নির্বাচন দোরগোড়ায়, আর এই আবহে কর্তব্যে গাফিলতি বরদাস্ত করতে নারাজ নির্বাচন কমিশন। এবার খোদ কলকাতার ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্রের ফ্লাইং স্কোয়াডের তিন সদস্যকে নিলম্বিত বা সাসপেন্ড করল কমিশন। ধৃত আধিকারিকদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ দেওয়ার পাশাপাশি স্পষ্ট জানানো হয়েছে, দক্ষিণ কলকাতার জেলা নির্বাচনী আধিকারিক (DEO)-এর অনুমতি ছাড়া এই শাস্তিমূলক পদক্ষেপ প্রত্যাহার করা যাবে না।
সাসপেন্ড হওয়া তিন সদস্য হলেন সত্যরঞ্জন পান, শৌভিক নন্দী এবং সুরঞ্জন দাস। সূত্রের খবর, শুক্রবার রাত ৯টা থেকে শনিবার সকাল ৭টা পর্যন্ত তাঁদের ডিউটি করার কথা ছিল। কিন্তু সেই রাতেই কমিশনের আয়-ব্যয় পর্যবেক্ষক ডি রাজনাথ কুমার আচমকা পরিদর্শনে বেরোন। অভিযোগ, রাত সাড়ে ১০টা নাগাদ তিনি দেখেন, ওই তিন আধিকারিক ভবানীপুর থানার কাছে এক জায়গায় বসে সময় কাটাচ্ছেন এবং নির্বাচনী নজরদারির কোনো কাজই করছেন না। এই চূড়ান্ত গাফিলতি নজরে আসতেই কমিশন ত্বরান্বিত পদক্ষেপ নেয় এবং তাঁদের তৎক্ষণাৎ সাসপেন্ড করার সিদ্ধান্ত জানায়।
কমিশনের পক্ষ থেকে সাফ জানানো হয়েছে, নির্বাচনের মতো গুরুত্বপূর্ণ সময়ে ফ্লাইং স্কোয়াডের ওপর বড় দায়িত্ব থাকে। সেই দায়িত্ব পালনে অনীহা দেখালে কাউকেই রেয়াত করা হবে না। অন্যদিকে, শুধু এই তিন আধিকারিকই নন, রাজ্যের পুলিশ মহলেও কড়া বার্তা পাঠিয়েছে কমিশন। বিভিন্ন জেলার ওসি এবং এসডিপিও-দের ফোন ও মেসেজ করে সতর্ক করা হয়েছে। স্পষ্ট জানানো হয়েছে, ভোট সংক্রান্ত কোনো অশান্তি বা গণ্ডগোল হলে সংশ্লিষ্ট থানার আধিকারিকরাই দায়ী থাকবেন। ভবানীপুরের এই ঘটনা কার্যত গোটা রাজ্যের নির্বাচনী আধিকারিক ও পুলিশ কর্মীদের জন্য এক বড় সতর্কবার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে।





