২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের দ্বিতীয় দফার ঠিক আগে উত্তপ্ত বঙ্গ রাজনীতি। আর ঠিক এই সময়েই ‘বাইক-বাহিনী’র দাপট রুখতে ঐতিহাসিক নির্দেশ দিল কলকাতা হাইকোর্ট। নির্বাচন কমিশনের জারি করা একগুচ্ছ বিধিনিষেধের ওপর শুনানি শেষে আজ আদালত স্পষ্ট করে দিল— ভোটের আগে ও পরে ঠিক কতক্ষণ এবং কীভাবে বাইক চালানো যাবে।
সোমবার (২৭ এপ্রিল) বিচারপতি শম্পা সরকার এবং বিচারপতি অজয় কুমার গুপ্তের ডিভিশন বেঞ্চ কমিশনের কড়া বিধিনিষেধে কিছুটা বদল আনলেও, ‘গ্রুপ রাইডিং’ বা দল বেঁধে বাইক চালানোর ওপর কড়া নিষেধাজ্ঞা জারি রেখেছে।
কখন ও কী কী করা যাবে না?
আদালতের নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী:
৪৮ ঘণ্টার নিষেধাজ্ঞা: ভোটের ৪৮ ঘণ্টা আগে থেকে কোনো রকম বাইক র্যালি বা দল বেঁধে (Group Riding) বাইক চালানো যাবে না। অর্থাৎ, আজ থেকেই এই নিয়ম কার্যকর হচ্ছে।
পিছনের সিটে বসা (Pillion Riding): ভোটের দিন (২৯ এপ্রিল) সকাল ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত জরুরি প্রয়োজন ছাড়া বাইকের পিছনে যাত্রী বসানো যাবে না।
বাইক নিয়ে ঘোরাঘুরি: যদি কেউ একা বাইক নিয়ে ব্যক্তিগত কাজে বা ‘হাওয়া খেতে’ বেরোতে চান, তবে তাতে কোনো আইনি বাধা নেই। কমিশন এ ক্ষেত্রে ব্যক্তিস্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করতে পারবে না।
কাদের জন্য ছাড় রয়েছে?
সাধারণ মানুষের ভোগান্তি এড়াতে হাইকোর্ট বেশ কিছু ক্ষেত্রে ছাড় দিয়েছে: ১. জরুরি পরিষেবা: ডাক্তার, নার্স বা রোগী নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই। ২. অফিস যাত্রী: সঠিক পরিচয়পত্র বা আই-কার্ড থাকলে অফিস যাত্রীদের আটকানো হবে না। ৩. ডেলিভারি বয়: জোম্যাটো, সুইগি, অ্যামাজন বা ফ্লিপকার্টের মতো ডেলিভারি পার্টনাররা এই নিষেধাজ্ঞার বাইরে থাকবেন। ৪. স্কুলের ছাত্রছাত্রী: শিশুদের স্কুল থেকে আনা-নেওয়ার ক্ষেত্রেও ছাড় দেওয়া হয়েছে।
কেন এই নির্দেশ?
নির্বাচন কমিশন নিরাপত্তার স্বার্থে রাতের বেলাও বাইক চালানো বন্ধের পক্ষপাতী ছিল। কিন্তু হাইকোর্টের পর্যবেক্ষণ হলো— “অবাধ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের নামে সাধারণ মানুষের ব্যক্তিস্বাধীনতা কেড়ে নেওয়া যায় না।” পর্যাপ্ত কেন্দ্রীয় বাহিনী ও সিসিটিভি থাকতে সাধারণ বাইক আরোহীদের হয়রানি না করার পরামর্শ দিয়েছে আদালত।
বিশেষ সতর্কবার্তা: দল বেঁধে বাইক নিয়ে কোনো রাজনৈতিক স্লোগান দিলে বা র্যালি করলে সাথে সাথে আইনি ব্যবস্থা নেবে পুলিশ। তাই আজ থেকেই সতর্ক থাকুন।
আগামী বুধবার (২৯ এপ্রিল) দ্বিতীয় দফার ভোট। তার আগে হাইকোর্টের এই ‘ব্যালেন্সড’ রায় সাধারণ ভোটারদের স্বস্তি দিল কি না, তা নিয়ে এখন সরগরম চায়ের দোকান থেকে সোশ্যাল মিডিয়া।





