২০২৬-এর মহাযুদ্ধে এবার চরম হুঁশিয়ারি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের। দ্বিতীয় দফার বিধানসভা নির্বাচনের ঠিক প্রাক্কালে বাংলার মাটি থেকে বিরোধীদের (মূলত শাসকদল তৃণমূলের উদ্দেশে) কড়া বার্তা দিলেন তিনি। সোমবার ২৭ এপ্রিল, এক নির্বাচনী জনসভা থেকে শাহ স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, ভোটের দিন যদি কেউ কোনো রকম গোলমাল বা কারচুপির চেষ্টা করে, তবে তার ফল হবে অত্যন্ত ভয়াবহ।
“উল্টো ঝুলিয়ে সিধে করার দাওয়াই”
এদিন নিজের স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গিতেই আক্রমণাত্মক মেজাজে ধরা দেন শাহ। সভা থেকে তাঁর হুঙ্কার—
“দ্বিতীয় দফার ভোটে যদি কেউ ভোটারদের বাধা দেয় বা অশান্তি করতে হাত লাগায়, তবে মনে রাখবেন ৪ মে ফলাফল ঘোষণার পর তাদের জায়গা হবে জেলের অন্ধ কুঠুরিতে।”
এখানেই থামেননি তিনি। বাংলায় অতীতে তাঁর দেওয়া সেই বিতর্কিত কিন্তু চর্চিত সংলাপের পুনরাবৃত্তি করে তিনি বলেন, “অশান্তি করলে ফের উল্টো ঝুলিয়ে সিধে করে দেব।” অর্থাৎ, নির্বাচনের সময় কেন্দ্রীয় বাহিনীকে কাজে লাগিয়ে কড়া হাতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করার স্পষ্ট সংকেত দিলেন তিনি।
৪ মে-র দিকে নজর কেন?
২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশিত হবে আগামী ৪ মে। শাহের দাবি অনুযায়ী, ৪ মে-র পর বাংলায় রাজনৈতিক সমীকরণ বদলে যাবে এবং যারা এখন গায়ের জোরে ভোট লুট বা হিংসার রাজনীতি করছে, তারা প্রত্যেকে আইনের আওতায় আসবে। তাঁর কথায়, “আইন নিজের পথে চলবে এবং কোনো দুষ্কৃতী রেহাই পাবে না।”
দ্বিতীয় দফার আগে তপ্ত বাংলা
আগামী ২৯ এপ্রিল রাজ্যের ১৪২টি আসনে দ্বিতীয় দফার ভোটগ্রহণ। এই দফায় অনেক স্পর্শকাতর এলাকা রয়েছে। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এই চরম হুঁশিয়ারি কি ভোটারদের অভয় দেবে নাকি রাজনীতির ময়দানে উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে দেবে, তা নিয়ে শুরু হয়েছে জোর চর্চা।
বিজেপির অবস্থান: দলের দাবি, সাধারণ ভোটাররা যাতে নির্ভয়ে বুথে যেতে পারেন, সেই আত্মবিশ্বাস জোগাতেই এই কড়া বার্তা।
তৃণমূলের প্রতিক্রিয়া: শাসক শিবিরের পাল্টা অভিযোগ, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হওয়ার সুবাদে তিনি কেন্দ্রীয় এজেন্সিকে ভয় দেখিয়ে ভোটারদের প্রভাবিত করার চেষ্টা করছেন।
সম্পাদকের নোট: ভোটের আগে হেভিওয়েট নেতাদের এই ধরণের ‘থ্রেট পলিটিক্স’ বাংলার নির্বাচনে নতুন কিছু নয়। তবে শাহের এদিনের ‘জেলে ঢোকানো’ এবং ‘উল্টো ঝুলিয়ে সিধে করার’ মন্তব্য যে সোশ্যাল মিডিয়ায় আগুনের মতো ছড়িয়ে পড়বে, তা বলাই বাহুল্য।





