২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের দ্বিতীয় দফার ঠিক আগে রাজ্যজুড়ে নিরাপত্তার লৌহবর্ম তৈরি করল নির্বাচন কমিশন। ভোটের ঠিক ৩৬ ঘণ্টা আগে রাজ্যে চালানো এক নজিরবিহীন ‘সুপার ড্রাইভে’ গ্রেফতার ও আটক করা হয়েছে ১৫০০-র বেশি সন্দেহভাজন দুষ্কৃতী ও ‘গুণ্ডা’ তালিকার ব্যক্তিদের। সোমবার বিকেল থেকেই রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে পুলিশ ও আধাসেনার এই সাঁড়াশি অভিযান শুরু হয়েছে।
কী এই ‘সুপার ড্রাইভ’?
নির্বাচন কমিশনের নির্দেশে রাজ্য পুলিশের বিশেষ টাস্ক ফোর্স এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা একযোগে পাড়ায় পাড়ায় তল্লাশি চালায়। মূলত যারা ভোটের দিন বুথ দখল বা এলাকায় ভীতি প্রদর্শন করতে পারে, তাদের নামের তালিকা তৈরি করেই এই ধরপাকড় করা হয়েছে।
১৫৪২ জন আটক: শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত মোট ১৫৪২ জনকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। এদের মধ্যে অনেকের বিরুদ্ধেই পুরনো খুনের মামলা বা অস্ত্র আইনের মামলা ছিল।
স্পর্শকাতর এলাকায় নজর: উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনার স্পর্শকাতর অঞ্চলগুলো থেকে সবচেয়ে বেশি ‘ঝামেলাবাজ’ ধরা পড়েছে বলে কমিশন সূত্রে খবর।
নাকা চেকিং: প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে ও রাজ্য সীমান্তে ব্যারিকেড দিয়ে তল্লাশি চালানো হচ্ছে। ড্রোনের মাধ্যমেও নজরদারি চলছে কুখ্যাত ডেরাগুলোতে।
শান্তিপূর্ণ ভোট করাই লক্ষ্য
কমিশনের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, “শান্তিপূর্ণ এবং অবাধ নির্বাচনের স্বার্থে কোনো আপস করা হবে না। যারা অশান্তি পাকানোর চেষ্টা করবে, তাদের নির্বাচনের আগেই আটক করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।” এই বড় পদক্ষেপের ফলে সাধারণ ভোটারদের মধ্যে আত্মবিশ্বাস ফিরবে বলে মনে করছে প্রশাসন।
বিরোধীদের দাবি ও শাসকদলের প্রতিক্রিয়া
এই মেগা অভিযান নিয়ে রাজনৈতিক মহলেও শোরগোল শুরু হয়েছে:
বিরোধী শিবির: বিজেপি ও বাম-কংগ্রেস জোটের দাবি, “ধৃতদের অধিকাংশই শাসকদলের আশ্রিত দুষ্কৃতী। এদের আগে ধরলে রাজ্যে রক্তপাত কম হতো।”
তৃণমূল কংগ্রেস: শাসকদলের পালটা তোপ, “ভোটের মুখে তৃণমূল কর্মীদের মনোবল ভেঙে দিতেই অতি-সক্রিয়তা দেখাচ্ছে কমিশন।”
নিরাপত্তা আপডেট: ভোটের দিন অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে ১৫০০-র বেশি আটকের পাশাপাশি বিপুল পরিমাণ বেআইনি আগ্নেয়াস্ত্র ও তরল মাদকও উদ্ধার করেছে পুলিশ।
আগামী বুধবার (২৯ এপ্রিল) দ্বিতীয় দফার হাইভোল্টেজ ভোট। তার আগে এই ‘সুপার ড্রাইভ’ বাংলার ভোটবাক্সে এবং শান্তি-শৃঙ্খলায় কতটা প্রভাব ফেলে, এখন সেটাই দেখার।





