মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশের পর সুর চড়ালেন কুণাল; “দোষী যে-ই হোক, ক্ষমা নেই,” তারাতলা নিয়ে বিস্ফোরক দাবি

তারাতলার ভয়াবহ গুদাম ধসের ঘটনায় ১১ জনের মর্মান্তিক মৃত্যুর পর উত্তাল রাজ্য রাজনীতি। এবার এই বিপর্যয় নিয়ে নিজের দলেরই প্রাক্তন মেয়র ফিরহাদ হাকিমকে সরাসরি কাঠগড়ায় দাঁড় করালেন তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষ। একদিকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী যখন এই ঘটনায় দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, ঠিক তখনই কুণাল ঘোষের এই মন্তব্য রাজনৈতিক মহলে শোরগোল ফেলে দিয়েছে।
বৃহস্পতিবার কুণাল ঘোষ স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “মুখ্যমন্ত্রী বিধানসভায় যে গুরুত্বের সঙ্গে বিষয়টি তুলে ধরেছেন, আমরা তার পূর্ণ মান্যতা দিচ্ছি। তদন্তে যদি প্রাক্তন মেয়রের কোনো দায়বদ্ধতা থাকে, তবে তাঁকেও গ্রেফতার করা হোক। শুধু ছোট মাছ নয়, ঘটনার পেছনে কোনো প্রভাবশালী বা বড় নাম থাকলে তাঁদেরও হেফাজতে নিয়ে জেরা করা উচিত।” কুণালের এই বক্তব্য কার্যত মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কঠোর অবস্থানকেই সমর্থন করল।
অন্যদিকে, তারাতলার ঘটনা নিয়ে সরব হয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি সরাসরি নিশানা করেছেন প্রাক্তন তৃণমূল সরকার এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “এ আপনাদেরই পাপের ফল। সর্বত্র তোলাবাজি ও দুর্নীতির কারণে তিলোত্তমা আজ মৃত্যুপুরীতে পরিণত হয়েছে। গার্ডেনরিচ থেকে তারাতলা—কোথাও আপনারা শিক্ষা নেননি। ১৪ জন মুসলিম ভাই-বোনের মৃত্যু হয়েছিল গার্ডেনরিচে, আপনারা কাউকেই বাঁচাতে পারেননি। এই বিপর্যয়ে প্রাক্তন মেয়রের সংযোগ রয়েছে। কাউকেই ছাড়া হবে না।”
যদিও কলকাতা পুরসভার প্রাক্তন মেয়র ফিরহাদ হাকিম নিজের অবস্থান সাফাই দিতে গিয়ে জানিয়েছেন, “গুদামটি বেআইনি ছিল না। আমি যতদূর জানি, প্ল্যান স্যাংশন ছিল এবং ফি-ও জমা পড়েছিল। সম্ভবত নির্মাণের সময় সুপারভিশনে গাফিলতি ছিল।” উল্লেখ্য, ফিরহাদ হাকিম সাম্প্রতিককালে রাজনৈতিক দল পরিবর্তনের পর থেকেই বিরোধীদের নিশানায় রয়েছেন।
এদিকে কুণাল ঘোষের এই মন্তব্য তৃণমূলের অন্দরের দ্বন্দ্বকেই আরও স্পষ্ট করে দিল। তিনি বলেন, “শুধুমাত্র সামনে থাকা কয়েকজনকে গ্রেফতার করলেই হবে না। যদি নেপথ্যে কোনো বড় নাম থাকে, তবে বিধানসভায় শুধু রাজনৈতিক চমক না দেখিয়ে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হোক। প্রাক্তন মেয়রের দায় থাকলে তাঁকেও গ্রেফতারের দাবি জানাচ্ছি।”
তারাতলা বিপর্যয় এখন কেবল একটি দুর্ঘটনা নয়, বরং হয়ে দাঁড়িয়েছে রাজনৈতিক অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগের রণক্ষেত্র। ১১ জনের প্রাণহানির পর দোষীদের শাস্তি এবং প্রশাসনের দায়বদ্ধতা নিয়ে প্রশ্ন এখন চরমে। কুণাল ঘোষের এই ‘বিস্ফোরক’ দাবি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুগতদের অস্বস্তি বাড়াবে কি না, তা নিয়ে এখন চর্চা তুঙ্গে। সব মিলিয়ে তারাতলাকাণ্ডে দায় নিরূপণে তদন্ত কোন দিকে মোড় নেয়, সেদিকেই তাকিয়ে আছে রাজ্যবাসী।