপিয়ে পড়ল ইস্টবেঙ্গল

বিনিয়োগকারী পরিবর্তনের অনিশ্চয়তা কাটিয়ে নতুন মরশুমের জন্য কোমর বেঁধে নামছে ইস্টবেঙ্গল। ক্লাব কর্তারা সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, প্রশাসনিক পটপরিবর্তন হলেও দলের লক্ষ্য ও উচ্চাকাঙ্ক্ষায় কোনো খামতি রাখা হবে না। বরং আসন্ন এএফসি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ টু এবং ঘরোয়া লিগের কথা মাথায় রেখে শক্তিশালী দল গঠনের লক্ষ্যে জোরকদমে এগোচ্ছে লাল-হলুদ শিবির।

জুপিটার ওয়াগনসের ভরসা:
নতুন বিনিয়োগ কাঠামোর অন্যতম প্রধান স্তম্ভ হয়ে দাঁড়িয়েছে জুপিটার ওয়াগনস। সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা এবং ক্লাবের সভাপতি মুরারি লাল লোহিয়া পুরো পরিস্থিতির হাল ধরেছেন। তাঁর নেতৃত্বেই বিনিয়োগকারী বদলের প্রভাব ফুটবলারদের ওপর পড়তে দেওয়া হয়নি। মাঠের বাইরের যাবতীয় প্রশাসনিক জটিলতা কাটিয়ে ক্লাবের পরিকল্পনা এখন পুরোপুরি পেশাদারিত্বের পথে।

হাবাস-ম্যাজিকে জয়ের স্বপ্ন:
কোচিং ডাগআউটে অস্কার ব্রুজ়নের বিদায়ের পর ইস্টবেঙ্গলের নতুন ভরসা অভিজ্ঞ স্প্যানিশ কোচ আন্তোনিও লোপেজ হাবাস। ভারতীয় ফুটবলের অলিগলি তাঁর নখদর্পণে। দেশীয় ও আন্তর্জাতিক মঞ্চে সাফল্যের লক্ষ্যে হাবাসের কৌশলকেই এখন পাখির চোখ করছে ক্লাব। আগামী ১২ জুলাই থেকেই শুরু হচ্ছে প্রাক-মরশুম অনুশীলন।

দলবদলের বাজারে নজরে কারা?
নতুন মরশুমকে সামনে রেখে ফুটবলার সংগ্রহের কাজও প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে। সূত্রের খবর:

নতুন মুখ: মিডফিল্ডার আয়ুষ ছেত্রী এবং ফরোয়ার্ড রহিম আলিকে সই করানোর প্রক্রিয়া অনেকটাই এগিয়েছে।

ডিফেন্সে নজর: অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার সন্দেশ ঝিঙ্গানকে দলে পেতে মরিয়া ইস্টবেঙ্গল। একাধিক ক্লাব তাঁকে পেতে আগ্রহী হলেও, লাল-হলুদ শিবির নিজেদের প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

সামনে ঠাসা সূচি:
মরশুমের শুরুতেই ইস্টবেঙ্গলের সামনে বড় পরীক্ষা। ডুরান্ড কাপে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী মোহনবাগানের বিরুদ্ধে ডার্বি, আর এরপরই আগস্ট মাসে এএফসি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ টু-এর বাছাইপর্বে কুয়েতের আল আরাবির মুখোমুখি হওয়া—সবমিলিয়ে অত্যন্ত ব্যস্ত সময় কাটতে চলেছে ফুটবলারদের।

প্রশাসনিক পরিবর্তনের তোয়াক্কা না করে ট্রফি জয়ের লক্ষ্যে যেভাবে দল সাজাচ্ছে ইস্টবেঙ্গল, তা দেখে আশাবাদী সমর্থকরা। আগামী কয়েক দিনেই আরও বেশ কিছু বড় চমক আসতে পারে বলে ইঙ্গিত মিলেছে।